Daily Sunshine

রাণীনগরে এক বছরেও শেষ হয়নি পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরের আবাদপুকুর এলাকায় নির্মানাধীন পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনের নির্মান কাজ গত এক বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে একদিকে যেমন চলতি ইরি/বোরো মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর ধানের জমিতে সেচ নিয়ে শঙ্কায় পরেছেন কৃষকরা, অন্যদিকে এ মৌসুমে প্রায় অর্ধ লাখ গ্রাহকরা পরতে পারেন ভোগান্তিতে।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রাণীনগর সাব-জোনাল অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ২০০৯ সালে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে গভীর/অগভীর নলকূপ, আবাসিক, বানিজ্যিক, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ মাত্র ১৩ হাজার ৮২৯ জন গ্রাহকের বিপরীতে রাণীনগর উপজেলার চকমুনু এলাকায় একটি সাব-ষ্টেশন নির্মান করা হয়। সেখান থেকেই পুরো রাণীনগর উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রন কর হয়। এরপর গত ১০ বছরে তিনগুন সংযোগ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা দ্বাড়িয়েছে ৫২ হাজার ১৮০ জন। এসব গ্রাহকদের অধিক দুরত্ব থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় লো-ভোল্টেজের সমস্যাসহ অনাকাংখিত লোডশেডিংয়ে পরছে গ্রাহকরা। বিশেষ করে ইরি/বোরো মৌসুমে জমিতে পানি সেচসহ নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ চালিত গভীর/অগভীর নলকূপ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া বৃহৎ উপজেলার কোথাও ঝড়-বৃষ্টির কারনে গাছের ডাল ভেঙ্গে অথবা কোন সমস্যা দেখা দিলে ষ্টেশনটি বন্ধ রেখে কাজ করতে পুরো উপজেলাবাসী ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ফলে নানা রকম কাজকর্ম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। বর্তমান সরকার এর উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করায় শুধুমাত্র একটি সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে গ্রাহক সেবার মান অনেকটায় ভেঙ্গে পড়েছে।
গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এবং সেবার মান উন্নয়নে ১০ মেগাওয়াট ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন আরো একটি সাব-স্টেশন নির্মান কাজের জন্য প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্র মতে, আবাদপুকুর এলাকায় জমি ক্রয় করে গত জানুয়ারি মাসে রাজশাহী ডিভিশনাল প্রজেক্ট -২ (আর আর ডি পি-২) এর আওতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে সরকারি অর্থায়নে নির্মান কাজ শুরু হয়।
চলতি ইরি/বোরো মৌসুমে সেচ কার্য নির্বিঘ্ন করতে নির্মান কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু কাজের মাঝামাঝি সময়ে এসে অজানা কারনে ঝিমিয়ে পড়ে। স্টেশনটি চালু হলে রাণীনগর চকমুনু স্টেশন থেকে চারটি ইউনিয়ন এবং আবাদপুকুর স্টেশন থেকে কালীগ্রাম, পারইল, একডালা ও বড়গাছা ইউনিয়নের জন্য চারটি ফিডারে ভাগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
এতে একদিকে যেমন লো-ভোল্টেজের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে অন্যদিকে, মেইন লাইনে লোড শেডিং ছাড়া কোন লোডশেডিং থাকবে না। ফলে সব সমই নিরবিচ্ছিন্ন কাঙ্খিত মানের ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবেন গ্রাহকরা। এতে করে উপজেলার অর্ধ লক্ষাধকি গ্রাহক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের গভীর নলকূপ মালিক রবীন সরদার, ভাটকৈ গ্রামের আবু সাইদ, করজগ্রামের কাজী সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ইরি/বোরো মৌসুমেই বিদ্যুতের ভেল্কিবাজী, অনাকাংখিত লো-ভোল্টেজের কারনে অনেক বেকায়দায় পরেছিলেন তারা। চলতি মৌসুমের শুরুতেই গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ এবং তিনটি ফেজের মধ্যে একটি ফেজ না থাকায় সেচ কাজে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সাব-স্টেশনের নির্মান কাজ দ্রুত শেষ করে কাঙ্খিত ভোল্টেজে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ রাণীনগর সাব জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামন জানান, লাইনের শেষ প্রান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভোল্টেজের কিছুটা সমস্যা হলেও সেচের উপর কোন প্রভাব পরবেনা।
নওগাঁ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জানান, গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছি। যদিও চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত কাজের সময় রয়েছে তার পরেও আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই সাব-স্টেশনটি নির্মান কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

জানুয়ারি ২২
০৩:৫৪ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত