Daily Sunshine

মন্ত্রিসভায় চমক

২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী
সানশাইন ডেস্ক : সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন। শপথ নেওয়া জন্য ইতোমধ্যে তারা টেলিফোনে ডাক পেয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রবিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদের এ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। নিম্নে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও তাদের দফতরের তালিকা তুলে ধরা হলো:
২৪ জন মন্ত্রী : আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়, ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, মো; আব্দুর রাজ্জাক কৃষি মন্ত্রণালয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, মো. হাছান মাহমুদ তথ্য মন্ত্রণালয়, আনিসুল হক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আ হম মোস্তফা কামাল অর্থ মন্ত্রণালয়, তাজুল ইসলাম স্থাণীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ডা. দীপু মনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এম এ মান্না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন শিল্প মন্ত্রণালয়, গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়, সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিপু মুনশী বানিজ্য মন্ত্রণালয়, নুরুজ্জামান আহমেদ সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়, শ ম রেজাউল করিম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মো. শাহাবুদ্দিন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণারয়, বীর বাহাদুর উ শে শিং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়, মো. নুরুল ইসলাম সুজন রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্থাপতি ইয়াফেজ ওসমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মোস্তফা জব্বার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
১৯ জন প্রতিমন্ত্রী : কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প মন্ত্রণালয়। ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। আশরাফ আলী খান খসরু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মুন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জাকির হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। জাহিদ ফারুক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শরীফ আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কে এম খালিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ডা. মো. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তিন জন উপমন্ত্রী : বেগম হাবিবুন নাহার, পরিবশে ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। একে এম এনামুল হক শামীম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আত্মীয়, বিতর্ক ও হেভিওয়েট মুক্ত : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো এক বড় চমক। তার চেয়েও বড় চমক হলো নতুন মন্ত্রিসভা। নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী যেমন সৎ এবং নিষ্ঠাবানদের নিয়েছেন, তেমনি পুরনো দলের হেভিওয়েটদের বাদ দিয়েছেন। তরুণদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা আরেকটি ঝুঁকিকে আলিঙ্গন করলেন। এই মন্ত্রিসভা শেখ হাসিনার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০৮ সালের চেয়েও এটি আনকোরা মন্ত্রিসভা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ এবং সরকারের নতুন যাত্রাপথ উদ্বোধন করলেন। এই মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা প্রমান করলেন তিনি অত্যন্ত সাহসী। এই মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা চমক নয়; বরং সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।
হেভিওয়েট কেউ নেই : সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের কোন হেভিওয়েট নেতাকে নেয়া হয়নি। এমনকি সৎ এবং নিষ্ঠাবান হিসেবে পরিচিত, শেখ হাসিনার দু:সময়ের পরীক্ষিত বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটা ছিলো নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক। সম্ভাবত দলের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমুর মতো হেভিওয়েটদের বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতেই মতিয়া চৌধুরীকে বাদ দেয়া হয়েছে।
কোন আত্মীয় নেই : এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তার কোন কূলের কোন আত্মীয় স্বজনকে স্থান দেয়নি। বিগত এই মন্ত্রিসভাতেও প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রিসভায় ছিলেন। প্রথম দফায় তিনি প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এবার মন্ত্রিসভায় তাকে বাদ দেয়াটাকে অনেকে বলছেন অবিশ্বাস্য। একই সঙ্গে শেখ ফজলুল করিম সেলিম তৃতীয় বারের মতো মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হলেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে শেখ সেলিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ : অন্তত তিনটি গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ আনকোরা এবং নতুন মুখ নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বিষ্ময়কর ছিল কুমিল্লা-৯ এর সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া। এই মন্ত্রণালয় সাধারণত দলের সাধারণ সম্পাদককে দেয়া হয়। কিন্তু সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে ঐ পদে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে দিয়ে শেখ হাসিনাই প্রথাভঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু এবার এই মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার রাজনীতিক অভিজ্ঞতা খুবই কম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মুখ টিপু মুন্সীকে। টিপু মুন্সী নিজেই একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের নানা মেরুকরণ তিনি কীভাবে সামলাবেন সেটা দেখার বিষয়। প্রথমবার এমপি হয়ে প্রথমবারই মন্ত্রী হলেন শ ম রেজাউল করিম। তাকে দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি এরকম একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ের চাপ কীভাবে সামলাবেন সেটাই দেখার বিষয়।
বিতর্কিত কেউ নেই : নতুন মন্ত্রীসভায় বিতর্কিত কাউকেই রাখা হয়নি। বিগত মন্ত্রিসভায় যারা বিতর্কিত ছিল এমনকি দলে যারা বিতর্কিত তাদেরও মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই চমক সফল হবে কি না তা র্নিভর করবে নতুন মন্ত্রীদের কার্যক্রমের উপর।

জানুয়ারি ০৭
০৩:২৭ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

শাহ্জাদা মিলন: বাংলাদেশের অন্যতম বিভাগীয় শহর রাজশাহী। সিল্কসিটি, আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সারা দেশে রাজশাহী। তবে এসব পরিচয় ছাপিয়ে রাজশাহী ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। অসংখ্য নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। এর সুফলে রাজশাহীতে বছর বছর বাড়তে ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা। তবে সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। রাজশাহীতে রয়েছে রাজশাহী

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত