সর্বশেষ সংবাদ :

ছোটগল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হকের ৮০তম জন্মোৎসব উদযাপন

রাবি প্রতিনিধি: উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হকের ৮০তম জন্মোৎসব উদযাপন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে হাসান আজিজুল হককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাসান আজিজুল হক বাকি জীবন লেখালেখির মধ্যে ব্যস্ত থাকতে চান বলে জানান।
বিকেল ৪টায় প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাঁকে ফুল ছিটিয়ে ও নৃত্যের তালে বরণ করে নেওয়া হয়। রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর কথাসাহিত্যিককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক কথাসাহিত্যিকের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।
সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। কথাসাহিত্যিককে নিয়ে লেখা মানপত্র পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা। এসময় কথাসাহিত্যিককে নিয়ে লেখা একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহীর কবিকুঞ্জের সভাপতি ও জন্মোৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক।
অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিকের কন্যা সুলতানা শরমিন জাহান তোতনের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নাতি অনির্বাণ হাসান অনিন্দ্য পিয়ানো বাজিয়ে উপস্থিত দর্শকদের মন কাড়েন। শেষে বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিকের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘গল্পলোকের চিত্রকর’ প্রদর্শিত হয়। এদিন মিলনায়তনের সামনে এই কথাসাহিত্যিকের সকল গ্রন্থের প্রদর্শনী ও বিক্রি করা হয় ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শ্রোতাদের কিশোরবেলার গল্প শোনান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘পাঁচ কী ছয় বছর বয়সে পাঠশালায় পড়ালেখা জীবন শুরু। আমার পণ্ডিত ছিলেন দাশরথি পাঠক। তিনি ছিলেন গম্ভীর প্রকৃতির আর বেশ নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। এই বয়সে এসেও মানুষের যেই অকৃত্রিম ভালবাসা আমি পেয়েছি তা অসামান্য। সবার ভালবাসা পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
হাসান আজিজুল হক আরও বলেন, ‘আমি যা জানতাম তা সবসময় মানুষকে জানানোর চেষ্টা করেছি। অন্যের থেকে নিজের অজানাকে আবিষ্কার করেছি। এখন বয়স বেড়েছে, আগের মতো সবকিছু করতে পারি না। তবে এখনও স্মৃতিশক্তি কমে যায়নি। যে কয়দিন বাঁচি লেখালেখি চালিয়ে যেতে চাই। আমার লেখায় যদি মানুষের কল্যাণ হয় এবং পাঠক যদি আনন্দিত হয় এতেই আমি নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, অধ্যাপক মিজানউদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস অরুণ কুমার বসাক, পুন্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোকলেসুর রহমান, কবি জুলফিকার মতিন, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজ্জাদ বকুলসহ রাজশাহীর গুণি ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | সময়: ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ