Daily Sunshine

বাগমারা আ’লীগে এখন শান্তির সু-বাতাস

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সংঘাত ও হানাহানি বেড়েই চলেছে। ঠিক তখনি শান্তির সু-বাতাস বয়ে চলেছে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের মাঝে। এখানে নেই কোন গ্রুপিং লবিং। সবাই স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকে নেতৃত্বে ঐক্যবন্ধ। উপজেলা আওয়ামী লীলীগের তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের অথিকাংশই এখনও ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের প্রতি আস্থাশীল হওয়ায় দলের ঐক্য অটুট রয়েছে বলে নেতা কর্মীরা জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মী ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতের কারণে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থা এখন টালমাটাল। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির দুগ্রুপের সংঘাতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা কর্মী আহত হন। এ সময় সংঘাতে জড়ানো নেতা কর্মীরা প্রকাশ্যে রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে।
গত সোমবার ইশ্বরদীতে দুগ্রুপের সংঘাতে আহত হন ১২ জন, এর মধ্যে কয়েকজন ছুরিকাহত হন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পাবনার সুজানগরে জলাশয়ে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব দূর জেলার ঘটনা ছাড়াও অতি সম্প্রতি রাজশাহী জেলার দূর্গাপুরে দলীয় কোন্দলের জের ধরে বর্থিত সভা আহবান নিয়ে বর্তমান সাংসদ ডা. মুনছুর রহমান ও জেলা আওয়ামলী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার রানীনগরে আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এভাবে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে বিভিন্ন চাপা ক্ষোভ ও অষন্তোষের কারণে দলীয় কোন্দল ও সংঘাত যখন বেড়েই চেলেছে ঠিক তখনই বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তখন শান্তির সু-বাতাস ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে নেই কোন দলীয় কোন্দল হানাহানি। সবাই ঐক্যবন্ধ হয়ে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জননেতা ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের একক নেতৃত্বে ডিজিটাল ও মডেল বাগমারা রুপান্তরে কাজ করতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। দেশে করোনা সংকেট যখন ভয়ানক বিপর্যয় নেমে আসে তখনও ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে শক্ত হাতে হাল ধরেন।
উপজেলা আওয়ামলী লীগের একাধিক প্রবীন নেতৃবৃন্দের মতে, বিগত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় পর ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে অনেকেই বলির পাঁটা হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন। অনেকটা চালাকে কাঁঠাল খেয়ে বোকার গায়ে আঠা লাগানোর মত ইঞ্জিয়ার এনামুল হককে ব্যবহার করে রাতারাতি কোটিপোতি বনে যান যার দায় গিয়ে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার এনামুলের ঘাড়ে। পরে ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এ ধারা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। এরপর ইউপি নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকে একক কারিশমায় উপজেলা নির্বাচনসহ ১৬টি ইউনিয়নে ও ২টি পৌর নির্বাচনের প্রায় সবকটিতে আওয়ামী লীগের বিপুল জয় অর্জন করে।
এসব কারণেই দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের প্রতিপক্ষরা নানান গ্রুপিং লবিং শুরু করে। পরে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামলী লীগের তৎকালিণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর দা-কুড়াল সম্পর্ক শুরু হয়। শুধু বাগমারাতে ওই নির্বাচনকে কেন্ত্র করে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়।
এভাবে কতিপয় নেতার ষড়যন্ত্রে দলের অভ্যন্তরীন কোন্দল চরম আকার ধারন করলে দলীয় সিদ্ধান্তে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, যুগ্ম-সম্পাদক মাহাবুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া উদ্দিন টিপু ও যুবলীগ সভাপতি আব্দুস সালামসহ বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করেন।
দলের এ শীর্ষ নেতাদের আকর্ষিক বহিস্কারে সুপারিশ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, তারা আমাকে বোতলে তুলতে চেয়েছিল জ্বিনের মত। তারা চেয়েছিল দলীয় প্রতিপত্তি ব্যবহার করে যেনতেন উপায়ে টাকার পাহাড় গড়ে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি করতে। এাগে এতটা বুঝিনি। এখন কিছুটা উপলদ্ধি করায় তারা আমার বিরুদ্ধাচারন শুরু করেছে। দলের তৃণমূল পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকর্মীরা জানান, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক একান্তই সৎ মানুষ এবং দলীয় নেতা কর্মীসহ আপামর বাগামারাবাসীর প্রতি অত্যন্ত সহানুভুতিশীল।
দলীয় কিছু লোকের উচ্ছঙ্খল আচরণ ও অতি লোভের কারণে পদে পদে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হতে চলেছে। তারা সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার এমামুল হকের এপিএস থেকে বহিস্কৃত সাবেক শিবির নেতা মোল্লাহ আলতাফ হোসেন প্রসঙ্গে বলেন, এ ধুরন্ধর ব্যক্তির কারণেই ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের ব্যাপক মান ক্ষুন্ন হয়েছে। তবে তিনি ব্যাপারটি ধরতে পারলেন তবে তখন আর করার কিছুই নেই।
এভাবে নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দলে স্বার্থান্মেষী চাটুকার নেতা ও দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একাধকি কুচক্রি মহলের নানান ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরেন। ফলে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমক লাগিয়ে দেন।
এছাড়া তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলেই বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসহযোগি সংগঠনের একাধিক কাউন্সিল সুন্দর ও সুচারুরুপে সম্পন্ন হয়েছে কোন কোন্দল ও হানাহানি ছাড়া। এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওযামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা বীরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, বয়সে তরুণ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বল্পতার কারণে প্রথম প্রথম তাকে অনেকে ভাঙ্গিয়েছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করেছে। এখন তিনি অনেক অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়েছেন। এভাবে দক্ষতা অভিজ্ঞতা ও পরম মমতায় তিনি বাগমারাবাসীকে আগলে রেখেছেন। দলীয় নেতা কর্মীদের মতে ইঞ্জি এনামুল হক শুধু নিজ দল নয় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের সাথেও রেখেছেন সৌজন্যমূলক আচরণ। ফলে এখানে দলীয় হানাহানি নেই বললেই চলে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মতিউর হমান টুকু ও ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক একাধিক সিনিয়র নেতা কর্মীরা জানান, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকেরর কাছে কেউ অন্যায় করে পার পায় না। যতই কাছের নেতা হন না কেন অন্যায় করে তার কাছে সেল্টার পাওয়া যাবে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার আবুল বলেন, আমরা তৃণমূল থেকে তৃণমূলের মতামত নিয়ে সুষ্ঠ সুন্দর ভাবে দলীয় কমিটি গঠন করেছি। ত্যাগি নেতা কর্মীদের যথাযত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি । তাই দলে আজ এই শান্তির সু বাতাস। এ সবের কৃতৃত্ব ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের।
শুধু তাই নয় তিনি বাগমারার কোন অফিস আদালতে দলীয় কোন নেতা কর্মীর কোন দালালী বা তদবির বানিজ্য বিস্তার করার সুযোগ রাখেননি। এসব অনেক কারণেই বাগমারায় ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের একক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ শান্তির সু বাতাস বইছে।
ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, রক্তাক্ত জনপদে আজ এমনি এমনি শান্তি ফিরে আসেনি। এ জন্য অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে। বিবাদমান অনেক পক্ষকে নিয়ে বসতে হয়েছে দিনের পর দিন। আমি স্পষ্ট ভাবে সবাইকে বলে দিয়েছি অন্যায় করে আমার কাছে কেউ পার পাবে না সে যত বড়ই নেতা হোক না কেন। এর আগেও আপনারা একাধিক বার দেখেছেন আমার আত্মীয় স্বজন হোক দলীয় নেতা কর্মী হোক এমনকি আপন ভাইকেও আমি ছাড় দেই না যদি সে অন্যায় করে মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার করে। আমি কোন দল ব্যক্তি বা কারো প্রতি কোন বৈষম্য করি না। আপামর বাগমারাবাসী আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আমি তাদের সেবক। যতদিন বাঁচবো তাদের পাশে থাকবো।

সেপ্টেম্বর ১৬
০৫:১৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

শাহ্জাদা মিলন: বাংলাদেশের অন্যতম বিভাগীয় শহর রাজশাহী। সিল্কসিটি, আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সারা দেশে রাজশাহী। তবে এসব পরিচয় ছাপিয়ে রাজশাহী ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। অসংখ্য নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। এর সুফলে রাজশাহীতে বছর বছর বাড়তে ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা। তবে সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। রাজশাহীতে রয়েছে রাজশাহী

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত