Daily Sunshine

পাখির কলতানে মুখরিত বড়ভিটা বিল

আনোয়ার পারভেজ, নাটোর : পাখির কিচির মিচির ডাক, মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা, খাদ্যের সন্ধ্যানে যেখানে সেখানে পাখির অবাধ বিচরণ দেখতে কার না ভাল লাগে। আর অতিথি বা পারিযায়ী পাখি হলে তো কোন কথাই নেই। এমনই লাখ লাখ অতিথি পাখির দেখা মিলছে এখন বড়ভিটা বিলে। নাটোর শহরের অদূরে পিটিআই মোড় সংলগ্ন বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড়ভিটা বিল এখন লাখ লাখ পারিযায়ী পাখির আবাসস্থল।
প্রতিবছর এখানে অতিথি পাখির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নাটোর জেলায় হাওর-বাওর না থাকলেও রয়েছে ছোট বড় বেশ অনেক বিল। এখানে অতিথি পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শীতের সময় প্রতিবছর লাখ লাখ অতিথি পাখির দেখা মেলে এইসব বিলগুলোতে। মূলত সোল্লি, বদর, লালমোন, শামুকখোল, বক, বালিহাঁস, কাইয়ুমসহ নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত থাকে বড়ভিটার এই বিলের সর্বত্র। বিলের দেশী ছোট ছোট মাছই মূলত এসব পাখীর প্রধান খাদ্য। এখানে যারা পুকুর ও খালে মাছ চাষ করেন তারা এই সব অতিথি পাখীদের অবাধ বিচরণে ও সংরক্ষণে প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করছে। বিগত ৩/৪ বছর আগেও নাটোর শহরের পাদদেশে অবস্থিত বড়ভিটা বিলে এত পাখি দেখা যায়নি।
বর্তমানে বড়ভিটা বিলে বিচরণ করা পারিযায়ী পাখির সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ হবে বলে ধারনা স্থানীয় পরিবেশবীদদের। চলতি বছর হঠাৎ করে এখানে বেড়েছে এসব অতিথি পাখির সংখ্যা। আর এখানে প্রতিদিনই সকাল-বিকাল অনেক দর্শনার্থীই আসেন এই পারিযায়ী পাখীর কলতান, মুক্ত নীলাকাশে রাশি রাশি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, আবার বিলের পানিতে নামা, খাবার সন্ধানের মোহময় দৃশ্য উপভোগ করতে। মনের অজান্তেই কিংবা অতি উৎসাহ আর ভাল লাগায় পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণের মনোমুগ্ধকর, মোহময় দৃশ্য ধারনের লোভ সম্বরণ করতে পারেন না দর্শনার্থীরা। বিকালে এখানে এসে অনেককেই কোলাহলমুক্ত, প্রাকৃতিকমুক্ত পরিবেশে অতিথি পাখির প্রেমে হাবুডুবু খেতে দেখা যায়।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ বড়ভিটার এই বিলের অতিথি পাখি পরিদর্শনে যান। এসময় একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ পাখি একসাথে দেখে উচ্ছসিত, রোমাঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তিনি নিজে মোবাইল ফোনে নীলাকাশে পাখির অবাধ বিচরনের দৃশ্য ধারন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই ভিডিও ও ছবি আপলোড করেন। সেখানে অবস্থানকালেই সাংবাদিকদের সামনে তিনি বড়ভিটা বিলকে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করেন। সেই সাথে এখানে পাখির অভয়ারণ্য তৈরি ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস প্রদান করেন।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সফরসঙ্গি অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম জানান, তিনি একসঙ্গে এত পাখি কখনও দেখেননি। নিজের ফেসবুক পেজে এ্যামাইজিং বলে অভিহিত করে একটি ভিডিও পোষ্ট দিয়েছেন।

জানুয়ারি ২১
০৩:২৯ ২০১৯

আরও খবর