Daily Sunshine

মামলায় থমকে সড়ক সম্প্রসারণ

রাজু আহমেদ : স্থানীয় দুটি পরিবারের দায়ের করা মামলার কারণে থমকে রয়েছে নগরীর নির্মাণাধীন দরিখরবোনা মোড় এলাকার প্রায় ৪০০মিটার সড়ক প্রশস্থকরণের কাজ। এদিকে কাজ শুরুর পর মাঝ পথে থেমে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে সড়কটিতে চলাচলকারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। উপশহরসহ আশপাশের বেশকয়েকটি এলাকার প্রবেশের মুখ হওয়ায় এই সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে নির্মানাধীন ভাঙাচোড়া সড়কটি এখন স্থানীয় সকলের দুর্ভোগের প্রধান কারণ।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এতোদিন সরু থাকায় সড়কটি ব্যবহারকারীদের সকলকে দুর্ভোগে পড়তে হাতো। বহুদিন থেকেই সড়কটি প্রশস্থকরণের দাবি ছিল সকলের। রাজশাহীতে মানুষের পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কই এখন প্রশস্থ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটিকরপোরেশন (রাসিক) সে ভাবেই তাদের প্লান মাফিক কাজ হাতে নেয়। ইতিমধ্যেই এই সড়কটি প্রশস্থকরণের জন্য আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারো প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করে পুরান সড়কটি ভেঙে নিয়ম মাফিক সড়কটি প্রশস্থকরণের কাজ শুরু করেছে। সড়কের পাশাপাশি এর দুই ধারেই বড় ড্রেনও একসাথে নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দরিখরবোনা মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি সংলগ্ন সকল বাড়িসহ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দরিখরবোনা থেকে উপশহরের দিকে যেতে হাতের বামদিকের দুইটি বাড়ি (হোল্ডিং নং ৪৭৭ ও ৪৭৮) এখনো ঠাই দাড়িয়ে রয়েছে। আর তাতেই সড়কটির কাজ থমকে রয়েছে। উপশহর থেকে দরিখরবোনা মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৪০০ মিটার সড়কটির ডানদিকের ড্রেনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে বামদিকের ড্রেন নির্মাণ কাজ থমকে রয়েছে। দুই দিক থেকে এসে এই বাড়ি দুটোর কাছে এসে আর কাজ করতে পারছে না ঠিকাদার। রাসিকের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্ব নেবার পর শুরু হয় সড়কটি নির্মাণের কাজ। তবে এই দুটি বাড়ির মালিকের করা মামলার কারণে শুরুর মাঝপথে কাজ থামিয়ে দিতে হয় ঠিকাদারকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি প্রশস্থ করার জন্য এলাকাবাসীসহ নগরবাসীর বহুদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল। সে অনুসারে সড়কটি প্রশস্থ করণের জন্য সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কাজ শুরু করে রাসিক। তবে মাত্র দুই পরিবারের জন্য এলাকার উন্নয়ন থমকে রয়েছে। তাদের কারণে রাজশাহীবাসীকে দুর্ভোগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হোল্ডিং নম্বর ৪৭৭ এর বাড়ির মালিকের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে গেলে বাড়িটির গেটে থাকা এক দোকানী জানান তিনি বাড়িতে নেই। দোকানি আরো জানান, সড়কটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে তার কারণ এই দুই বাড়ির মালিক মামলা করেছে।
মামলার বিষয়টি স্বীকার করে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, হাই কোর্টের বা বিচারাধীন বিষয় তাই এনিয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে আমরা আশা করি যেহেতু এটি একটি উন্নয়ন কাজ, এর সাথে রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়ন জড়িত। তাই রায় উন্নয়নের পক্ষেই আসবে। তবে আমাদের কাজ পুরো থেমে নেই। ড্রেনের কাজসহ আনুসঙ্গিক কাজগুলো চালু আছে। তবে মামলার কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

জানুয়ারি ২২
০৪:১৬ ২০১৯

আরও খবর