Daily Sunshine

টানা আন্দোলনে স্থবির রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার : অস্থায়ী কর্মচারীদের টানা আন্দোলনের মুখে স্থবির হয়ে পড়ছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম। আন্দোলনে থাকা কর্মচারীরা কোন কাজ করছে না। পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চলা অনিয়মের তদন্তও চলছে। সব মিলিয়ে নানান সমস্যা আরো বেশি জটিল হয়ে উঠছে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে দুর-দুরান্ত থেকে নানা কাজে আসা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কালো ব্যাচ ধারণসহ পর্যাক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি তারা পালন করবেন। তারা ২০ থেকে ২২ বছর ধরে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারা এ থেকে পরিত্রাণ চান। তারা তাদের অস্থায়ী চাকুরি অনতিবিলম্বে স্থায়ীকরণের দাবি জানান।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (অস্থায়ী) কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুকুল শেখ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাহীন এবং আল-মামুন জানান, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ৬২ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। যারা দিনের পর দিন একইভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন।
এদিকে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কর্মচারীরা তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির কারণে অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মচারী অফিসে কোনো কাজ করছে না। আবার বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও সচিব তরুণ কুমার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আমিন প্রামাণিক অফিশিয়াল কাজের কথা বলে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিশেষ করে চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঢাকায় থাকায় শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন ফাইল স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। আবার তিন কর্মকর্তা একযোগে ঢাকায় থাকায় মূলত স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘বিদ্যালয়ের জরুরি একটি কাজে গত কয়েকদিন ধরে তিনি ঘুরছেন। কিন্তু শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ তিন কর্মকর্তা না থাকায় প্রতিদিনই তাকে ঘুরে যেতে হচ্ছে।
রাজশাহীর নওগাঁ থেকে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এসেছিলেন আকবর হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, তার কিছু সনদ হারিয়ে গেছে। সেগুলো নতুন করে উত্তোলনের জন্য ঘুরছেন তিনি। বোর্ডের কর্মকর্তারা না থাকায় কর্মচারীরাও কোনো কাজ করছেন না। ফলে গত কয়েকদিন ধরে তিনি এসে ঘুরে যাচ্ছেন।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিসিয়াল কাজে আমি বাইরে ছিলাম। এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের তদন্ত চলছে। এ নিয়ে এমনিতেই রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানের অনিয়মের তদন্ত চলার কারণেই তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অফিস করছেন না। গত প্রায় মাস খানেক ধরে চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিসে আসেন না।

জানুয়ারি ১০
০৩:৩০ ২০১৯

আরও খবর