সর্বশেষ সংবাদ :

১৬ আইনজীবীর লাইসেন্স স্থগিত

রাজশাহী বার সমিতির কোটি টাকা আত্মসাৎ
স্টাফ রিপোর্টার: বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহী আইনজীবী বার সমিতির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬ আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর বার সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভার শুরুতে বার সমিতির সাধারন সম্পাদক অভিযুক্ত ১৬ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও তাদের প্রদত্ত জবাব পড়ে শোনান। পরে সাধারণ সভায় উপস্থিত আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি লোকমান আলী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩৭ ধারার বিধান মতে অভিযুক্ত ১৬ জনের শাস্তি ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত আইনজীবীরা হলেন, রাজশাহী বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও কল্যান তহবিল স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, এডভোকেট মোজাম্মেল হক। সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আলী-মাইনুল আহসান (পান্না), আফতাবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ তহবিল) পারভেজ তৌফিক জাহেদী, এডভোকেট. জানে আলম, সানোয়ার কবির খান ঈশা, হাবিবুর রহমান-৩, সাবেক সম্পাদক (হিসাব) শামসুল হক, মুন্সি আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক সরকার, সাবেক সম্পাদক (অডিট) আব্দুল মতিন চৌধুরী (রুমি), মাহবুবুর রহমান (রুমন), আদিব ইমাম ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান (কল্যাণ তহবিল স্ট্যান্ডিং কমিটির) এরশাদ আলী (ইশা)।
এদের মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আলী-১, মাইনুল হাসান পান্না, আফতাবুর রহমান রাজশাহী বার সমিতির সাধারন সদস্য পদ থেকে ৩ বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছেন। আর সাবেক সম্পাদক (হিসাব) শামসুল হক, মুন্সি আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক সরকার, সাবেক সম্পাদক (অডিট) আব্দুল মতিন চৌধুরী (রুমি), মাহবুবুর রহমান (রুমন), আদিব ইমাম ডালিমকে রাজশাহী বার সমিতির সাধারণ সদস্য পদ থেকে ৬মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাকী ৭ জনসহ রাজশাহী বারের উপরোক্ত ১৬জন সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তার কল্যাণ তহবিলের সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে, একইসঙ্গে তাদের নিয়মিত সদস্য পদ থেকে বাদ দিয়ে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তারা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। এসময় তারা এক কোটি ২৮ লাখ তিন হাজার ৬৮১ টাকা আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎকৃত টাকা অভিযুক্তরা ৩০দিনের মধ্যে বার সমিতিতে ফেরত না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে আরো উলেখ করা হয়, অভিযুক্ত ১৬জন আত্মসাৎকৃত টাকা বার সমিতিতে জমা প্রদান করে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কল্যাণ তহবিল স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট এরশাদ আলী (ইশা) বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে, তাই তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি বলেন, আজ যে তথ্য সকলের সামনে উন্মুক্ত করা হয়েছে তাতে সাধারণ আইনজীবীদের কাছে অভিযুক্তদের মুখোশ উম্মুক্ত হয়েছে। আর যে শাস্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে তা তারই প্রতিফলন মাত্র। বারের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য ফিরে আসার পথও উম্মুক্ত রাখা হয়েছে। তারা চাইলে বারের আত্মসাৎকৃত টাকা জমা দিয়ে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯ | সময়: ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ