Daily Sunshine

আত্মহত্যা না, হত্যা স্ত্রী জুলেখার পরকিয়া সন্দেহের নতুন মোড়

Share

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ঝুম বৃষ্টির সন্ধ্যায় হঠাৎ একটি সংবাদে রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের পূজাতলা গ্রামে শোক নামে। ওই গ্রামের শরিফ নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মানুষ সন্দেহ কাটে না। বিশেষ করে নিহত যুবক শরিফের পিতা হাবিবুর রহমানের। এরমধ্যেই শরিফের স্ত্রী জুলেখার পরকিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। এতে ঘটনাটি আরো বেশি সন্দেহের মধ্যে পড়ে। হাবিবুর রহমানের দাবি, ছেলের বউয়ের পরকিয়ার কারণেই হত্যার শিকার হয়েছেন তার ছেলে শরিফ। হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরও করেছেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে নিহত শরিফের স্ত্রী জুলেখা ও তার প্রেমিক হাবিবুরকে।
হাবিবুর রহমান দাবি করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি ছিলেন না। প্রতিবেশী সৈবুর রহমান তাকে জানায় যে আমার ছেলে শরিফ গলায় ওড়ান পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সংবাদ শুনে আমি ছুটে যাই বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই শরিফ বাড়ির শয়ন কক্ষে মেঝেতে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। অন্য সদস্যরা উচ্চস্বরে কাঁদছে।
হাবিবুর রহমান আরো বলেন, আমি ওই সময় ছেলের বউ জুলেখাকে জিজ্ঞাসা করি যে কিভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন ছেলের বউ জানান যে, সাংসারিক সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরিফ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ছেলের মৃত্যুতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। পরের দিন ২৫ অক্টোবর শরিফের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ২৬ অক্টোবর দুপুরের শরিফের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার কথা। কিন্তু আমার ছেলের লাশ মেঝেতে শোয়া অবস্থায় ছিল। এলাকাবাসীর কেউ লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দ্যাখেনি। এতেই সন্দেহ হয় যে বিষয়টি আত্মহত্যা নয়, হত্যা।
বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয় শরিফের স্ত্রী জুলেখার পরকিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠলে। জুলেখার বাবার বাড়ি মাটিকাটা কসাইপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে হাবিবুরের সঙ্গে জুলেখার পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। শরিফ একসময় তার স্ত্রীকে নিয়ে তার শ^শুরবাড়ির এলাকায় থাকতেন। ঠিক সেই সময় জুলেখা ও হাবিবুরের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। শরিফ তার শ^শুরবাড়ি এলাকায় থাকার সময় মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। জুলেখার পরিবারও মাদকের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে থাকার এক পর্যায়ে মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়লে শরিফ পরিবার নিয়ে ফিরে আসেন পূজাতলা গ্রামে।
হাবিবুর রহমান জানান, মামলার প্রথম স্বাক্ষী শহিদুল হচ্ছে তার ভাইরা সাইদুর রহমানের ছেলে। শহিদুলের বাড়িও জুলেখার সঙ্গে পরকিয়ার সম্পর্ক থাকা হাবিবুরদের বাড়ির পাশেই। তার ছেলে যেদিন নিহত হয় তার দুই দিন আগে হাবিবুরের স্ত্রী লতা শহিদুলকে ডেকে মোবাইলে জুলেখা ও হাবিবুরের বেশকিছু আপত্তিকর ছবি দেখায়। ওইসময় লতা শহিদুলের কাছে অভিযোগ করেন যে, জুলেখা তার সংসার ভাঙছে। শহিদুল কৌশলে ছবিগুলো তার মোবাইলে পার করে নেন। এ ঘটনার দুই দিন পরেই শরিফ নিহত হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রামে ফিরে আসার পরে জুলেখার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠে। প্রায় সময় হাবিবুরও তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা শুরু করেন। এমন কি শরিফ নিহত হওয়ার পরে জুলেখা ও হাবিবুর এলাকা ছেড়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, তারা দুই জনে এখন একসঙ্গে থাকে। তবে কোথায় থাকেন এ বিষয়ে জুলেখার পরিবার মুখে খোলে না।
তিনি দাবি করেন, জুলেখা ও হাবিবুরের পরকিয়ার কারণেই খুন হয়ে তার ছেলে শরিফ। তাদের পরকিয়ার বিষয়টি তার ছেলে শরিফ দেখে ফেললে কৌশলে খুন করে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

জানুয়ারি ২১
০৪:৩৭ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

সাহস সংগ্রাম নেতৃত্বে অবিচল

সাহস সংগ্রাম নেতৃত্বে অবিচল

সানশাইন ডেস্ক : মহামারি কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা। বৈশ্বিক এ মহামারির নিদারুণ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। অথচ এমন ঘোর অমানিশার মাঝেও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন তিনি। তিনি-ই সম্প্রতি রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়ার খবর দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মহামারিকালে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সানশাইন ডেস্ক : রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা

বিস্তারিত