Daily Sunshine

নকল জীবাণুনাশকে বাজার ছয়লাব

Share

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাপি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশেও ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের মাধ্যে করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে। এরপর থেকে দিনে দিনে ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। মানুষও অদৃশ্য এ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা। যতদনি যাচ্ছে এর চাহিদা বাড়ছে। এতে করেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নকল পণ্য বাজারে আনছে। অনেক জায়গায় প্রমান মিলেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠে বার্নিশ করা স্পিরিট।
রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের বাজারগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরেই মিলছে না স্যাভলন ও ডেটল। পরিচিত কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেনা। এই সুযোগে বাজার ছেয়ে গেছে নকল জীবাণুনাশক পণ্যে।
রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি করেন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি হেক্সাসল ব্র্যান্ডের দুটি ৫০ মিলিলিটারের বোতল কিনেছিলেন ২৫০ টাকায়, যদিও বোতল দুটোর প্রকৃত মূল্য ছিল ৮০ টাকা।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগে পাড়ার মুদি দোকানেও স্যাভলন পাওয়া যেত। হেক্সাসলের মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাড়ির পাশে ছোট ওষুধের দোকানেই পাওয়া যেত। সপ্তাহে ২টা বিক্রি হতো কি না সন্দেহ। কিন্তু মার্চের ১০ তারিখের পর থেকেই যেন উধাও হয়ে যায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। একপর্যায়ে বাজারে কোনো ধরনের জীবাণুনাশকই পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে এখন রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন ফুটপাতে বসেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দোকান। নামে বেনামে এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে জীবাণুনাশক স্প্রে। কোনটাতে কোম্পানির নাম থাকে আবার কোনটাতে নেই। এসব পণ্য মানুষ কিনছে দেদারচে। এগুলো ব্যবহার করে মানুষ কতোটা জীবাণুমুক্ত হচ্ছে তাতে থেকে যায় প্রশ্ন। শুধু তাই না, অনেকে এসব ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত হচ্ছে বলে মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিপরীতে তাদের স্বাস্থ্য ও জীবন পড়ছে ঝুকির মুখে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রামন দেখা যাওয়ার পরে জীবাণুনাশক সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড রাব, জীবাণুনাশক লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক, বেবি ওয়াইপসেরও মতো পণ্যগুলোর চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাস্ক পড়া ও কিছুক্ষণ পরপর বিশ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর।
পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করে ফ্লোর পরিষ্কার এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে এ ধরনের লিকুইডও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন রাজশাহী সাহেববাজার এলাকার একজন দোকানদার লিটন মিয়া।
লিটন মিয়া বলেন, ‘আগে দিনে দুই-তিনটি স্যাভলন লিকুইড বিক্রি করতাম। করোনা আসার পর কিছুদিন কোম্পানি থেকেই কেউ আনতে পারেননি উৎপাদন কম থাকায়। গত দুই মাসে দিনে ৩০-৩৫টি করে বিক্রি করছি।
দেশের শীর্ষস্থানীয় যেসব কোম্পানি জীবাণুনাশক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে তার মধ্যে আছে স্কয়ার, এসিআই, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা, ক্লিনজেল, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ও অপসোনিন। এর মধ্যে এসিআইয়ের স্যাভলন বা হেক্সাসল এবং স্কয়ারের সেপনিল স্যানিটাইজারের বিক্রি বেড়েছে কয়েক শ গুণ।
স্কয়ার টয়লেট্রিজের একটি সূত্র জানায়, আগে যেটি তারা বছরে ১৫-২০ টন উৎপাদন ও বাজারজাত করতেন, এখন সেই পণ্য প্রতিদিন ৬০-৭০ টন বাজারে সরবরাহ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, হ্যান্ড ওয়াশের চাহিদা বেড়েছে চার-পাঁচ গুণ আর জীবাণুনাশক অন্য পণ্যগুলোর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।
বড় ও বিশ্বস্ত কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ি পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। সংকটের সুযোগে রাজশাহী মহানগরসহ আশেপাশের এলাকায় অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে নকল জীবাণুনাশক পণ্য। এসব জায়গাতে পুরো মাস জুড়েই নকল স্যানিটাইজারসহ নানা নিম্মমানের জীবাণুনাশক পণ্য বিক্রি হয়েছে ব্যাপক।
এদিকে আরো ভয়াঙ্কর সংবাদ হচ্ছে, করোনা মহামারিতেও বসে নেই অসাধু চক্র। যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে, সেখানেই সাধারণ জনগণের সর্বনাশ করে চলেছে তারা।
বারবার হাত ধোয়ার বিকল্প হিসেবে নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজারে তাই প্রচুর চাহিদা এই পণ্যটির।
খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে ২০০ মিলিলিটার স্যানিটাইজার ১৩০ টাকা দিয়ে কেনা প্রায় অসম্ভব, আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে অসাধু চক্র। বর্তমানে প্রায় সবখানেই ফেরি করে, ভ্যানে, ফুটপাতে বসে অনেকেই নামহীন কোম্পানির স্যানিটাইজার বিক্রি করছে। দাম কম হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ সেগুলোই কিনে ব্যবহার করছেন। প্রকৃতপক্ষে এগুলো স্যানিটাইজার নয়, বরং ক্ষতিকারক পদার্থ দিয়ে তৈরি।
শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে এতে স্যানিটাইজারের কোনো উপাদানই নেই। কেবল মিথাইল অ্যালকোহল বা কাঠের বার্নিশে ব্যবহারযোগ্য স্পিরিট দিয়ে বোতল ভরে রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার থেকে খোলাবাজারের ওই স্যানিটাইজারগুলোর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে যে ফলাফল আসে তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) বা সায়েন্সল্যাব থেকে ওই পরীক্ষাটি করান ইব্রাহীম কার্ডিয়ার সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট ডা. সাকলায়েন রাসেল।
তিনি জানান, বাজার থেকে মোট তিনটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংগ্রহ করে সায়েন্সল্যাবে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা করতে দিয়েছিলাম। এতে খোলাবাজার থেকে কেনা স্যানিটাইজার দু’টিতে ৯৩ দশমিক ০৪ শতাংশ মিথানলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বিসিএসআইআর। এটা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, স্যানিটাইজার তৈরির মূল উপাদান হলো ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল। খোলাবাজারের স্যানিটাইজার দু’টিতে ইথানলের কোনো উপস্থিতিই নেই। বরং মিথানল পাওয়া গেছে। এই মিথানল রংয়ে মেশানো হয়। কাঠে বার্নিশ করতে ব্যবহার করা হয়।
মিথানল ব্যবহারের কারণে অন্ধত্ব, পঙ্গু হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছরই শোনা যায়, ভেজাল মদ বা স্পিরিট খেয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই স্পিরিটই হচ্ছে মিথাইল অ্যালকোহল, যা ব্যাপক বিষাক্ত।

জুলাই ০৩
০৪:৩৩ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

দুই নেতার শীতল যুদ্ধে বিএনপিতে বিভক্তি!

দুই নেতার শীতল যুদ্ধে বিএনপিতে বিভক্তি!

সানশাইন ডেস্ক : দলে প্রভাব বিস্তার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিমুখিতা, প্রাত্যহিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতাসহ সাংগঠনিক দ্বন্দ্বে বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেতারা পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন শীতল যুদ্ধে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশ পাশ কাটিয়ে বিশেষ ক্ষমতাবলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নিজের মতো করে দলের

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

বিশেষ বিসিএসে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

বিশেষ বিসিএসে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

সানশাইন ডেস্ক : সংকট মোকাবিলায় নতুন করে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য বিসিএস নিয়োগবিধি সংশোধন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন করে বিশেষ

বিস্তারিত