Daily Sunshine

রাজশাহীর বাজারে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দ্বিগুণ দাম

Share

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। স্থানীয় খুচরা বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে হাত ঘুরে পাড়া-মহল্লার কোনকোন দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
এদিকে আজ থেকে বাজার তদারকি করতে মাঠে নামছে প্রশাসন। রাজশাহী মহানগরীসহ ৯টি উপজেলার প্রতিটিতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে স্থানীয় বাজার গুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
এদিকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা। ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বাজারে পেঁয়াজের তাৎখনিক সংকট না থাকলেও ইচ্ছে করেই দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে পাইকারী বিক্রেতাদের দাবি, ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বাজারে পণ্যটির চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তাৎখনিক সংকট দেখা দেয়ায় দাম বাড়েছে পেঁয়াজের।
রাজশাহীর সাহেববাজার কাঁচাবাজার, শালবাগান বাজার, নওদাপাড়া বাজার, বেলদারপাড়া, হড়গ্রামসহ স্থানীয় কাঁচাবাজারগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ১০০ টাকায়, আর আমদানী করা বা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। অথচ দুই দিন আগেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৭০ টাকায় আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকায়। তবে হাত ঘুরে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় আর ভারতীয়টা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়।
সাহেববাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: সাব্বু জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। আগে রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পেঁয়াজ সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে আমদানী করতো। তবে ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের সংগ্রহে থাকা পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে চিটাগাং থেকে মাল আনতে হবে। তখন যানবাহন খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হবে। সোনামসজিদ থেকে পেঁয়াজ আনতে যানবাহন খরচ হতো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মাত্র।
বণ্যার কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত হুট করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এসময় বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজি প্রতি ৩০০ টাকায়। এবারো ১৪ সেপ্টম্বর অনির্দিষ্ট কালের জন্য ভারত বিশ্ববাজারে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরের দিনই দেশের পাইকারী ও খুচরা বাজারে বাড়তে শুরু করে পণ্যটির দাম। ভারত অবশ্য এবছর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণ হিসেবে করোনা পরিস্থিতিকে দায়ী করেছে। সরকারি সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি ছিলো এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশটির ওইসব এলাকায় পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। আর তাই নিজেদের বাজারের চাহিদা পুরণ করতে দেশটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো।
বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রণালয়, বাণিজ্যমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, দেশের বাজারে পেঁয়াজের মোট চাহিদা ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় ১৮ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে সংরক্ষণের অভাবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিন টন (মোট উৎপাদনের ৩০শতাংশ) নষ্ট বা পচে যায়। এদিকে এই বছর ভারত থেকে এপর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানী করা হয়েছে ৮ লাখ মেট্রিক টন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম জানান, আগামীকাল থেকে (বুধবার) রাজশাহী নগরীর বাজারগুলোতে ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলেও থাকবে প্রশাসন। এসময় কোন ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেপ্টেম্বর ১৬
০৫:২৮ ২০২০

আরও খবর