Daily Sunshine

সব ক’টা জানালা খুলে রেখে ওপারে বুলবুল

সানশাইন ডেস্ক: প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…. রাজিউন)। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী তার মৃত্যুর খবর জানান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছেলে সামির আহমেদের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা রিসিভ করেন কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী। তিনি বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা গেছেন। তার পালস পাওয়া না যাওয়ায় দ্রুত তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (আয়েশা মেমোরিয়াল) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসা হয়।’
হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা সামিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে নিয়ে আসা হয়। আমাদের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাসায় অথবা পথে মৃত্যু হয়েছে।’
হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে এর ব্যবস্থাপক পরিচালক ডা. আশিষ চক্রবর্তীকে আহমেদ ইমতিয়াজের ছেলে ফোন দিয়েছিলেন। হাসপাতাল সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বলেও জানান তিনি।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি তার হার্টে আটটি ব্লক ধরা পড়ে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তখন তার হার্টে দুটি রিং পরানো হয়। এরপর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন তিনি।
আহমেদ ইমতিয়াজ ১৯৭০ সালের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পর টানা দেড় দশক শুধু দেশের গান তৈরি করেছেন তিনি। বুলবুল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
সংগীতে অবদানের জন্য বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কার পান।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শোক: আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ইন্তেকালে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সংগীতের ক্ষেত্রে তার অবদান মানুষ কখনো ভুলবে না।’ রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনে বুলবুলের অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ‘তার ইন্তেকালে দেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সুরকারকে হারালো’- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ইন্তেকালে দেশের সংগীতাঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। পৃথক শোকবার্তায় তিনি বলেন, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বাংলা গানের ইতিহাসে অনন্য শিল্পী। তিনি গানের সব শাখায় বিচরণ করার ক্ষমতা ও গুণাবলিসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বার্থে যেমন জীবন নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি বাংলা সংগীতেও তিনি তার স্বভাবসুলভ অবদান রেখে গেছেন। আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক, চলচ্চিত্রের গানে তার অবদান অনস্বীকার্য। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি মির্জা ফখরুল সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

জানুয়ারি ২৩
০৪:০৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আসাদুজ্জামান নূর : ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি নেশা ছিল জুবাইদা খাতুন তন্বীর। ক্লাসের ফাঁকে, মন খারাপ থাকলে বা বোরিং লাগলে ছবি আঁকতেন তিনি। কারও ঘরের ওয়ালমেট, পরনের বাহারি পোশাক ইত্যাদি দেখেই এঁকে ফেলতেন হুবহু। এই আঁকাআঁকির প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েই হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তুলির খোঁচায় পরিধেয় পোশাকে বাহারি নকশা, ছবি, ফুল

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

সানশাইন ডেস্ক : সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হয়। এরপর অবসরের বয়স বাড়ানো হলেও প্রবেশের বয়স আর বাড়েনি। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া, সেশনজট, নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি

বিস্তারিত