Daily Sunshine

বাগমারায় নেই সহকারি ভূমি কমিশনার, জমি ক্রেতা বিক্রেতারা বিপাকে

বাগমারা প্রতিনিধি : বাগমারায় ভূমি অফিসের সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র পদটি দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র পদটি শূন্য থাকায় জমির মালিকেরা জমি ক্রয় বিক্রয় করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। যার কারনে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পদটি শূন্য থাকার কারনে প্রতি নিয়ত জমির মালিকেরা জমির খারিজ, নামজারিসহ জমির কাগজপত্রাদি নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও এলাকার লোকজন জমি ক্রয় বিক্রয় করতে পারছেনা বলে অনেকেই জানয়েছেন। স্থানীয়রা অবিলম্বে উপজেলার ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র পদটি শূন্য থাকার পর গত ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আলম মামুন বাগমারায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়ীত্ব পালন করছিলেন। ১১ মাসের মাথায় কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাগমারা থেকে রাজশাহীর পবা উপজেলায় বদলী করা হয়। সহকারী কশিনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বদলীর পর থেকে উপজেলা ভূমি অফিসের কাজে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে এলাকার জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিপাকে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ মত প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, জমি খারিজের অভাবে বাগমারায় জমি ক্রয়-বিক্রয় প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। দাপ্তরিক কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ চালালেও তার ব্যাপক কাজের চাপে সময় দিতে পারেন না ভুমি অফিসের দিকে। সহকারী কমিশনার বদলীর পর ওই অফিসের দায়ীত্ব হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম দপ্তরের কাজ গুলো করতে তিনি হিমশিম খান। যার কারনে সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের কাজ গুলো স্থবিরতা হয়ে পড়েছে।
বাগমারা উপজেলার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মডি বলেন, জমি খারিজের অভাবে তারা জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না।
অপর দিকে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল হাকিম, আবু বক্কর সিদ্দিক, দেলবর রহমানসহ অনেকে জানান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদলীর পর থেকে জমি রেজিষ্ট্রির কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের ভাস্য মতে, ভবানীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের প্রতি সপ্তাহে একশ থেকে দেড়শ দলিল রেজিষ্ট্রি হতো। সহকারী কমিশনার ভূমি বদলীর পর থেকে কোন কোন সপ্তাহে ২০/২৫ টি দলিল রেজিষ্ট্রি হচ্ছে। জমি খারিজের সমস্যায় দলিল রেজিষ্ট্রি করতে না পেরে জমির ক্রেতা বিক্রেতা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। যা থেকে সরকার আয় করত লক্ষ লক্ষ টাকা। কিন্তু জমি খারিজের অভাবে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছেন। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সমস্যা দুর করতে তারা অবিলম্বে সহকারী কমিশনার ভূমি নিয়োগের দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই বাগমারায় সহকারী কমিশনার (ভুমি) যোগদান করবেন। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করে তা দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

জানুয়ারি ১৭
০৩:৪৬ ২০১৯

আরও খবর