Daily Sunshine

উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে জনসুরক্ষা নীতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। দেশি ও বিদেশী বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপি তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে থাকে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে পরিবেশ-প্রতিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বড় বড় বিনিয়োগে দেশ যেমন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তেমন ওই এলাকার যে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে। এসব নেতিবাচক প্রভাব অল্প হলেও বিনিয়োগের সম্ভাবনার জন্য বাধা। তবে এসব বাধা খুব সহজেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব। যেসব এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম চলবে ওইসব এলাকার জনগোষ্ঠির স্বার্থ, অধিকার ও পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা করাটা খুব বেশি প্রয়োজন। এরজন্য পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। উন্নয়ন কাজ শুরুর আগে পরিচ্ছন্ন পূর্ব বাংলাদেশ জন-সুরক্ষা নীতি (খসড়া) অনুযায়ি পরিকল্পনা করলেই এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্ঠভাবে উল্লেখ আছে। ৭ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। ৭ (২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ন, ততখানি বাতিল হইবে। ১৮ ক. রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। অতএব, মানুষ ও পরিবেশের পক্ষে সকল প্রকারের সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অব্যাহত রাখার জন্য গৃহীত উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষতিসমুহ পুরোপুরি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এজন্য জন-সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জন-সুরক্ষা নীতিতে (খসড়া) দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত জমির উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির স্বার্থ, অধিকার ও পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা করা। দেশের সার্বিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জনগণের উপর দায় বিবেচনা করে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্জিত মুনাফা; প্রকল্প দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ ও দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নে কাজে লাগানো বিষয়টি উল্লেখ আছে।
এই নীতিমালার প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ হচ্ছে দেশি ও বিদেশী বিনিয়োগ দ্বারা নির্মিত ও নির্মিতব্য শিল্প-কারখানা, ইকো পার্ক, বন্দর, সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অন্যান্য অবকাঠামোভিত্তিক প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। যে কোন শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠা বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে। নতুনভাবে নগরায়ন বা পুরাতন নগর অঞ্চল সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে। ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন বা ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে।
রাজশাহীতে নির্মানাধীন হাইটেক পার্ক। পার্কটি নির্মান হলে ১৬ থেকে ১৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এটি রাজশাহী শুধু না দেশের উন্নয়নের জন্যই বিরাট প্রকল্প। প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলেন স্থানীয় মানুষ। এদের মধ্যে জমি নিয়ে ভুক্তভোগী শাহিন, জাহাঙ্গির আলম, মহিদুল ইসলাম, বাবুল, আতাউর রহমানসহ কয়েকজন জানান, নির্মানাধীন হাইটেক পার্ক এলাকায় প্রায় ৭০টি পরিবার বসবাস করতো। তাদের কোন ধরণের পুনর্বাসন করা হয়নি। কাউকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, আবার কাউকে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই পরিবারগুলো এখন আশেপাশে বিভিন্ন জায়াগায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কষ্টে জীবন-যাপন করছে। পরে বিষয়গুলো নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বা চলছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জন-সুরক্ষা নীতি (খসড়া) নিয়ে একটি সেমিনারে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, বিভিন্ন উন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের মধ্যে বৈষম্য, অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। দেশের স¦াভাবিক বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এসব কাজে একটি পক্ষই শুধু সুবিধা ভোগ করে, সাধারণ মানুষ সেই সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে এই জায়গাগুলো নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন বখতিয়ার আহামেদ বলেছিলেন, উন্নয়নের ফলে বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। উন্নয়ন মানেই হচ্ছে এটি ড্যামেজ করবে, এটি ড্যামেজিং একটি প্রসেস। আমাদের ফ্যাক্টটি হচ্ছে ড্যামেজ প্রিভেনশান করা। ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠা এটিও ড্যামেজ প্রিভেনশানের একটি পলিসি।
তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের বিষয়ে সবাই একমত। উন্নয়ন হতে হবে এটা সবাই চাই। কিন্তু উন্নয়ন যে কি? এটা সবার আগে বুঝতে হবে। সাধারণ মানুষদের ব্যক্তি জীবনও তাদের কর্মজীবনের সুরক্ষা দিয়েই তারপর উন্নয়ন করা উচিত।

জানুয়ারি ০৯
০৩:১৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে মাস্তুল আকৃতির মজবুত দুইটি পোল। প্রতিটি পোলের উপর রিং বসিয়ে তার চতুরদিকে বসানো হয়েছে উচ্চমানের এলইডি লাইট। আর সেই লাইটের আলোয় আলোকিত বিস্তৃত এলাকা। শুধু শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর নয়, এভাবে মহানগরীর আরো গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি চত্বর আলোকিত হয় প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত