Daily Sunshine

বাঘায় জলবদ্ধতার দুর্ভোগে দু’হাজার পরিবার

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণের কারণে প্রায় দুই হাজার বাড়ির উঠানসহ চারপাশে পানি জমে আছে। এর ফলে গরু, ছাগল ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে বসবাস করছেন ভুক্তভুগি পরিবারসহ এলাকার লোকজন।
বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গত কয়েক বছর পুর্বে পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হলেও ভুল পরিকল্পনায় এর কোন সুফল পাচ্ছে না লোকজন। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পৌরবাসী।
সরেজমিন ঘুরে লক্ষ করা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। খোদ উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রবেশ মুখে এবং সাব-রেজিস্টি অফিসের সামনে জমে আছে হাটু পানি। এছাড়াও এ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতে পানি জমে আছে। আবার অনেকের ঘরের বারান্দা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সাপ আতঙ্কে নির্ঘম রাত কাটাচ্ছেন অনেকে।
বাঘা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাজুবাঘা নতুনপাড়া মহল্লা এবং আড়ানী পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের নিচু এলাকায় অধিকাংশ বাড়িতে পানি জমে আছে। এ সব এলাকার বাসিন্দা, আরজিনা, শকিনা, শাপলা, অমেলা, জিল্লুর, আমিনুল, হাকিম, হাসান, জব্বার, বাদশা, মান্নান, রফিকুল, মহির, সাহাব, রবিউল, আক্কাস, আফজাল, নাসির, জমসেদ, সলেমান, কায়েম, বাক্কার, শামসুল, আছিয়া, সালাম, কালাম, এনামুল, মধু, রিন্টু, দুলাল, নিখিল, কাজল, হুমায়ন, ছাপিয়া, আজিজুল, বুলবুল, আলিয়া, জয়নাল, আজাদুল, সুজন, হাজিরা, আহাদ, কুদ্দুস, মামুন আলী, আল-আমিন, কিবরিয়া, কাউছার, আকরাম ও হাফেজের বাড়িতে জলবদ্ধতায় উঠানে পানি জমে আছে।
এ বিষয়ে বাঘা পৌর সভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ৯টি গরু নিয়ে খুবই বেকায়দায় আছি। আমার বাড়ির উঠানে ও গরুর গোয়ালঘরে পানি জমে আছে। ফলে গরু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।অপর একজন আব্দুল হামিদ বলেন বাঘা পৌরসভায় তিন বছর আগে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সুফল পাইনি।
বাঘার পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক বলেন, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। তারপরও পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, বর্ষা শুরু হওয়ার কারণে কাজটা করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি বৃষ্টি কমলে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে উপজেলার মনিগ্রামের ভানুকর ও বাজুবাঘার নিশ্চিন্তপুর ও জোত সায়েস্তা এবং গড়গড়ি ও বাউসা এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িতে বর্ষণের পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে কোন সুরাহ হচ্ছে না বলে দাবি করেন ওইসব এলাকার সুধী মহল।
মনিগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হয় তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার অনেক বেশি বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে। এটি নিরসনের জন্য এ মুহুর্তে কোন বরাদ্দ নেই। তার পরেও যত দ্রুত সম্ভব পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার প্রতিটি এলাকায় পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করা হয়েছে। এ কারণে পানি নামতে না পেরে জলাবন্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় কর্তৃপক্ষকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রত্যেক বিলের বন্ধ করা মুখ খুলে দিলে এ জলাবদ্ধতার থেকে মুক্তি পাবে মানুষ।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বেশি পানি জমে থাকলে আমন চাষ করা কষ্টকর হবে। পানি নিস্কাশনের বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।

জুলাই ১৬
০৫:৫৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

রাজশাহীর রেশম শিল্পেও করোনার থাবা

রাজশাহীর রেশম শিল্পেও করোনার থাবা

স্টাফ রিপোর্টার : চলমান করনোকালে চরম অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহীর রেশম শিল্প। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে ধুঁকে ধুঁকে চলা এ শিল্পখাত আরো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত দুই মাসের লকডাউনে কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে সিল্কের তৈরি পোশাকখাত। এখন সিল্কের তৈরি পোশাকের শো-রুম খোলা থাকলেও বেচাবিক্রি নেমে এসেছে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় বেড়েছে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে ফাঁকা পদের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি চাকরিতে এখন তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে, যা মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলছেন, অগাস্ট মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসবে

বিস্তারিত