Daily Sunshine

পদ্মায় পানি প্রবাহে রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার : শুস্ক মৌসুমের শুরুতে এবার পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহাসিক গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি কার্যকরের পর বিগত দুই দশকে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে এবারই পদ্মায় এতো পরিমাণ পানি দেখা যাচ্ছে। ফলে এবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে আশানুরূপ পানি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গায় ৭০ হাজার কিউসেক পানি থাকলে দুই দেশের মধ্যে অর্ধেক করে বন্টন হবে। সেখানে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানি থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। আর ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি আসবে বাংলাদেশে।
তবে শর্ত আছে যে, দুই দেশই শুষ্ক মৌসুমের ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১০ দিন পর পর ১০ দিন গ্যারান্টিযুক্তভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে বাংলাদেশ এভাবেই পানি পেয়ে আসছে। কিন্তু এ নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেননা, গ্রীষ্মের শুরুতেই শুকিয়ে যায় এক সময়ের খরস্রোতা পদ্মা। ধূ-ধূ বালুচরে পরিণত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অবস্থায় পদ্মার প্রবেশদ্বার রাজশাহী এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ওপর পড়ে বিরূপ প্রভাব। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে এখন নদীতে যেভাবে পানি পাওয়া যাচ্ছে সেভাবে আগামী মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত পানি পাওয়া গেলে কৃষিকাজে কোনো সমস্যা হবে না।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চুক্তি কার্যকরের ২৩ বছর শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতীয় যৌথ পানি বিশেষজ্ঞ দল পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। সেখানে পানির প্রবাহ পরিমাপ করে দলটি দেখেছে, এবার বছরের প্রথম দশ দিন পানি এসেছে আগের চেয়েও বেশি।
এবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় জল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পানি কমিশনের উপ-পরিচালক আনন্দ প্রকাশ কান্দিয়াল এবং সহকারী পরিচালক শীভারাম। আর বাংলাদেশে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জহুরুল হক, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং সেকশন অফিসার মোফাজ্জল হোসেন।
গত রোববার যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীতে গড় পানির প্রবাহ ১ লাখ ১ হাজার ২৪ কিউসেক। চুক্তি অনুযায়ী, এ সময় ফারাক্কায় বাংলাদেশের ৬১ হাজার ২৪ এবং ভারতের ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। বাস্তবে সেটাই হয়েছে। তবে এই ১০ দিন বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে পানির প্রবাহ পাওয়া গেছে ৬৮ হাজার ১৬১ কিউসেক।
ভারত চুক্তি অনুযায়ী পানি দিলেও বাংলাদেশে বেশি পরিমাণ পানির প্রবাহ দেখতে পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নজিবুর রহমান এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন, পদ্মা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারত যে পরিমাণ পানি দেয় তার চেয়েও বেশি পানি এখানে দেখা যেতে পারে।
নজিবুর রহমান জানান, এমনটি শুধু এ বছরই হয়েছে তা নয়। এর আগেও এমন দেখা গেছে। এর মধ্যে গত বছরের ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ফারাক্কায় গঙ্গার পানির প্রবাহ ছিল ৮৮ হাজার ৭৮৩ কিউসেক। তখন চুক্তি অনুযায়ী ভারত ৪০ হাজার ও বাংলাদেশ ৪৮ হাজার ৭৮৩ কিউসেক পানি নেয়ার পর দেখা যায়, পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ৫৬ হাজার ৫৪ কিউসেক।
এবার রেকর্ড পরিমাণ পানি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জহুরুল হক বলেন, আমরা চুক্তি অনুযায়ী পানি পাচ্ছি। তবে শুস্ক মৌসুমের শুরুতে পদ্মায় এতো বেশি পরিমাণ পানি গত দুই দশকের মধ্যে রেকর্ড।
জহুরুল হক বলেন, নদীতে স্বাভাবিকের চেয়েও পানি বেশি থাকলেও তা কাজ লাগছে না। প্রায় সব পানি সাগরে চলে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত এভাবে পানি পাওয়া গেলে কৃষি কাজে কোনো সমস্যা হবে না। পানি দরকার সে সময়।
রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির পরিমাপ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক। তিনি জানান, গত ১ জানুয়ারি পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৬৮ মিটার। আর সোমবার দুপুরে এই পানি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৭ মিটারে। ভরা মৌসুমে এবার সর্বোচ্চ পানির প্রবাহ ছিল গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা মাপা হয় ১৭ দশমিক ৩৪ মিটার। এনামুল বলেন, এবার এখনও পর্যন্ত পানির প্রবাহ আগের থেকে বেশি। অন্যান্য বছর এই সময়ে এতো পানির প্রবাহ থাকে না।
ভারতের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চুক্তি হয়। এ দিনে ভারতের হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ৩০ বছর মেয়াদি পানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পানির নায্য হিস্যা খুব কম সময়ই পেয়েছে। তবে এবার শুষ্ক মৌসুমের শুর্বতে তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।

জানুয়ারি ১৬
০৩:৫৩ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

দুরারোগ্য মিনিংগোসেলে আক্রান্ত শিশু ইমলা

দুরারোগ্য মিনিংগোসেলে আক্রান্ত শিশু ইমলা

স্টাফ রিপোর্টার: দুরারোগ্য মিনিংগোসেল রোগ নিয়ে পৃথিবীতে আসা শিশু আয়াতী খাতুন ইমলা। বয়স মাত্র ১০ মাস। ছোট্ট এই শিশুটির এখন পরিবারের সবার কোলে আদরে আদরে বেড়ে ওঠার সময়। কিন্তু দুরারোগ্য রোগ নিয়ে শিশুটির যন্ত্রণার সময় কাটে বিছানায়। তার কান্নার শব্দে কষ্ট পায় পুরো পরিবার। কিন্তু ব্যবস্থা হচ্ছে না তার চিকিৎসার।

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

|সানশাইন ডেস্ক: ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন পদে ৫৪১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা

বিস্তারিত