Daily Sunshine

আক্কেলপুরে মৌবক্সে মধু চাষে লাভবান চাষিরা

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনী বাজারের পশ্চিম পাশের সরিষার জমির পাশে ফাঁকা একটি জমিতে অস্থায়ীভাবে মৌবক্স স্থাপনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের জামালগঞ্জ চারমাথা বাজারের বাসিন্দা সুজাউলের দুই ছেলে খোকন (২৮) ও তার ছোট ভাই সাগর হোসেন (১৮) অস্থায়ী মৌবক্স থেকে মধূ সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন।
খোকন ও সাগর জানান, তারা প্রায় ২৭০ টি অস্থায়ী মৌ বক্স স্থাপন করে প্রতিনিয়তই মধু সংগ্রহ করে আসছে। মধু বিভিন্ন স্থানের মানুষেরা এসে পাইকারি দামে কিনছেন। তাদের সংগৃহীত মধু ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তারা আরো জানান, আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর তাদের মৌ চাষবাদে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগীতা করে আসছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, অস্থায়ী ২৭০ মৌবক্স থেকে ২ দশমিক ৫ টন মধু সংগ্রহ করেছেন মধু চাষিরা।
উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ মধু সেবন মানব দেহের জন্য বেশ উপকারী ও ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও কৃষি অফিসের উদ্যোগে ভেজাল প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই মধুগুলো পরীক্ষা করা হয়।
তিনি জানান, সরিষার পরাগায়নের জন্য মৌমাছি বড় ধরনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। মৌমাছির মধু সংগ্রহের মাধ্যমে শতকরা ২০-৩০ ভাগ পর্যন্ত পরাগায়ন বৃদ্ধি পাবার ফলে সরিষার ফলনও ভাল হয়।
আবু বক্কর সিদ্দিক আরো জানান, এসব মৌ-মাছির বংশ বিস্তার মধু সংগ্রহ ও ফ্রেম থেকে মোম পাওয়া যায় তা সবই বিক্রি করা যায়। যার ফলে মৌ-চাষিরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। সরিষা ফুলের মধু যেমন খাঁটি তেমনি সু-স্বাদু হয়ে থাকে যা মানের দিক থেকেও উন্নত হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সরিষা থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের জন্য আমরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছি। এসব মৌমাছি শুধু মধু সংগ্রহ নয়, মধু সংগ্রহের পাশাপাশি পরাগায়নে কৃষি খাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে করে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়।

জানুয়ারি ২১
০৩:২৪ ২০১৯

আরও খবর