Daily Sunshine

ভালবাসায় হলো বসন্তবরণ

Share

আসাদুজ্জামান নূর : শীতে অর্ধমৃত প্রকৃতি ও মানবমনকে বসন্ত এনে দেয় নতুন প্রাণ ও সজীবতা। তাই বসন্তকে ঘিরে বর্ণনার শেষ নেই কবিকূলের। কবিগুরুর কথায়- ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’, বিদ্রোহী কবির উচ্চারণে- ‘বসন্ত মুখর আজি, দক্ষিণ সমীরণে..’, আবার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কবিতায় প্রকৃতির বসন্ত রূপকে অবগাহন করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে- ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত’। কিন্তু সত্যিই ফুল ফুটেছে, আপন রঙে সেজে বসন্তও এসেছে। তবে এবছর বসন্ত যেন অন্যরকম। কারন ভালবাসা রাঙিয়েছে বসন্তকে। বসন্তবরণের সঙ্গে বিশ্ব ভালবাসা দিবস বা ভ্যালেনটাইন ডে পালন করেছেন দেশবাসী।
সারাদেশের মত পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষার নগরী খ্যাত রাজশাহীতেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্তবরণ ও পালন করা হয়েছে ভ্যালেনটাইন ডে। ভালোবাসা দিবসের আনন্দে মেতে ওঠেন নগরবাসী। বর্ণিল সাজে, নানা ঢঙে পালন করেছেন ভালবাসা দিবস। মেতেছেন বসন্তবরণে।
হলুদ, কমলা, বাসন্তি, লালসহ বর্ণিল রঙে ও ঢঙে সেজেছিলেন মানুষজন। সকাল থেকেই শহরের পথ-ঘাট, রেস্টুরেন্ট, পদ্মার পাড়, চিড়িয়াখানা, উদ্যান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে বসন্তবরণ ও ভালবাসা দিবস পালনের আয়োজন।
মাথায় ফুলের মুকুট আর বাহারী শাড়িতে ললনাদের রূপ-লাবণ্যে হারিয়েছে প্রেমিক হৃদয়। ফুল, উপহার সামগ্রী, ঘুরতে যাওয়া, হৃদয়ের কথা ব্যক্ত করার মাধ্যমে ভালবাসার প্রকাশ ঘটান তারা।
তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী রঙা সাজ পোশাকে, প্রাণের উচ্ছ্বাসে মিলনে-বিরহে মিলেমিশে একাহার হয়েছিলেন। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিনটিকে বরণ করে নিয়েছে রঙিন আয়োজনে।
গতকাল কোন অজুহাতেই ঘরে বসে থাকার সময় যেন ছিল না। ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় মনে মনে লেগেছিল দোলা। কবি সুফিয়া কামালের ভাষায়- “হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়/বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
এদিন সকালে দেশ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্তবরণ করেছে দেশসেরা রাজশাহী কলেজ। বসন্তকে সাড়ম্বরে বরণ করে নিতে দিনব্যাপী ক্যাম্পাসে চলেছে বর্ণিল অনুষ্ঠান।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে সকাল ১০টার দিকে বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর পিযূষকান্তি ফৌজদার, কলেজ পরিষদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেনসহ প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি নগরীর মনিচত্বর হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট দিয়ে কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে এসে শেষে হয়। পরে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ভবনের সামনে উৎসব মঞ্চে বসন্তবরণ কথন অনুষ্ঠিত হয়। কথন শেষে কলেজের সংগঠন অন্বেষণ এবং নৃত্য চর্চার আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জমজমাট এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন সবাই।
বসন্তকে নিয়ে বিভিন্ন গান ও নৃত্যের ছন্দে মঞ্চ মাতান শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশ শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়। কুষ্টিয়ার বাউল সঙ্গীত শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
বর্ণিল ও উপভোগ্য এই অনুষ্ঠান শুধু কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, উপভোগ করেন সর্বশ্রেণির মানুষজন।
রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রত্যেকটির সমান গুরুত্ব। বসন্তে নতুন উদ্যমে, নতুনভাবে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রতিবছরের ন্যায় শিক্ষার্থীদেরকে সৃজনশীল ও সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে রাজশাহী কলেজ এ বছরও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্তবরণ করেছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও, দিবসটি পালনের জন্য ব্যতিক্রমী আয়োজন রাখে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রাজশাহী কলেজ বাঁধন, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তদান কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শহরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে। কেউ এসেছেন একা, আবার কেউবা এসেছেন পরিবার পরিজন ও প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে। এসেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা।
পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা মনিষা শীল মৌ বলেন, পদ্মাপাড়ে এসে সকলের বর্ণিল সাজ ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখে মন ভরে গেছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভালোই লাগছে।
বেসরকারী চাকুরীজীবি মামুনুর রহমান বলেন, বসন্তবরণ ও ভালবাসা দিবসের আবদার মেটাতে এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা। দিনটি সরকারি ছুটি হওয়ায় অফিসের চাপ নেই। পরিবারের লোকজন নিয়ে খুব আনন্দ করছি।
বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর একই দিনে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিভিন্ন অঞ্চলের, নানা বয়সের মানুষজন ভিড় করছেন। আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি।
উল্লেখ্য, নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিনেই হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। আর বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুন ছিলো ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর একই দিনে পড়ছে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস।
শুধু এই দিন নয়, ১৯৭১ সালের কয়েকটি ঐতিহাসিক দিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি। যার ফলে ইংরেজি দিন ঠিক থাকলেও কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছে বাংলা মাসের তারিখ। নতুন এই বর্ষপঞ্জিতে জাতীয় দিবসের বাংলা তারিখ এখন থেকে একই থাকবে প্রতিবছর।

ফেব্রুয়ারি ১৫
০৪:৪৯ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

সানশাইন ডেস্ক : গোটা বিশ্বকে ভালোই ভুগিয়েছে ছোট্ট একটি জীবাণু। বিশ্বের নানা দেশ ও অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে এই ভাইরাস এখন অনেকটা সহনীয় হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, এখন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও তাদের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে না। আর এতেই আশার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে,

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় বেড়েছে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে ফাঁকা পদের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি চাকরিতে এখন তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে, যা মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলছেন, অগাস্ট মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসবে

বিস্তারিত