Daily Sunshine

দুষণের শিকার তুলশীগঙ্গা

Share

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর পানি বছর বছর দুষিত হওয়াতে নদী দু’টির মাছসহ জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব পড়ে। চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবী আগামী মৌসুম থেকে আর হবে না পানি দুষণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের প্রথম দিকে শত শত সব বয়সী লোকজন শীতকে উপেক্ষা করে নদীর পানিতে ভাসমান মাছ শিকার করছেন। মাছ আহরণ কারীদের কাছ থেকে জানা গেল, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নদীর মাছ জেগে ওঠেছে। পানির উপরে অলস ভাবে চলাচল করছে নানা প্রজাতীর দেশীয় মাছ। মৃতপ্রায় মাছগুলো ধরছেন ছেলে মেয়ে সহ সকলে।
এ অবস্থার দু’দিনের মধ্যে মাছ সহ অন্যান্য নানা প্রকার উপকারী প্রাণীজ সম্পদ মরে বিলুপ্ত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে ক্রমান্বয়ে নদী দুটির মাছ বিলুপ্ত হতে হতে তুলশী গংগা নদীর বিষাক্ত পানি এখন নঁওগা জেলার মধ্যে ছোট যমুনায় মিলিত হচ্ছে। সেখানেও শুরু হয়েছে মাছ সহ জীববৈচিত্রের অপুরনীয় ক্ষতিসাধন।
যুগ যুগ ধরে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার সর্ব সাধারণ নদী দুষনের জন্য জয়পুরহাট চিনি কলের নির্গত পানিকে দায়ী করেন। তারা বলেন জয়পুরহাট চিনি কলে আখ মাড়াই শুরু করার ৪-৫ দিনের মধ্যে দুষিত বর্জ ও পানি জয়পুরহাট চিনি কল থেকে ড্রেনের মাধ্যমে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দেবীপুরও তেঘর মৌজার দক্ষিণে ছিরি নদীর সাথে মিশে (শ্রী নদী বা ছোট নদী ) আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের গঙ্গা প্রসাদ মৌজা থেকে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে আক্কেলপুর পৌর সভার মকিমপুর মৌজার সোনামুখী নতুন ব্রীজের কাছে তুলশী গঙ্গা নদীর সাথে মিলিত হয়ে ক্রমান্বয়ে নঁওগা সদরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান ছোট যমুনা নদীতে মিলিত হয়। মিলিত স্থান থেকে ক্রমান্বয়ে ভাটির দিকে জয়পুরহাট চিনি কলের সেই দুষিত পানি সর্ব সাধারণের সর্বনাশ করতে করতে আত্রাই অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
পিছনে পিছনে শুরু হয় পানির রং বদলানো ও দুগর্ন্ধ ছড়ানোর পালা। পানি দেখলে যে কেউ আঁতকে ওঠবে পানি কি ভাবে এমন কালো এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে? সেই পানি রবিশষ্যর ক্ষেতে সেচ দিলে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। যারা গোসল ও ঘড়গৃহস্থালীর কাজে ওই নদীর পানি ব্যবহার করত তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বেড়ে গেছে ভু-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার।
প্রবাহিত জলধারার অনেক স্থানে বিশেষ করে জামালগঞ্জ পাঁচ মাথায়, ভালকি বিলের খারির বিভিন্ন স্থানে পল্ট্রি ও ডিম উৎপাদন খামারের বর্জ্য সরাসরি পানিতে ফেলার সুনিদ্দিষ্ট প্রমান অনেক স্থানে দেখ্ াগেছে। সর্ব সাধারণের দাবী নদীর পানি বিগত দিনেও দুষিত হয়েছে। চলতি সময়েও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নদীর মাছ থেকে শুরু করে পানিতে বসবাসরত অন্যান্য জীবের জীবানাবশেষ হয়েছে এবং হচ্ছে। নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমন পানি দুষণের ঘটনা যারাই ঘটিয়ে থাকুক না কেন তাদেরকে আইন আমালে আনা এবং নদী দুষণ বন্ধে জরুরী পদক্ষেপ সংশ্লিষ্টরা গ্রহন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এ অঞ্চলের নদী পাড়ের সকলে।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নদী দুষণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জাকিউল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তুলশী গঙ্গা নদীর পানি দুষণের কারণ নিরপণ করতে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরকে দুষিত পানির নমুনা স্রংগহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
জয়পুরহাট চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন আকন্দ জানান, জয়পুরহাট চিনি কলের নির্গত পানি কোন জীবকে ধংস করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে তা ড্রেনে ছেড়ে দেই। সে পানিতে কোন ক্ষতিকারক পদার্থের অস্তিত্ব নাই।
নদীর পানি দুষণ হয়ে থাকে সাধারণত বিভিন্ন পল্ট্রি শিল্পের বর্জ্য ও বিভিন্ন যানবাহন মেরামত কারখানার নির্গত দুষিত ও তৈলাক্ত পানি ওই জলাধারে মিশ্রিত হবার সুবাদে এমনটাই ঘটে থাকে। জয়পুরহাট চিনি কল ইতমধ্যে মিলের নিশৃত পানি পরিশোধিত এবং ওই দুটি নদীতে সরাসরি না ফেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

জানুয়ারি ১৬
০৪:৪৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

সানশাইন ডেস্ক : গোটা বিশ্বকে ভালোই ভুগিয়েছে ছোট্ট একটি জীবাণু। বিশ্বের নানা দেশ ও অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে এই ভাইরাস এখন অনেকটা সহনীয় হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, এখন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও তাদের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে না। আর এতেই আশার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে,

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় বেড়েছে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে ফাঁকা পদের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি চাকরিতে এখন তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে, যা মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলছেন, অগাস্ট মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসবে

বিস্তারিত