Daily Sunshine

রাজশাহীতে রেশম চাষ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ

সরকার দুলাল মাহবুব: রাজশাহীতে আবারো শুরু হয়েছে পলু পোকার চাষ (রেশম চাষ)। জেলার হতদরিদ্র নারীরা রেশম চাষ করে সংসারে আর্থিক যোগান দিচ্ছেন। রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ড থেকে তাদেরকে তুঁত গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। পাহারাদারের ব্যবস্থাও করেছে এই প্রতিষ্ঠান। সুদিন ফেরার অপেক্ষায় রেশম সংশ্লিষ্টরা।
হাজার প্রাণের বিনিময়ে তৈরী হয় রেশমী শাড়ি। মথ জাতীয় রেশম পোকাটিই মুলত রেশমী বস্ত্রজাত পণ্যের মুল কেন্দ্র বিন্দু। আর তুঁত গাছকে কেন্দ্র করেই এদের জীবন চক্র। এসব মথ বা রেশম প্রজাপতির এখানেই জন্ম এখানেই মৃত্যু।
তুঁত গাছ বাংলাদেশের সর্বত্র জম্মে। তবে রাজশাহী অঞ্চলে বেশী। বাংলাদেশ সেরিকালচার বোর্ড রেশম চাষ ও বিকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তুঁতগাছ সাধারণত ফসলের মাঠে, জমির আইলে, পথের ধারে ও বাড়ীর আঙগীনায় চাষ করা হয়। রেশমপোকারা এর পাতা খায়। গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে ডালায় রেখে তাতে রেশম মথের ডিম ছেড়ে দেয়া হয়।
পাতার বুকে ডিম রাখার পরে এগুলি ফুটে পোকার জম্ম হয়। পোকাগুলি জম্মের পর থেকেই এরা পাতা খাওয়া শুরু করে ও দ্রুত বড় হতে থাকে। পোকাগুলি বড় হলে তাদেরকে রাখা হয় বিশেষভাবে তৈরী একটি চন্দ্রকী ডালে। এটাকে ঘরের কোণে রেখে দেয়া হয় যতন করে। রেশম পোকা থেকে গুটি পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি একেবারে কুঠির শিল্প। গ্রামীন গৃহবধুরা এ শিল্পের সাথে বেশী জড়িত। ঘরে বসেই কাজটি করা যায়। পোকা একটু বড় হওয়ার পরে এর পায়ুপথে নির্গমিত কশ থেকে গুটি পেচানো শুরু হয়। নিজ কশ নি:সৃত আশ বা ফিলামেন্ট এর সমাহারে তৈরী গুটির ভিতরে পোকাটি আবদ্ধ হয়। জম্ম নেয় রেশমগুটির। বৈচিত্রময় এই পৃথিবীতে বিচিত্র জীবনের এক উপাখ্যান এই রেশমগুটি। রেশমগুটিকে প্রক্রিয়াজাত শেষে রেশম সুতা বের করা হয়। রেশম উন্নয়ন বোর্ড দেশের রেশম চাষীদেরকে ডিম সরবরাহ করে থাকে।
২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমনে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ধ করা হয় রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁওয়ের সরকারি রেশম কারখানা। রাজশাহী তার অতিত ঐতিহ্য হারাতে থাকে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করা হলেও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও সাড়া না পাওয়ায় অবশেষে ২০১৩ সালে এ কারখানা দুটি প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কাছ থেকে ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারখানা দুটি চালুর মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও রেশম শিল্পের সম্প্রসারণে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপর থেকে আস্তে আস্তে প্রসার লাভ করছে এ শিল্পের কাঁচামাল। রোববার সরোজমিন জেলার মোহনপুরের চাঁদপুর (লপাড়া) দেখা হয় তুঁত গাছ পাহারাদার গৃহবধূ হালিমা ও জোৎস্নার সাথে। পাহারার সাথে সাথে তারা তুঁতগাছ ছাটার কাজ করছেন। গৃহবধূ হালিমা বেগম জানান, রাজশাহী রেশম বোর্ড থেকে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা দেয়া। এই টাকাতে তাদের ছেলে-মেয়েদের কাপড় ও আনুসাঙ্গিক খরচ চলে যায়। আর ছাটা গাছে নতুন পাতা পাতায় মথের খাদ্য। তিনি আরো জানান, একটি বাড়ি একটি খামারের সদস্যরা পলু (রেশম) চাষ করছেন।
পবা উপজেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ম্যানেজার আলাউদ্দিন মন্ডল জানান, বছরে চারবার তুঁত গাছ ছাটাই করতে হয়। ছাটাইয়ের ৫৬ দিনের মধ্যেই পাতা তৈরী হয় (পলুর খাদ্য)। ভাল খামারী হলে ৯০ থেকে ১০০ কেজি পাতা উৎপাদন করতে পারেন। প্রতি কেজি পাতা বিক্রি হয় ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকা। আমাদের এ এলাকায় কম হলেও ভোলাহাটে বাণিজ্যিকভাবে তুঁত গাছের চাষ হয়। আর এই উৎপাদন বছরে চারবার হয়ে থাকে। এতে একজন ভাল চাষি বছরে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘হতদরিদ্রদের পূর্ণঃবাসনে সরকারিভাবে খামারীদের রেশম উৎপাদনের সকল কিছু দেয়া হচ্ছে। পবা সার্কেলের মোহনপুরে পাঁচটি ব্লকে ৫ হাজার তুঁতগাছ লাগানো হয়েছে। পবা সার্কেলে চাষিদের জন্য সরকারিভাবে ২২টি রেশম ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই একদিকে হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বি করা এবং অন্যদিকে রাজশাহীর রেশমের সুদিন ফিরে পাওয়া’।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আনিস-উল-হক ভূঁইয়া বলেন, সরকার রেশম শিল্পের পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রেশম চাষের জন্য চরাঞ্চল ও খাসজমি শনাক্তেও প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া কারখানা চালু করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে চার লাখ তুঁত চারা বিতরণ করেছে বোর্ড। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে রেশম শিল্প উন্নয়ন-সংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশীয়ভাবে কাঁচা রেশমের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কারখানা দুটি চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে চাষী, রিলার ও উইভার মিলিয়ে এ অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া রেশম গুটির প্রতিযোগিতামূলক বাজারও তৈরি হবে।

জানুয়ারি ০৭
০৩:২৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত