Daily Sunshine

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উদ্যোগ নিতে হবে

Share

সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ
বর্তমানে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে ত্রাণ হিসেবে সরকার চাল দিচ্ছে। এ কারণে চালের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তার ওপর সরকারকে চাল সরবরাহ করার জন্য মিল মালিকদের বাড়তি প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে। ফলে তারা বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে চাল তৈরি করছেন এবং এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। ধানের দাম বেড়ে সরকারি-বেসরকারি দাম কাছাকাছি হয়ে যাওয়ায় সরকারি গুদামে সরবরাহের পরিবর্তে বাজারেই বোরো ধান বিক্রি করে ফেলছেন বেশিরভাগ কৃষক। ফলে উত্তরাঞ্চলে সরকারি ধান-চাল ও গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাড়া তো পাওয়া যাচ্ছেই না, বরং ধান-চাল-গম তথা খাদ্যশস্য সংগ্রহে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না।
উল্লেখ্য, সরকার প্রতি বছর খাদ্যশস্য সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, তার অর্ধেকের বেশি উত্তরাঞ্চল থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য থাকে। অথচ এবার দেখা যাচ্ছে, রাজশাহী বিভাগ থেকে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে যেখানে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টন, সেখানে ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭০১ টন। একই অবস্থা চাল-গমের বেলায়ও। সিদ্ধ ও আতব মিলে যেখানে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ টন, সেখানে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ২৫৯ টন। এ ছাড়া ৩০ হাজার ২২৩ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মার্চ মাস থেকে প্রায় তিন মাসে সংগ্রহ মাত্র ৬ হাজার ৩৪৫ টন। এভাবে চলতে থাকলে সরকার নির্ধারিত খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা যে পূরণ হবে না তা বলাই বাহুল্য। সরকারি খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করে থাকে এবং মহামারী পরিস্থিতিতে এটি আরও বাস্তব হয়ে দেখা দিতে পারে।
বলা হচ্ছে হাতে সময় আছে, সরকারি ও বাজারের দামে তেমন পার্থক্য না থাকায় কৃষক সরকারি গুদামমুখী হচ্ছে না। এজন্যই খাদ্যশস্য সংগ্রহে বিপর্যয়। মূলত এখন সরকারি দাম বাজারের দামের চেয়ে বেশি থাকার পরও কৃষক গুদামে না নিয়ে বাজারে চাল বিক্রির পেছনে আরও অনেক কারণ আছে। সেগুলো হচ্ছে- ভালো কৃষককে সুযোগ না দিয়ে সিন্ডিকেট করে মুনাফাভোগীদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, নানাভাবে হয়রানি, সময়মতো বিল পরিশোধ না করে দেরি করানো ইত্যাদি। সর্বোপরি, প্রক্রিয়াগত জটিলতা তো আছেই। ফলে একান্ত বাধ্য না হলে ভালো কৃষক সরকারি গুদামমুখী হয় না, অনেক ক্ষেত্রে হতে দেয়া হয় না। আমরা মনে করি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও দুর্যোগের সময় ইতিবাচক ফল পাওয়ার জন্য ভালো ও প্রকৃত কৃষককে মূল্যায়ন করা, ন্যায্য তো বটেই বাড়তি মূল্যে তাদের উৎপাদিত শস্য সংগ্রহ করা এবং সহজ পদ্ধতিতে সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া দরকার। তবেই কৃষক সরকারি গুদামমুখী হবে, অন্যথায় নয়।

জুন ১৬
০৩:০০ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

দুই নেতার শীতল যুদ্ধে বিএনপিতে বিভক্তি!

দুই নেতার শীতল যুদ্ধে বিএনপিতে বিভক্তি!

সানশাইন ডেস্ক : দলে প্রভাব বিস্তার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিমুখিতা, প্রাত্যহিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতাসহ সাংগঠনিক দ্বন্দ্বে বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেতারা পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন শীতল যুদ্ধে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশ পাশ কাটিয়ে বিশেষ ক্ষমতাবলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নিজের মতো করে দলের

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

বিশেষ বিসিএসে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

বিশেষ বিসিএসে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

সানশাইন ডেস্ক : সংকট মোকাবিলায় নতুন করে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য বিসিএস নিয়োগবিধি সংশোধন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন করে বিশেষ

বিস্তারিত