সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় জলাতঙ্ক রোধে ভ্যাকসিন

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার রোধ করার লক্ষে উপজেলাব্যাপি শুরু হয়েছে জলাতঙ্ক টিকাদান কার্যক্রম অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জলাতঙ্ক রোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অফিসার আতিকুর রহমান ও শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান। স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক তাহমিদ ইসলাম ও ফিরোজ আহম্মেদ।
সভায় কুকুর হতে জলাতঙ্ক প্রতিকার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। বক্তার জানান, জলাতঙ্ক নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায়। তাই সঠিক সময়ে টিকা দিয়ে জলাতঙ্ক নির্মূলের কর্মকৌশল বান্তবায়ন করা দরকার।
জানা গেছে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষে ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম ২০১৯ থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। এরই ধারাবাহিতকায় জলাতঙ্ক টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাগমারার ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ৩ ফেব্রুয়ারী হতে ৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। একযোগে উপজেলার সকল ইউনিয়নে ও পৌর এলাকায় জলাতঙ্ক নিরোধে গ্রামে গ্রামে কুকুরকে আধুনিক পদ্ধতিতে টিকা দেয়া হবে। এই কার্যক্রম আগামী ৩ বছর অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এছাড়া কুকুরে কামড় দিলে বা হাছড় দিলে ভ্যাকসিন নেয়ার জোর পরামর্শ দেয়া হয়। টিকা দেয়ার কুকুর হতে সাবধান ও রোগ ছড়ায়। এই কার্যক্রম চলাকালীন কোন এক সময়ে ঘোষণা ব্যতিত এই রোগ নির্মূল সম্ভব নয় বলে জানান আলোচক।
উপজেলা ব্যাপি জলাতঙ্ক প্রতিরোধের জন্য গতকাল ৩ ফেব্রয়ারী থেকে ৭ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভায় কুকুরকে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রবিরার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ও মাড়িয়া ইউনিয়নরে বিভিন্ন স্থানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করে ভ্রাম্যমান টিম। ভবানীগঞ্জ পৌরসভার উপজেলা হেডকোয়ার্টারে গতকাল সকালে ভ্যাকসিন টিমে ছিলেন ডগ ক্যাসার মিরাজুল ইসলাম, সর্ভেয়ার নাজমুল ও মশিউর।
তারা জানান, এক দিনেই তারা প্রায় দুইশ’র অধিক কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। তারা জানান, এক মাস বয়স থেকে পূর্ন বয়স পর্যন্ত সকল কুকুরকেই তারা ভ্যাকসিন পুস করছেন। ভ্যাকসিন পুস করার পর সেই কুকুরকে লাল রং দিয়ে দিচ্ছেন। যাতে তাকে সহজেই চেনা যায়। তারা জানান, এই কার্যক্রম ৭ ফেব্রয়ারী পর্যন্ত চলমান থাকবে। এ প্রসঙ্গে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী লিটন মিয়া জানান, জলাতঙ্ক একটি মারাত্বক রোগ।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় কুকুরের সংখ্যা বেশি। এখানে প্রায় কুকুরে কামড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জলাতঙ্ক শুরুতেই প্রতিরোধ করা যায় এমন ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ | সময়: ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ