Daily Sunshine

যৌবনা পদ্মায় মানুষের কোলাহল

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : ভাদ্রে এসে যৌবনে ফিরেছে রাজশাহীর পদ্মা নদী। কতদিন আগে হাওয়ায় ঢেউয়ের নাচন ছিলো পদ্মার প্রবাহে তা প্রায় ভুলতেই বসেছিলো নদীপারের মানুষ। তবে এবার স্বরূপে ফিরে এসেছে এ নদী। এখন আবারো সেই যৌবনা পদ্মা। শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রে ফুলে-ফেপে উঠেছে এককালের যৌবনা প্রমত্তা পদ্মা। শরতের শুভ্র মেঘ আর সুর্য্যরে লুকোচুরিতে পদ্মা এবার দেখা দিয়েছে নিজস্ব রূপে।
দীর্ঘদিন পর পদ্মার বুকে এখন পালতোলা আর ইঞ্জিন চালিত নৌকার চলাচলে মনমুগ্ধকর দৃশ্য। যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে পড়া পদ্মাপাড়ের জেলে আর মাঝিরা। পদ্মা নদী দীর্ঘদিন পর আসল চেহারায় ফিরে আসায় একদিকে যেমন মানুষ পুলকিত নিগাঢ় নিস্বর্গের রূপে অন্যদিকে লোকে সরগরম প্রমত্তার প্রতিটি স্থান।
পদ্মার প্রেমে ছুটে আসে দূর-দূরান্তের বহু লোকজন। করোনায় গৃহবন্দী থেকে মুক্তি আর প্রখর গরমে বিরক্তির প্রহর এড়াতে সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন বিনোদনপ্রেমীরা। সেখানে উপচে পড়া ঢেউয়ে চোখ পড়তেই শরীর এবং মনের হাজারো ক্লান্তি আর অবসাদ মুহুর্তেই কোথায় যেন হারিয়ে যায়। প্রতিদিনই এখানে প্রায় লোকে লোকারণ্য থাকে কিন্তু ছুটির দিনে থাকে উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা এমন কি রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত। সেখানে নদী আর নিজের সাথে খেলায় মেতে উঠে দর্শনার্থীদের প্রাণ। পদ্মার হিমেল হাওয়ায় গা এলিয়ে পদ্মার গা ঘেঁসে বসে ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেন শতরঙের নতুন রূপে।
পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মার কূলে ফিরে এসেছে চির যৌবনার উচ্ছ্বাস। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায় পদ্মার রূপ দেখতে মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন নদীপারের বুলনপুর ঘাট থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের বেশী এলাকাজুড়ে। একদিকে যেমন মানুষ কোন টিকিট ছাড়াই বিনোদন নিতে এখানে আসছেন অন্যদিকে এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে কিছু ভাসমান ফুচকা, চটপটি, আচার, চা-ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দিতে বেছে নিয়েছেন মৌসুমী নৌকা ব্যবসা।
ব্যবসায়ীরা জানান, দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য রঙিন টুল, টেবিল, চেয়ার ও বেঞ্চের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে দর্শনার্থীরা আরামে বসে পছন্দের খাবার খেতে পারেন এবং আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এতে যেমন দর্শনার্থীরা বসে বসে পদ্মার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন অন্যদিকে তারাও জীবিকার চাকা সচল রাখতে পারছেন। দর্শনার্থীদের চাহিদা মত তাদের ব্যবসা জমিয়ে তুলে খুব ভালো সময় পার করছেন বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী।
পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা জানান, এবার মাঝবর্ষা থেকেই পদ্মা অনেকটাই আসল চেহারায় ফিরেছে। নৌকা চলছে স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, মাঝিরা চরম ব্যস্ত যাত্রী পারাপার নিয়ে। জেলেরাও মাছ ধরে জীবিকার উৎস খুজে পেয়েছে। নদীর স্রোতের কলকলানি শব্দ মনেও দোলা দিয়েছে। করোনার কারণে শুরু থেকে কোলাহল ছিলোনা তেমন। যেন একা হয়ে যাচ্ছিল পদ্মার ঢেউ। তবে লকডাউন তুলে দেওয়ার পর থেকে পদ্মা নদী পেয়েছে মানুষের সঙ্গ। ভ্রমনপিপাসু মানুষও তাই পদ্মায় এখন পুলকিত।
শুক্রবার নগরীর পদ্মাপাড়ে গিয়ে দেখা যায় সর্বত্র কোলাহল। কোথাও গা ঘেসা-ঘেসি করে পদ্মার যৌবনা রূপ দেখতে সব বয়সি মানুষের জটলা। নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ায় মাঝিদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে। এখন ভরা বর্ষায় পদ্মায় নৌকা ভাসছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনোদন প্রেমীরা ভীড় করছেন নদীর ঘাটে। দল বেঁধে ঘণ্টা চুক্তিতে নৌভ্রমণে বেরিয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ নৌকা ভ্রমণে যাচ্ছেন পরিবার পরিজন, আত্মিয়-স্বজন কিংবা মনের মত প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে স্রোতস্বিনী পদ্মার রূপ দেখতে।
স্থানীয়রা জানান, বছর ঘুরে আবারও যৌবনা হয়ে উঠেছে মরা পদ্মা। চঞ্চলা আর দূরন্ত হয়ে ছুটে চলছে উথাল-পাথাল ঢেউ। দিনে নদীর টলমল পানির মাঝে ছোট ছোট ঢেউ। তার ওপর নেচে বেড়াচ্ছে সূর্যের আলো। রাতের জোছনায় থৈ থৈ নদীর চারপাশ- বহুদিন পর ফিরে এসেছে উত্তাল রূপে পদ্মানদী। নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা উত্তরের শহর রাজশাহীর সব সৌন্দর্য যেনো সেখানেই। বছরের অধিকাংশ সময়ই বুকে বালুচর নিয়ে জেগে থাকে পদ্মা। বছরে একবার হলেও বর্ষায় প্রাণ ফিরে পায় এক সময়ের যৌবনা এই নদী। কোথাও আবার ঢেউকে উপেক্ষা করে মাথা চাড়া দিয়েছে শরতের সৌন্দর্য কাশফুলের ঝোপ। আর কয়েক দিন পরই হয়তো নজর কাড়বে পাগলা হাওয়ায় পদ্মার নীল জল আর শুভ্র কাশফুলের মিতালী।
এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রথম দিকেও পদ্মা ছিল খালের মতো। বৃষ্টি না হওয়ায় আষাঢ়েও পানি ছিল না। তবে শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকে পদ্মায় পানি আসতে শুরু করে। বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা ফিরে পায় তার যৌবন। আর এতেই খুশি রাজশাহীর পদ্মাতীরের মানুষগুলো।
এরইমধ্যে শরতের হাওয়ায় দুলছে পদ্মার ঢেউ। নগরীর বড়কুঠি ঘাটে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাইম বেনী ও শিরিন সুলতানা কেয়া বলেন, কেবল এ সময়টাতেই পদ্মায় পানি থাকে। অন্য সময় চর। তবে চরে বেড়ানোর চেয়ে নৌকা ভ্রমণের আনন্দ বেশি। তাই নির্মল বাতাসে নদীরবুকে নৌকায় বেড়ানোর জন্য তারা মাঝে মাঝেই দল বেঁধে আসেন পদ্মায়।
মাঝবয়সি এক মাঝি বলেন, নৌকার ভাড়া পেয়ে তার মত মৌসুমি মাঝিরা এখন খুশি। সকাল আর বিকেল এই দুই সময়ে বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। কেউ ঘণ্টা চুক্তিতে আবার কেউ জনপ্রতি ভাড়া দিয়ে নৌভ্রমণ করেন। এখানে কোনো ভাড়া নির্দিষ্ট নেই। যার কাছে যেমন পাওয়া যায়। মহানগরীর পদ্মাতীরবর্তী ফুদকিপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন জানান, কেবল বর্ষায় মৌসুমী জেলেরা পদ্মায় মাছ ধরেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমের প্রথম দিকে পানি না থাকায় তারা হতাশ হন। এবার শ্রাবণের শুরুতে নদীতে পানি আসায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
রাজশাহীর সবকিছুই যেন এখন পদ্মা নদীকে ঘিরে। গ্রীষ্ম, শীত, বর্ষা কিংবা শরৎ সব ঋতুতেই সব সময় পদ্মানদীকে ঘিরেই মানুষের আনাগোনা। পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে ব্যবসা বাণিজ্যও জমে উঠেছে। সারাদিন মানুষের আনাগোনায় মুখরিত নদীপাড়ে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্র। বুলনপুর এলাকায় বট গাছের নীচে এখন সারাক্ষন মানুষের জটলা। সেখান থেকে পেরিয়ে সামান্য এগুলেই চোখে পড়বে ‘টি-বাধ’। আরো একটু পরে ছোট পরিসরে পার্ক তৈরি করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবি। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বহির্নোঙ্গর’ আর ‘সীমান্তনোঙ্গর’ অবকাশ। হাল্কা সবধরনের খাবার আয়োজন রয়েছে এখানে। সেই সঙ্গে ছোট ছোট আমবাগানের ফাকে ফাকে বসার সুরম্য স্থান। রাতের আধারে রঙিন নিয়ন আলোয় আরো ফুটে উঠে এ স্পটের চেহারা। তাইতো প্রতিদিনই এই নয়নাভিরাম দৃশ্যের প্রেমে ছুটে আসছেন হাজারো বিনোদনপ্রেমীরা।

সেপ্টেম্বর ১২
০৬:০৩ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত