Daily Sunshine

বাহারী পিঠায় সরগরম থিম ওমর প্লাজা

আসাদুজ্জামান নূর : দুধের রসে ভেজানো বিভিন্ন নকশার দুধ মনমোহন, হৃদয় হরণ, হৃদয় ক্ষরণ, নকশী, গোলাপ, শামুক, কলসী, হাড়ি, মালপোয়া, ডিম পানতোয়া, লবঙ্গ লতিকা, বিবিখানা, তালপাতা, তারা, লস্কর এগুলো সবই দেশি পিঠার নাম। বাহারী নকশা ও স্বাদের এসব পিঠার নাম শুনেই জিভে জল এসে যায়। হাতের কাছে পেলে এগুলোর স্বাদ নেবেন না এমনজন পাওয়া দুষ্কর। শীতকালে পিঠা খাওয়া বাঙালী সংস্কৃতির অনেক পুরোনো রেওয়াজ। বাংলার গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই শীতকালে চলে পিঠা খাওয়ার ধুম। ইট পাথরের ব্যস্ত শহরে পিঠাপ্রেমীদের হরেক পিঠার স্বাদ নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে পিঠা উৎসব।
বাঙালীর সমাদৃত এই ঐতিহ্যকে শহরবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন থিম ওমর প্লাজার সপ্তম তলায় চলমান রয়েছে ১০ দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব। চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। সকলের জন্য উন্মুক্ত এই পিঠা উৎসব চলছে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা। থিম ওমর প্লাজার সপ্তম তলা পিঠা উৎসবে দর্শনার্থীদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। মেলার ১২টি স্টলের প্রতিটিই ঘেরা ক্রেতাদের ভিড়ে। ভিড় ঠেলে কাছে গেলেই স্টলের সামনে সাজানো দুধমালাই, মুগডাল, পাটি সাপটা, ঢাকনা, কুশলী, ডিম পানতোয়া, চিকেন পাকোড়া, জামদানি, আন্দশা, রসফুল, রসচিতাই, মাছ, বিস্কুট, নারকেলের শাঁস কুসলি, দুধ কুশলি, সবজির চাকা পিঠা, মুখশেলী, কালাই, লেয়ার, বকুল, পাকোয়ান ও জবাসহ নাম জানা না জানা শত পিঠার সমাহার। সর্বনিম্ন ১০টাকা থেকে শুরু হয়েছে এসকল পিঠার দাম। দর্শনার্থীদের প্রায় প্রত্যেকেই ব্যস্ত বিভিন্ন পিঠার স্বাদ নিতে।
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান ও রেজওয়ান। পিঠার স্বাদ তাদেরকে দ্বিতীয়বারের মত টেনে এনেছে পিঠা উৎসবে। তারা জানান, পিঠা উৎসবে এটা আমাদের দ্বিতীয়বারের মত আসা। এর আগেও এসেছিলাম। ৫-৭ রকমের পিঠার স্বাদ নিয়েছি। প্রত্যেকটি পিঠাই খুব মজাদার। সামনের দিনে আবারো আসার কথা জানান এ যুগল। অভিন্ন অনভূতি ব্যক্ত করেছেন দর্শনার্থী নেহা, মীম ও রেবারাও।
পিঠা মেলায় জ্যোতি বাহারি ফুড, রানী পিঠা ঘর, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা ঘরসহ রয়েছে আরো অনেক পিঠা ঘর। আর এতে অংশগ্রহণকারী অনেক নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকটি স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল পরিমাণ ক্রেতার সমাগমে মুগ্ধ স্টল আয়োজকরাও।
রানী পিঠা ঘরের মালিক রানী জানান, প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী আসছেন মেলায়। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করছেন তিনি। এছাড়াও প্রতিদিন বাইরে থেকেও পিঠার অর্ডার পান তিনি। আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে পিঠা উৎসব সত্যিকারের উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি।
থিম ওমর প্লাজার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিগত বছরে আয়োজিত পিঠা উৎসবে নগরবাসীর স্বতস্ফূর্ত সাড়াদানের প্রেক্ষিতেই এবারো আমরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছি। প্রায় সকল বয়সী মানুষেরাই মেলায় আসছেন। তবে তরুণদের আনাগোনা বেশি রয়েছে। বাঙালী সংস্কৃতির এই বিশেষ উৎসবটা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই থিম ওমর প্লাজার এই আয়োজন বলে জানান তিনি।

জানুয়ারি ১৮
০৩:২৯ ২০১৯

আরও খবর