Daily Sunshine

তবুও স্বপ্ন দেখেন আকবর

Share

মাহবুব মোরসেদ : আকবর আলী। বয়স ৪৮ বছর। চার ভাই ও এক বোন। পিতা আব্দুল্লাহ। বাড়ী নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আই-হাই গ্রামে। বাবা-মা মারা গেছে অনেক আগে। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম এটি। কাজের সন্ধানে অনেক বছর আগে অন্য দেশে পাড়ি জমায় অন্য তিন ভাই, মোনতাজ, লতিফ ও বাবু। একমাত্র বোন মরিয়ম বিবাহ সূত্রে থেকে যায় এদেশে। আকবর আলী ইচ্ছা করলেই সহজে কোথাও যেতে পারে না। সব ধরনের কাজকর্ম করতেও পারে না।
কারণ প্রকৃতির খেয়ালে আকবর একজন প্রতিবন্ধী। তার উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। এই উচ্চতা হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনের প্রতিবন্ধকতা। গ্রাম থেকে চলে আসে সাপাহারে। কাজ নেয় একটি রেস্তোরায়। ২০ বছর আগে আকবরের বিয়ে ও হয় মোকতারের সাথে।
সামান্য উপার্জন দারিদ্যতা ও জরাজীর্ণ একটি মাথা গোজার ঠাঁই সর্বপরি আকবরের খর্বাকার শারিরিক গঠন পছন্দ হয়নি মোকতারার। এক বছরের মাথায় আকবরের জমানো দশ হাজার টাকা ও কিছু জিনিস নিয়ে আকবরকে ছেড়ে চলে যান মোকতারা।
আকবর গত ১৫ বছর থেকে আজো কাজ করে সাপাহারের আদি চাঁপাই হোটেলে। রেস্টুরেন্টের মালিক সোলেমান তাকে খুব ভালবাসেন। মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকায় রেস্টুরেন্ট’র এটো প্লেট, থালা, বাসন, গ্লাস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। চেয়ার টেবিল গুছিয়ে রাখে। মালিকের বধন্যতায় দোতালায় ছোট্ট একটি চিলেকোঠায় মাসিক ৪৫০ টাকা ভাড়ায় রাত্র যাপন করে। আবার কাক ডাকা ভোরে ওঠে কাজে যোগ দেয়।
দিন শেষে রাত্রী আসে রেস্টুরেন্টে আস্তে আস্তে লোক সমাগম কমতে থাকে। হাতের কাজ এখন শেষ হয়ে আসে। রেস্টুরেন্টের আগে দাড়িয়ে থাকা অটোরিক্সায় পা ঝুলিয়ে হুডে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে আকবর একাকী চুপচাপ কি যেন ভাবতে থাকে? তার জীবনের অতীত না বর্তমান?
আকবর আলীর একটি ব্যাংক একাউন্ট চলছে। তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে ২ শতাংশ জমি কিনেছে। তার এখন শেষ আশা অথবা স্বপ্ন একটি বাড়ী বানানো। একটি বাড়ী না থাকার জন্য তার স্ত্রী মোকতারা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। বাড়ী তৈরী হলে আবারও বিয়ে করে অন্যদের মত সংসার করবে। লাজুক হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে আকবর জামানো মনে মনে দুটি মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে। একটির উচ্চতা বেশী, অন্যটির উচ্চতা কম। সুযোগ হলে কম উচ্চতার মেয়েটিকে বউ হিসাবে গ্রহণ করবে।
আকবর আলী অন্যের উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। ঘরদোর গুছিয়ে রাখে। মুখ বুঝে কাজ করে। কারও সাথে-পাচে থাকে না। অনেক গ্রাহক বাঁকা চোখে দেখে হাসতে থাকে। এসব গায়ে মাখে না আকবর। এমনিতেই সকলে ভালোবাসে আকবরকে। এতকিছুর পরেও দেশ দুনিয়ার খবর রাখে আকবর।
কয়েক দিন আগে আকবর জানতে এসেছিলো সরকার নাকি গবীর মানুষদের, যাদের বাড়ি নেই, বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছে ? আবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশের গরীবদের ৬৮ হাজার বাড়ী বানিয়ে দেওয়া হবে ? তারতো ২ শতাংশ জমি আছে সে কি একটি বাড়ী পেতে পারে?
আকবর জানেনা কতদিনে সে একটি বাড়ী তৈরী করতে পারবে? কত দিনে স্বপ্ন পূরণ হবে? কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ছল ছল করতে থাকে আকবরের। চোখের পানি আটকাতে বৃথা চেষ্টায় তাকিয়ে থাকে দুর সীমানায়। কি ভাবছে আকবর আলী? আগামী সোনালী দিনের প্রত্যাশায় নাকি মোকতরার একটি বাড়ীর জন্য ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকা?

জানুয়ারি ২৬
০৫:২৫ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত