Daily Sunshine

আলুর বাম্পার ফলেনের আশা

সরকার দুলাল মাহবুব: অনুকুল আবহাওয়া ও এখন পর্যন্ত কোন ধরণের মোড়ক না থাকায় ভাল উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা। এখন আলু ক্ষেতের শেষ যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। গতবারের লোকসান থেকে বাঁচতে আলু রোপণ করেছেন ব্যবসায়ী কাম চাষিরা। তবে দামে শঙ্কা কাটছে না চাষিদের।
গত মৌসুমে আলুতে তেমন লাভ না হওয়ায় জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। এবারে ২৩ হাজার ৬৯৬ বিঘা (৩ হাজার ১৮৫ হেক্টর) কম জমিতে আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার ২শ’ বিঘা (৪১ হাজার ১৫৬ হেক্টর)। গতবার হয়েছিল ৩ লাখ ২৮৫ বিঘা (৪০ হাজার ৩৬১ হেক্টর)।
আমাদের শীতে সবজি চাষ বেশী হয়ে থাকে। রাজশাহীতে শীতের অর্থকরি সবজি বলতে আলু উৎপাদন প্রথম অবস্থানে আছে। শীতের মৌসুমে জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আলু চাষ হয়ে থাকে। মাঠে মাঠে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বুনেছে চাষিরা। বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে শুধুই আলুর ক্ষেত। সবুজের চাদরে ঢেকেছে মাঠের পরে মাঠ। এখন পর্যন্ত আলুচাষের অনুকুল বিরাজ করছে। আলু ক্ষেতে কোন ধরণের মোড়ক না থাকায় ভাল উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা।
চলতি রবিশস্য মৌসুমে আলুর ভাল ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। মাঠে মাঠে এখন শুধু আলু গাছের সবুজ রং এর সমারহ। এ মৌসুমে ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা না দেওয়ায় এবং আলু চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকায় নিবির পরি”র্যা, স্থানীয় কৃষি বিভাগের যথাযথ পরামর্শ ও আবহাওয়া ভাল থাকার কারণে রোগবালাই মুক্ত আলু ক্ষেত বিরাজ করছে। প্রেক্ষিতে আলুর সবোর্চ্চ ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক কৃষকরা এবার ডায়মন্ড, কার্ডিনাল জাতের আলু বেশী করেছেন। যথা সময়ে মাঠ থেকে আলু ঘরে তুলতে পারলে এবং দাম ভাল থাকলে কৃষকের লাভ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
আলু ক্ষেতের শেষ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মাঠজুড়ে। সেচকার্য, সারিতে মাটি তোলা, রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক স্প্রে করছে চাষিরা। তবে সত্যিকার অর্থে লোকসান গুণতে গুণতে অর্থকরি ফসল আলুচাষ এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। এবার অনেক প্রান্তিক চাষি ব্যবসায়ীদের কাছেই লীজ দিয়েছে ক্ষেতের জমি। এ সুযোগে চাষি কাম ব্যবসায়ীরাও কমদামে লীজ নিচ্ছে এসব জমি। প্রান্তিক চাষিরা আবাদ থেকে ফিরে আসায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, রবি মৌসুমের অর্থকরী ফসল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে আলু। জেলার কমবেশী সবকটি উপজেলায় আলুর চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দূর্গাপুর, গোদাগাড়ি উপজেলায় ব্যাপক জমিতে আলুর ভাল ফলন হচ্ছে।
গত আলু উঠার মৌসুমে প্রান্তিক চাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়। অনেকে আর আলু রোপণ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। উৎপাদনকৃত আলুতে দাম না পেয়ে অনেকে সার-বীজের দাম দিতে হিমসিম খেয়েছেন। আবার লোকসানের ধকলে এবং সার-বীজ ও কীটনাশকের দোকানে বাকি পরিশোধ না করতে পেরে বাড়ি ছেড়েছিলেন।
গতবার আলুচাষ করেছিলেন মৌগাছি গ্রামের ফিরোজ শেখ। তিনি জানান, গতবার আলুচাষ করে লোকসান গুনেছেন। তাই এবারে তিনি চাষ করছেন না। তার জমি লীজ নিয়েছেন আলু রোপণ করছেন বাটুপাড়া গ্রামের চাষি কাম ব্যবসায়ী পারেশ আলী। আলিম শেখের মত অনেকেই এবারে আলুচাষ থেকে বিরত আছেন। এই সুযোগে হিমাগারে রাখেন এমন আলু ব্যবসায়ীরা কমদামে জমি লীজ নিচ্ছেন। এতে প্রান্তিক কৃষকরা আরো একবার ঠকছেন।
চাষি কাম আলু ব্যবসায়ী মোবারক আলী গতবছর ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো তিনি ৫০ বিঘা জমি আলু রোপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেন গতবার উঠতি সময়ে কৃষক আলুতে লোকসান গুনেছেন। হিমাগারে যারা রেখেছেন তাদের কিছু লাভ হয়েছে। আবার কোন কোন কৃষকের বিক্রি এবং উৎপাদন খরচ সমান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আলুচাষে প্রচুর টাকার দরকার হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকামাকড়সহ কান্ডপচা ও নাভিধ্বসা মোড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়। আলুচাষ একটি ঝুকিপূর্ণ আবাদ। তবে এবারে আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবং এখন পর্যন্ত কোন ধরণের মোড়ক না থাকায় ভাল ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জানুয়ারি ২১
০৩:২৮ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

দুরারোগ্য মিনিংগোসেলে আক্রান্ত শিশু ইমলা

দুরারোগ্য মিনিংগোসেলে আক্রান্ত শিশু ইমলা

স্টাফ রিপোর্টার: দুরারোগ্য মিনিংগোসেল রোগ নিয়ে পৃথিবীতে আসা শিশু আয়াতী খাতুন ইমলা। বয়স মাত্র ১০ মাস। ছোট্ট এই শিশুটির এখন পরিবারের সবার কোলে আদরে আদরে বেড়ে ওঠার সময়। কিন্তু দুরারোগ্য রোগ নিয়ে শিশুটির যন্ত্রণার সময় কাটে বিছানায়। তার কান্নার শব্দে কষ্ট পায় পুরো পরিবার। কিন্তু ব্যবস্থা হচ্ছে না তার চিকিৎসার।

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক’

বিস্তারিত