Daily Sunshine

মুন্সীগঞ্জে ট্রলার ডুবিতে ভাঙ্গুড়ার ২১ জন শ্রমিক নিখোঁজ

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে একটি মাটিবোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনায় পাবনার ভাঙ্গুড়ার ২১ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ১৩ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে ১৮ জনের বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলার খাঁনমরিচ ইউনিয়নে এবং অপর তিনজনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।
নিখোঁজ ২০ জনের মধ্যে ১৮ জনের নাম পরিচয় জানা গেছে। নিখোঁজের সংবাদ পাবার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারী।
জানা গেছে, রাতে ট্রলার ভর্তি মাটি নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নারায়নগঞ্জের বক্তাবলী এলাকায় যাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। পথিমধ্যে ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ট্রলারটি উপজেলার সীমান্তবর্তী কালিয়াপুর এলাকার মেঘনা নদী নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী জাহাজের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে খানমরিচ ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামের শাহ আলম (রতন) জানান, মাটি নিয়ে ফেরার পথে ট্রলারের মাঝিসহ চারজন পেছন ছাউনির উপর বসে ছিলেন। তারা সাঁতরে প্রাণে রক্ষা পেলেও ২১ জন শ্রমিক ট্রলারের পাটাতনের নিচের ডেকে ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের মধ্যে ১৮ জনের বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। অপর দুজনের বাড়ি পাশের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল ও বনমালি প্রতাপ গ্রামে। মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে সম্প্রতি তারা ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাদারবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল হাই শ্রমিক সরদারের তত্ত্বাবধানে মুন্সিগঞ্জ যান।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আছাদুর রহমান বলেন, ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আমার ইউনিয়নের ১৭ জন শ্রমিক রয়েছেন।
নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হযেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মন্ডুমালা,দাসমরিচ,মাদারবাড়িয়া ও চন্ডিপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের আত্নীয়-স্বজনের বুক ফাটা কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তাদের শান্তনা দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা ও সহকারি পুলিশ সুপার ফজলে খোদা ওই গ্রাম পরিদশন করেন।
বুধবার শোকার্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খয়রাতি সাহায্য নিয়ে সেখানে পৌঁছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুদুর রহমান। ইউএনও বলেন, এই মর্মান্তক ঘটনায় আমি নিজেই শোকে কাতর হয়ে পড়েছি।

জানুয়ারি ১৭
০৩:৪৬ ২০১৯

আরও খবর