Daily Sunshine

এক অদম্য সাফিউলের গল্প

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি: টিনের খুপরি ঘরে বসবাস করেই দারিদ্র্যতাকে পেছনে ফেলে অদম্য মেধাবী সাফিউল এবার মেধা তালিকায় সুযোগ পেয়েছে মেডিক্যাল কলেজে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে মেধা তালিকায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছে । স্কুল-কলেজে পড়া অবস্থায় ছুটির ফাঁকে হোটেলের কাজ করেও পড়ালিখা চালিয়ে সব দারিদ্র্য জয় করা এ ছাত্রের পুরো নাম সাফিউল ইসলাম। তবে আর্থিক দৈন্যতায় তার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে শাফিউল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাফিউলের বাবা থেকেও নেই। বাবা রহিদুল ইসলাম স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে অন্যের সঙ্গে সংসার পেতেছেন। খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেন না। মায়ের কাছেই রাজশাহী শহরের আমবাগান এলাকায় একটি টিনের ঘরে বসবাস করে সাফিউল। মা বিভিন্ন ছাত্রমেসে ও অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে খেয়ে না খেয়ে ছেলে সাফিউল আর মেয়ে তাসলিমাকে পড়ালিখা শিখাচ্ছেন। তাসলিমাও মেধাবী। সে এখন নগরীর উপশহর হাউজিং এস্টেট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।
সাফিউলদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার নিভৃত গ্রাম মশিদপুরে। ছোট থেকেই মেধাবী সাফিউল প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়ার পর রাজশাহী নগরীতে মায়ের সঙ্গে এসে নবমশ্রেনীতে ভর্তি হয় মসজিদ মিশন একাডেমিতে। এরপর এসএসসিতে একই স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং নগরীর নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। সাফিউল এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পাওয়ায় সে এখন মেডিক্যাল কলেজে পড়ে ভালো চিকিৎসক হতে আগ্রহী। তবে আর্থিক দৈন্যতায় তার ভর্তি হওয়া হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে সাফিউল ও তার ফাতেমা বিবি। এরআগে গ্রামের মশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালিখা করে।
সোমবার কথা হয় অদম্য সাফিউল ও তার মায়ের সঙ্গে। সে জানায়, মায়ের আগ্রহ ও গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতির আর্থিক সহায়তা ছাড়াও নিজে হোটেল বয়য়ের কাজ করে পড়ালিখা চালিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে সে। ঢাকায় ভর্তি হয়ে কোথায় থাকবে, কোথায় খাবে এ নিয়ে এখন সে চিন্তিত। সে বলে, মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতির সহযোগীতা ছাড়া কোনেভাবেই এ পর্যন্ত আসা তার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এ জন্য সে ওই সমিতির কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।
তার মা ফাতেমা জানান, ছেলে ও মেয়েকে পড়ালেখা শিখিয়ে বড় কতে তোলায় তার ইচ্ছে। এ জন্য রাতদিন কখনো মেসে আবার কখনো বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করছেন তিনি। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, স্বামী রহিদুল ইসলাম অনেক আগেই তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অন্যের সঙ্গে সংসার পেতেছেন। কখনো রিক্সা চালিয়ে আবার কখনো ছোটখাটো ব্যবসা করলেও ছেলে মেয়েদের কেনো খোঁজ রাখেন না। ১৯শ’ টাকায় ছোট একটি টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানেই ছেলে মেয়ে ও তিনি বসবাস করেন। পড়ালিখার পরিবেশ না পেলেও তার ছেলে মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এতে তিনি আনন্দিত হলেও পড়ানোর খরচ কেমন করে যোগান দিবেন এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। তারপরেও তার ইচ্ছে ছেলেকে বড় করে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তার আশা ছেলে একদিন তার সব অভাব দুর করবে।
মান্দার মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী কলেজয়িট স্কুলের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অদম্য মেধাবী সাফিউল ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, পড়লিখায় মনোযোগী। এ কারনে সমিতির পক্ষ থেকে ও কখনো নিজে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। সে এবার ঢাবি ছাড়াও সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছে। সে ‘আধার ঘরের মানিক’ এখন। তারা আগামীতেও তাকে সহযোগীতা দিয়ে যাবেন বলে জানান আবদুর রাজ্জাক। তার স্বপ্ন পূরনে তিনি পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি।
সাফিউল বলেন, আগামী ১৬ থেকে ২৮ নবেম্বরের মধ্যে ভর্তির তারিখ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। এরপর ঢাকায় থাকা নিয়েও সে শঙ্কায় রয়েছে। তার মা ছেলের আগামী ভবিষ্যত গড়তে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

নভেম্বর ০৬
০৪:২৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

শীঘ্রই শেষ হচ্ছে করোনার প্রকোপ!

সানশাইন ডেস্ক : গোটা বিশ্বকে ভালোই ভুগিয়েছে ছোট্ট একটি জীবাণু। বিশ্বের নানা দেশ ও অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে এই ভাইরাস এখন অনেকটা সহনীয় হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, এখন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও তাদের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে না। আর এতেই আশার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে,

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সরকারি চাকরিতে আরও বেড়েছে ফাঁকা পদ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় বেড়েছে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে ফাঁকা পদের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি চাকরিতে এখন তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে, যা মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলছেন, অগাস্ট মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসবে

বিস্তারিত