Daily Sunshine

পুঠিয়া থানার এসআই তৌফিক পারভেজের যত অপকর্ম

বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পুঠিয়া থানার বিতর্কিত এসআই তৌফিক পারভেজকে শাস্তিমূলক তিন মাসের জন্য জঙ্গল প্রশিক্ষণের জন্য রাঙ্গামাটি পাঠানো হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়ে মঙ্গলবার তিনি রাঙ্গামাটির উদেশ্যে পুঠিয়া থানা ছাড়েছেন। এসআই তৌফিক পারভেজের শাস্তিমূলক প্রাথমিক ব্যবস্থায় খুশি পুঠিয়া ও চারঘাট এলাকাবাসী। তবে নানা অপকর্মের হোতা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও বিচারের আওতায় এসে শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসআই তৌফিক পারভেজ পুঠিয়া থানায় কর্মরত হলেও সে পরিবার নিয়ে বসবাস করে চারঘাট উপজেলা সদরে। ফলে তার অপকর্ম বিস্তৃত এ দুই থানা নিয়ে। নির্ধারিত একটি সিএনজি নিয়ে তিনি চারঘাটে যাতায়াত করেন। ২০১৪ সালে তিনি চারঘাট থানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে থানায় মাতলামি ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অশালিন আচরণ করাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানা থেকে এসআই তৌফিক পারভেজকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর ২০১৪ সালে তিনি বদলি হন চারঘাট থানায়।
২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার হলিদাগাছিতে গ্রামে অস্ত্র ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেয়ায় এসআই তৌফিক পারভেজকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে এলাকাবাসী। পরে পুলিশের কর্মকর্তারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর দুইমাস পর তৎকালিন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে অশালিন আচরণ করায় ক্লোজ হন এসআই পারভেজ।
এর পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় বদলি হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় থানায় কর্মরত অবস্থায় ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই শিশু অপহরণকারিকে ধরে মোটা অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিাযোগে ক্লোজড হন এসআই তৌফিক পারভেজ।
২০১৭ সালে শেষের দিকে তিনি বদলি হয়ে যান রাজশাহীর দুর্গাপুর থানা। সেখানে কর্মরত অবস্থায় গত বছরের ৬ মার্চ পুলিশের কাছ থেকে পালাতক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেয় এসআই তৌফিক পারভেজ। এ ঘটনায় এসআই পারভেজকে ক্লোজড করা হয়। পরে তাকে পিবিআইতে বদলি করা হয়। সেখান থেকে তদবির করে বদলি নেন বাগমারা থানায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে অশালিন আচরণ করায় যোগদানের সাতদিন পর তাকে বদলি করা হয় পুঠিয়া থানায়।
পুঠিয়া থানায় যোগদানের পর বেড়ে যায় তার অপকর্ম। যার বিস্তার ঘটে পুঠিয়া ও চারঘাট থানা জুড়ে। সর্বশেষ গত ১১ জানুয়ারি রাজশাহী শহর থেকে দুই তরুণ-তরুণী বেড়াতে গিয়েছিলেন পুঠিয়ায় বানেশ^র এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি চায়ের দোকানে চান পান করেন তারা। এর পর তারা দুইজনে ধুমপান করেন। ধুমপান করার অপরাধে তাদের দুজনকে ধরে নিয়ে যায় এসআই তৌফিক পারভেজ। পরে তিনি ওই তরুণ-তরুণীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বিকাশে পাঠাতে বলে। সে টাকা না দিয়ে রাতভর ওই তরুণ-তরুণীকে থানা হাজতে রেখে দেয়। তবে পরের দিন সকালে তরুণীকে ছেড়ে দেয়া হলেও মাদক সেবনের মামলায় ওই তরুণকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয় এসআই পারভেজ।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে নাটোর থেকে পুঠিয়া বেড়াতে আসা একজন সাংবাদিকসহ চার যুবককে তল্লাশী ও জিজ্ঞাবাসাদের নামে এসআই পারভেজ তাদের ধরে নিয়ে যায় একটি নির্জন এলাকার একটি বাগানে। সেখানে গাছের ডাল দিয়ে তাদের বেধরক পেটায় এসআই পারভেজ।
ভুক্তভোগি নাটোরের তেবাড়িয়া এলাকার রায়হানুল ইসলাম রানা বলেন, এসআই পারভেজ তাদের মারপিটের পর মাথায় অস্ত্র ধরে ভয় দেখিয়ে ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে পকেটে ইয়াবা দিয়ে তাদের চালান দেয়ার হুমকি দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে রাজি হয়। বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এসআই পারভেজের কাছ থেকে মুক্তি পায়।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বানেশ^র ট্রাফিক মোড়ে চার যুবকের সঙ্গে অশালিন আচরণ করেন এসআই তৌফিক পারভেজ। এ সময় ঘটনাটি মোবাইল ফোনে রেকর্ড দেয় এশিয়ান টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি। পরে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধরে নিয়ে যায় একটি নির্জন এলাকায়। সেখানে তাদের বেধরক মারপিট করে গভীর রাত পর্যন্ত বেধে রাখে। রাত ২টার দিকে তাদের নিয়ে যায় পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে তাদের কোন পরীক্ষা ছাড়াও শরীরে এ্যালকাহল আছে বলে চিকিৎসকের কাছ থেকে সনদপত্র নেয়। এর পর মাদক সেবনকারি হিসেবে মামলা দিয়ে তাদের জেল হাজতে পাঠায় এসআই তৌফিক পারভেজ।
পুলিশী হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশ না করার পুঠিয়ার জনৈক এক ব্যক্তি বলেন, ভালভাল পরিবারের সন্তানদের ধরে নিয়ে এসে মোটা অংকের অর্থ দাবি করতো এসআই তৌফিক পারভেজ। টাকা না দিলে পকেটে মাদক দ্রব্য দিয়ে অথবা মাদক সেবনকারি হিসেবে চালান দিয়ে দিতো। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা বা পুঠিয়ার প্রত্নতত্ত্ব দেখতে আসা লোকজনকে বেশী টার্গেট করতো তিনি। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘‘এসআই তৈৗফিক পারভেজকে নানা অভিযোগে শস্তিমূলক রাঙ্গামাটিতে জঙ্গল প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তার কাছে এসেছে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। মঙ্গলবার তার রাঙ্গামাটিতে চলে যাওয়ার কথা।’’
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, এসআই তৌফিক পারভেজকে জঙ্গল প্রশিক্ষণের জন্য রাঙ্গামাটি পুলিশ প্রশিক্ষন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ কালিন তিনি পুঠিয়া থানায় সংযুক্ত থাকবেন। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানান তিনি।

জানুয়ারি ১৬
০৩:৫৪ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত