Daily Sunshine

দুর্নীতিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে চান রাজশাহীর এমপিরা

স্টাফ রিপোর্টার : ‘উন্নত সমৃদ্ধ’ দেশ গড়তে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে সরকারের বার্তা প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির ‘প্রয়োজন’ যাতে না হয় সেজন্য সরকার বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন পরিবর্তন আনতে হবে মানসিকতায়; দুর্নীতি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠিন বার্তা দেন সরকার প্রধান।
টানা তৃতীয় মেয়াদসহ চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরোধী এই কঠিন বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজশাহীর সংসদ সদস্যরা। প্রত্যেকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
সাংসদরা বলেছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো নির্দেশনা মেনে তাদের অবস্থান থেকে নিজ সংসদীয় এলাকায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কার্যকর করতে তারা তাদের অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
তারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম না হয় সেই বিষয়গুলোও তারা নজরে রাখবেন। বিশেষ করে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পেলে সাথে সাথে লাল কাগজের চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।
রাজশাহী-৫ আসনের সাংসদ ডা. মনসুর রহমান বলেন, ‘‘দুর্নীতি প্রতিরোধে আমার অবস্থান থেকে যা যা করা সম্ভব তার সবই করা হবে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে যত ধরনের দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাবে সেসব বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সম্প্রতি একটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্যে বলেছি, বয়স্ক ভাতা কার্ড পেতে যদি কোনো ধরনের দুর্নীতির খবর পাওয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে বরাদ্দ কেড়ে নেয়া হবে। আর অন্যান্য যে দুর্নীতির বিষয় রয়েছে সেগুলো বিষয়েও বড় ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’
রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমার বিরুদ্ধে টিআর ও কাবিখা থেকে দুর্নীতির কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। আশা করি এবারও কোনো ধরনের দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ততার কেউ কোনো অভিযোগ দিতে পারবে না। আমার নির্বাচনী এলাকায় কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। দুর্নীতির কোনো তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘শিঘ্রই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার নির্বাচনী এলাকার কোন মানুষ যাতে দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার না হন তার সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রথমে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে পৃথকভাবে সমাবেশ করে শতর্ক করে দেয়া হবে।’
রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারকে যে ধরনের সহযোগিতা করার সুযোগ আছে তার সবই করা হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবেন সাংসদরা। সাংসদরা যদি এ বিষয়ে সতর্ক ও আন্তরিক হন তাহলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করলেও দুর্নীতিকে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নি। এজন্যই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে যত ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয় তার সবই বাস্তবায়ন হয় সাংসদের মাধ্যমে। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়িত করতে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয় সে বিষয়ে সাংসদরা কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির কথা শোনা যায়। এসব বিষয়েও সাংসদরা ব্যবস্থা নিতে পারেন। যাতে যোগ্য ব্যক্তিরা চাকরি পান। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের টাকা আসে সেসবও যেন ঠিকঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে সে বিষয়েও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন সাংসদরা। আমার ধারণা রাজশাহীর সাংসদরা এ বিষয়ে আন্তরিকতার সাথেই কাজ করবেন।’

জানুয়ারি ২০
০৩:৪৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

শাহ্জাদা মিলন: বাংলাদেশের অন্যতম বিভাগীয় শহর রাজশাহী। সিল্কসিটি, আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সারা দেশে রাজশাহী। তবে এসব পরিচয় ছাপিয়ে রাজশাহী ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। অসংখ্য নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। এর সুফলে রাজশাহীতে বছর বছর বাড়তে ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা। তবে সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। রাজশাহীতে রয়েছে রাজশাহী

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত