Daily Sunshine

শিকারীর হাতে মারা পড়ছে অতিথি পাখি

সাপাহার প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবাই বিল ও পুর্ণভবা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখিরা। আর এসব অতিথি পাখিরা শিকারীর হাতে মারা পড়ছে। অবাধে পাখি শিকার করায় একদিকে যেমন বিলের সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে অন্য দিকে হুমকির সম্মূখীন হচ্ছে জবাই বিলের জীব-বৈচিত্র।
এলাকার একদল শিকারী প্রতিদিন বিল ও নদী থেকে পাখি শিকার করে বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রয় করছে।
জবাই বিল জীব বৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ জানান, বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করার কারণে বিলের কিছু অংশে জমি জেগে ওঠেছে। ওই জমিগুলোতে অল্প পরিমাণে পানি থাকায় খাবারের জন্য অতিথি ও দেশীয় প্রজাতির পাখিরা দল বেঁধে বিলে ভিড় জমাচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু শিকারী বিল ও নদীর জলে ফাঁস জাল, বিশেষ ফাঁদ ও দানাদার বিষসহ বিভিন্ন কৌশলে নির্বিচারে পাখি শিকার করছে।
এছাড়া ও বিলে এক শ্রেণির মৎস্যজীবী মাছের পাশাপাশি ভোর রাতে কারেন্ট জাল পেতে বক, বালিহাস, চন্নিহাস, চাহা পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করছে। তিনি আরও জানান, এবার শীতে অন্য বছরের তুলনায় ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরন দেখা গেছে। জবাই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বিল থেকে বিলুপ্ত ও হারানো প্রজাতীর পাখি পাতি সরালি আবার বিলে ফিরতে শুরু করেছে।
জীব বৈচিত্র সংরক্ষনে পরিবেশ বাদী সংগঠনের তৎপরতা ও স্থানীয় বন বিভাগসহ প্রশাসনের কড়া নজরদারী এবং জন সচেতনা মুলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ে বন্যপ্রাণি ও পাখি শিকার বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার কলমুডাঙ্গা চৌমুহনী বাজারে প্রতিদিন সকালে প্রতি জোড়া চাহা পাখি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বালিহঁস প্রতিটি ৩০০ টাকা, বক ও কক পাখি ৩০০ টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। জবাই বিল ও পুর্ণভবা নদী এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জবাই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যরা অতিথি পাখি শিকার বন্ধে প্রচারণা চালালেও জনসচেতনতার অভাবে পাখি শিকার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে ২০১২ সালে এই বিষয়ে আইন পাশ হলেও পাখি শিকার বন্ধে ওই আইনের প্রয়োগ নেই। সরকারি ভাবে পদক্ষেপ গ্রহনের পাশা পাশি জন প্রতিনিধি সহ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

জানুয়ারি ১৭
০৩:৪৭ ২০১৯

আরও খবর