Daily Sunshine

রঙিন বেলুন, মলিন মুখ

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : জীবন ও জীবিকা একই সরল রেখায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। জীবিকার চাকা চলমান রাখতে কেউ বড় তো কেউ ছোট্ট পরিসরে বিভিন্ন পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। আবার কেউ শুধুই জীবন ধারনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে এ কাজের জন্য কেই বড় হয়ে আবার কেউ ছোট্ট বেলাতেই বাস্তব জীবনের পথ পাড়ি দিতেই ধরছেন জীবন গাড়ির হ্যান্ডেল। এমনই এক জীবন সংগ্রামী শিশু আল-আমিন (১২)।
এই বয়সে যার বাবা-মা’র আদর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার কথা। ভালো স্কুলে পড়াশোনা করার কথা। বিকেল হলেই খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা কিন্তু আল-আমিনের জীবনের গল্পটা একটু আলাদা। সে এই বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে অনুভব করতে পেরেছে। সে শিখে গেছে কিভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়তই জীবনের সাথে লড়াই করতে হয়! জীবন পরিচালনার জন্য এই ছোট্ট বয়সেই সে বেছে নিয়েছে বেলুন বিক্রির কাজ। লাল-নীল, হলুদসহ বাহারী রঙের ছোট ছোট বেলুনগুচ্ছ বিক্রি করেই সংসারের হাল ধরছেন ছোট্ট আল-আমিন। বেলুনে ভরা একরাশ স্বপ্ন থাকলেও মলিন মুখ আল-আমিনের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট এলাকায় আরডিএ মার্কেটের সামনে কথা হয় আল-আমিনের সাথে। পৌষের এই হাড় কাপানো শীতেও দেখা যায় তার শরীরে একটি মাত্র পাতলা হুডি পরা। হালকা পাতলা শরীরে শ্যামলা চেহারায় যেন মলিনতার ছাপ। তার এ মলিন চেহারার মায়ায় পড়ে যাবে যে কেউই। কেউ একবার ভালো করে তার দিকে তাকালেই বুঝে যাবে তার চোখের ভাষা। বুঝবে তার স্বচ্ছ চোখের আড়ালে লুকানো শত আবেগে ভরা কষ্ট আর যন্ত্রণা। তার পরেও এসব কষ্ট আর যন্ত্রনাকে তুচ্ছ করে হাসির মাঝে হারিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বেলুনগুলো ফেরি করে বিক্রি করছে। এক হাতের বেলুনগুচ্ছ থেকে একটি বেলুনষ্টিক নিয়ে অন্যদের সামনে হাত বাড়িয়ে বলছে ‘বেলুন নিবেন…..বেলুন?’ মাত্র দশ টাকা দাম..!
আল-আমিনের বাস নগরীর ভদ্রা বস্তিতে। তার বাবা এনামুল হক রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। মা ছোট বেলাতেই বাসা বাঁধে অন্য কারো নীড়ে। এ কারনে মায়ের ভালোবাসার স্বাদ পায়নি ছোট্ট আল-আমিন। বড় ভাই রাশিদুল পেশায় অটোচালক। বড় বোন রাজকুরনী স্থানীয় বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ কি সপ্তম শেণীতে পড়ে তা ঠিক করে বলতেও পরছে না সে। এছাড়াও সংসারে তার নানীও থাকেন বলে জানায় আল-আমিন।
আল-আমিন জানায়, তার দাদার বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায়। আর কিছু জানে না সে। সেখানে কখনো যাওয়াও হয়নি তার। ছোটবেলা থেকেই সে এই বস্তিতেই বড় হয়েছে। মা মাঝে মাঝে আসলেও তাকে দেখাশোনা জন্য সময় নেই তার। বাবা, নানী, ভাই-বোনসহ বস্তির কিছু বন্ধুদের নিয়েই তার জগৎ। সে বস্তি পরিবেশে বড় হলেও আচরণ এবং কথাবার্তায় ভদ্রতা দেখা যায়।
আল-আমিন জানায়, সে নামো ভদ্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়টা তার বিদ্যালয়েই কাটে। তারপর বাসায় ফিরে খাওয়া শেষে বেরিয়ে পড়ে আবার রঙের বেলুন বিক্রি করতে। এ জন্য কখনো আরডিএ মার্কেট, কখনো নিউ মার্কেট, জিরো পয়েন্ট, পদ্মাপাড়, লক্ষীপুর, জিয়া পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ যেখানে লোক সমাগম বেশি হয় সেখানেই ছুটে যায় সে।
সে নিজেই বাজার থেকে বেলুন, ষ্টিক, রাবার এসব কিনে বাসায় তৈরী করে এই বেলুনগুচ্ছ। তার পর বিক্রির জন্য বেরিয়ে পড়ে বেলুন ফুলের ফেরিওয়ালা হিসেবে। বেলুনের সাথে নিজের কষ্টগুলোকেও বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাঁসি ফোটাতেই ব্যস্ত সে। এতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যা আয় হয় তা দিয়েই আল-আমিন হাল ধরে জীবন নামের ছোট্ট সংসারের।

জানুয়ারি ১০
০৫:৪১ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আসাদুজ্জামান নূর : ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি নেশা ছিল জুবাইদা খাতুন তন্বীর। ক্লাসের ফাঁকে, মন খারাপ থাকলে বা বোরিং লাগলে ছবি আঁকতেন তিনি। কারও ঘরের ওয়ালমেট, পরনের বাহারি পোশাক ইত্যাদি দেখেই এঁকে ফেলতেন হুবহু। এই আঁকাআঁকির প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েই হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তুলির খোঁচায় পরিধেয় পোশাকে বাহারি নকশা, ছবি, ফুল

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

সানশাইন ডেস্ক : সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হয়। এরপর অবসরের বয়স বাড়ানো হলেও প্রবেশের বয়স আর বাড়েনি। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া, সেশনজট, নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি

বিস্তারিত