Daily Sunshine

কৃষকের স্বপ্ন পচনে ম্লান

Share

আসাদুজ্জামান মিঠু: বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার দাম পেয়েছেন কৃষক। দাম পেয়ে চলতি মৌসুমে বেশ আগ্রহ বেড়েছে আমন চাষে। বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে চলছে আমনের ভরা মৌসুম। পুরো মাঠ এখন সবুজে সমাহার।
আমনের শুরু থেকে এবার অতি বৃষ্টি হয়েছে। উঁচু-নিচু জমিতে বেশি বৃষ্টি পেয়ে খুশি হয়েছিল বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা। মনে অনেক আশা জেগে উঠেছিল ধান নিয়ে। সবই ঠিকঠাক ছিল। কিন্ত মাঝামাঝি সময় এসে আমন ক্ষেতে গোড়া পচন রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দেয়াতে কৃষকের সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন হতে বসেছে। ক্ষেতে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পচন দমন করতে পারছেনা কৃষকেরা। এতে হাহাকার শুরু হয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে। ক্ষেতে পচন দুর করতে না পেরে আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
রাজশাহী জেলার কৃষকেরা বলছেন, এবার পচনসহ নানা ধরনের ব্যাধি ধরেছে আমন ক্ষেতে। একাধিক বার কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফল মিলছেনা। তাছাড়া বাজারে ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব বাজার। কৃষকেরা চিনতে পারছেনা। এতে কীটনাশক বেশি খরচ করে আমন উৎপাদন খরচ বেশি পড়ছে। কীটনাশক কিনে আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছে কৃষক। ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কাও আছে।
তবে, মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমনে পচন ও রোগ বালাইকে এবার অতি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমকে দায়ী করছেন। সেসাথে মাঠ এবার গুটি স্বর্ণা ও একান্ন জাতে ধান বেশি চাষ হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন তারা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বেশি আমন চাষাবাদ হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হচ্ছে আরো ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দর স্কুলপাড়া গ্রামের বিধবা হানুফা বেওয়া। দুই প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সংসারে আয়ের কোন উৎস নেই তার। স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র এক বিঘা জমি তার শেষ সম্বল। চলতি মৌসুমে তিনি একান্ন জানে ধান চাষ করেছেন। শুরুতে ভাল ছিল। কিন্ত মাঝামাঝি সময়ে এসে তার আমন ক্ষেতে গোড়াতে ব্যাপকভাবে পচন ধরেছে। শিষ না ফোটতেই গোড়া থেকে শুকনো খড়ের মত হয়ে গেছে। একাধিবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পচন দুর করতে পারেনি। ফলে তার আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি ইউরি মোত্তাজাপুর গ্রামের কৃষক জোনায়েত আলী। তিনি এবার ১৩ বিঘা জমিতে একান্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। তার ১৩ বিঘা জমিতেই পচন ধরেছে। দুইবার পচনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হয়নি। একই গ্রামের আরো অর্ধশত কৃষকের একই অবস্থা। আমন ক্ষেত নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পচন নিয়ে শুধু তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের বিধবা হানুফা বেওয়া ও গাদাগাড়ী উপজেলার মোত্তাজাপুর গ্রামের কৃষক জোনায়েত আলী দিশেহারা তা নয়।
চলতি মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী,তানোর, নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, মান্দা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল, রহনপুর এলাকায় হাজার হাজার কৃষক ক্ষেতে এবার গোড়া পচন রোগের প্রাদুভাব দেখা দিয়েছে। তবে অন্য পোকার আক্রমণ কীটনাশক প্রয়োগে সারলেও পচন সারছেনা। যার ফলে আমন নিয়ে অনেকটা হাহাকার পড়েছে এঅঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে।
তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী আমনে পচনসহ রোগ ব্যাধির কথা স্বাীকার করে বলেন, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি হয়েছে। অনেক নিচু জমিতে পানি বেশি জমে থাকায় পচন ধরেছে । এছাড়া মাঝে মধ্যে ভ্যাসপা গরমেও এমটা হয়ে থাকে। তবে পচন খুব বেশি ক্ষেতে ক্ষতি করতে পারবেনা। কৃষকদের ক্ষেতে সরেজমিন গিয়ে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কৃষকদের ক্ষেত দেখে ভাল মানের কীটনাশক দেয়া কথা বলে লিখিত পরামর্শ দেয়ার হচ্ছে। কিন্ত কৃষকেরা কীটনাশক কিনতে গিয়ে ডিলারদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক কেনছেন। এতে নিম্নমানের কীটনাশক ছিটিয়ে করে কোন ফল পাচ্ছেনা।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ শনিবার কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক, কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আমি কৃষকের আমন ক্ষেত পরিদর্শন করছি। আমনে রোগ বালাই বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৩
০৫:৩৪ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে মাস্তুল আকৃতির মজবুত দুইটি পোল। প্রতিটি পোলের উপর রিং বসিয়ে তার চতুরদিকে বসানো হয়েছে উচ্চমানের এলইডি লাইট। আর সেই লাইটের আলোয় আলোকিত বিস্তৃত এলাকা। শুধু শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর নয়, এভাবে মহানগরীর আরো গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি চত্বর আলোকিত হয় প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত