Daily Sunshine

চাঁদা দেয় শ্রমিক ভাগ্য বদলায় নেতার

Share

সম্প্রতি দেশে শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সারা বছর বিভিন্ন অজুহাতে বৈধ ও অবৈধ ভাবে শ্রমিকদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হলেও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তাদের দুর্দশায় সেই অর্থের হিসাব দিতে পারছে না কথিত শ্রমিক নেতারা। অবশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রাপ্ত খবর বলছে শুধু করোনা পরিস্থিতিই না, পূর্বেও শ্রমিকরা তাদের দেয়া চাঁদার সুফল সেভাবে পায় না। অথচ প্রতিদিন প্রকাশ্যে সড়ক থেকে কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। এমন অবস্থায় বিপুল অংকের সেই চাঁদার অর্থের সুফল শ্রমিকরা না পেলেও, কোন কোন পক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আধুনিক যুগে এসেও শ্রমিদের এমন দুর্দশা দেখে মনে হয় শ্রমিক সেজে তাদের মাঝেই বিরাজ করছে রক্ত চোষার দল। আর এ সকল রক্ত চোষাদের কারণেই শ্রমিকদের ভাগ্য আজো পরিবর্তন সম্ভব হয়নি।
শ্রমিকদের জন্য যে সকল সংগঠন আছে সেই সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ নামে শ্রমিক হলেও সময়ের বিবর্তনে একেক জন এখন কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শ্রমিক নেতারা চলে ফিরে বেড়ান কোটি টাকা দামের ব্যক্তিগত গাড়িতে। তাদের আলীশান জীবনযাপন দেখে শ্রমিকরাই প্রশ্ন করে ‘এই টাকা তাদের কাছে আসে কোথা থেকে’? ‘ওরাও কি শ্রমিক’?
পরিবহণ শ্রমিকদের নেতা নামধারি এসব মানুষগুলো নিজেদের পদ পদবী ধরে রাখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে চলেন। শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার একটি বড় অংশ গিয়ে পড়ে ওই সকল ক্ষমতাধরদেরও পকেটে। আর চুইয়ে পড়া তত্ত্বের মতো দুর্দীনে শ্রমিকদের ভাগ্যে জোটে দুই মাসে মাত্র আট কেজি চাল! এর পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শ্রমিকরা যখন এতোদিন তাদের দেয়া চাঁদার অর্থের হিসেব চাইতে যান, তখন তাদের মারধর করা হয়; সবশেষে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে গাড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়। এমন অবস্থায় নিজেদের দুর্দিন কাউকে পাশে না পেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে নিজ সংগঠনের দোরগোড়াতেই মারতে হয় সেই শ্রমিকেই। গত শুক্রবার রাজশাহীতে নিজেদের দেয়া চাঁদার হিসেব চাওয়া নিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের সৃষ্ট আন্দোলনে মৃত্যুবরণ করা সোহরাব আলীর (৩৫) গল্পটা এমনটাই জানান দিচ্ছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন থেকে বেকার জীবন পার করছে দেশের গণপরিহবণ সেক্টরের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ভাগ্যবিড়ম্বনায় অশিক্ষিত ও আধুনিকতা বিবর্জিত এই মানুষগুলো পরিবারের বোঝা সামলাতে গিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় টুকুও করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তবে তাদের দেয়া দৈনিক চাঁদায় ঠিকই ফুলে ফেঁপে উঠেছে কথিত শ্রমিক নেতা ও তাদের দোসররা।
শ্রমিকদের চাঁদার হিসেব নিয়ে সেই অর্থ শ্রমিকদের মাঝে সুষম ভাবে বন্টনের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে সরাসরি শ্রমিকদের পক্ষ নিতে হবে। কারণ অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ আসলে সেই পক্ষটিও বিপুল অংকেই এই অর্থের লোভ সামলাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েই যায়।

মে ১৮
০৫:০২ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত