Daily Sunshine

লোকসান ঠেকাতে চিনিকল ঘিরে বহুমুখি উদ্যোগ

বছরে ৩ মাস চালু, ৯ মাস বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী চিনিকলসহ দেশে সরকারি মালিকানাধীন ১৫টি চিনিকল রয়েছে। এসব চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের মুখ দেখে আসছে। যেসব কারণে চিনিকলগুলো লোকসানের মুখ দেখছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে এসব চিনিকল বছরে চলে মাত্র ৩ মাস। বছরের বাকি সময় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অলস বসে থাকে। এতে তাদের বেতন-ভাতায় সরকারি অর্থের একটি বড় অংশ অপচয় হয়। চিনিকলগুলোর বহুমুখি ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে খুব সহজেই লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতো বলে শিল্প সংশ্লিষ্ট অনেকেই মতামত দিয়েছেন।
দেশে সরকারি মালিকাধীন চিনিকলগুলো হলো, জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড, সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লিমিটেড, রংপুর সুগার মিলস লিমিটেড, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড, নর্থবেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেড, নাটোর সুগার মিলস লিমিটেড, মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস লিমিটেড, কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড, জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেড, ফরিদপুর সুগার মিলস লিমিটেড, রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেড এবং কেরু অ্যান্ড কোং সুগার মিল। এগুলো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩০ থেকে ১৯৬০ এর মধ্যে।
এসব চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে। প্রতি বছর ঋণের বোঝায় মাথা ভারি হচ্ছে। অথচ বেসরকারি চিনিকলগুলোর চিত্র আলাদা। সারা বছর মিলগুলো চালু থাকার জন্য লাভের মুখ দেখছে তারা।
যেসব কারণে চিনিকলগুলো লোকসানের মুখ দেখছে তার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে বছরে ৯ মাস চিনিকল বন্ধ থাকা। চিনিকল বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে সারাবছরের বেতনভাতা দিতে হয়। উৎপাদন নেই, কিন্তু বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, চিনিকলগুলোয় শুধু চিনি উৎপাদন করে লাভজনক করা যাবে না। চিনিকলের কর্মচারীদের বছরে মাত্র ৩ মাস কাজ থাকে। বাকি ৯ মাস তারা অলস সময় কাটান। আখমাড়াই মৌসুম শেষ হলে চিনিকলগুলোয় অন্য পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা আরো জানান, বেসরকারি চিনিকলগুলো চিনি পরিশোধন করা হয়। উৎপাদন নয়। ওই কলগুলোর র-সুগার আমদানি করা হয় বলে সারাবছরই মিলগুলো চালু রাখা যায়। সরকারি চিনিকলগুলো আখের অভাবে সারাবছর চালু রাখা যায় না।
এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই জানিয়েছেন, আখের কোনকিছুর অব্যহৃত থাকেনা। কিন্তু সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণে শ্রমিকদের বসে বেতন দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অনেক কাঁচামাল নষ্ট হয়। আঁখ থেকে মাত্র ৭ ভাগ চিনি উৎপাদন হয়ে থাকে। অবশিষ্ট উপাদানগুলো নষ্টই হয়ে যায়। অথচ ঝোলাগুড় উৎপাদন হয়, ঝোলাগুড় থেকে মূল্যবান রেক্টিফাই স্প্রিট হয়, মাড়াইকৃত আখের ছোবরা থেকে কাগজ, বোর্ড এবং জ্বালানি হয়, ফ্রেশমার্ট থেকে উন্নত মানের জ্বালানি এবং জৈব সার উৎপাদন হয়। চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি এসব ছোট ছোট শিল্প যদি চিনিকলগুলোতে চালু করা হয় তাহলে শ্রমিকরাও একদিকে সারা বছর উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকবে আবার উৎপাদনেও আসবে কয়েক পদের নতুনত্ব।
অথচ এসব কাঁচামাল চিনিকলগুলোতে নষ্ট হচ্ছে। রাজশাহী চিনিকলগুলোতে আঁখের ছোবড়াগুলো অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। পানির দামে সস্তা জ¦ালানি হিসেবে (১৫ টাকা বস্তা) কিনে নিয়ে যাচ্ছে আসেপাশের মানুষ।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান জানান, কাঁচামলগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে এখানকার শ্রমিকদের সারা বছর কাজে লাগানো যেতো। এতে যেমন নতুন সব পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হতো তেমন এসব পণ্য বিক্রি করে চিনিকলগুলোর লোকসান থেকে বেরিয়ে আসার পথ পেতো।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি জানান, আঁখের কোন জিনিসই ফেলে দেয়ার নয়। এসব করতে গেলে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। এমন কিছু করতে পারলে অবশ্যই ভালো হবে।
তিনি আরো জানান, এসব কাঁচামাল নিয়ে বেসরকারিভাবের ছোট ছোট উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তবে অনেক পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। আগামীতে সরকার সুযোগ-সুবিধা দিলে এসব ইন্ডাস্ট্রিজও করা সম্ভব।

জানুয়ারি ০৬
০৩:৩১ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

যৌবনা পদ্মায় মানুষের কোলাহল

যৌবনা পদ্মায় মানুষের কোলাহল

রোজিনা সুলতানা রোজি : ভাদ্রে এসে যৌবনে ফিরেছে রাজশাহীর পদ্মা নদী। কতদিন আগে হাওয়ায় ঢেউয়ের নাচন ছিলো পদ্মার প্রবাহে তা প্রায় ভুলতেই বসেছিলো নদীপারের মানুষ। তবে এবার স্বরূপে ফিরে এসেছে এ নদী। এখন আবারো সেই যৌবনা পদ্মা। শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রে ফুলে-ফেপে উঠেছে এককালের যৌবনা প্রমত্তা পদ্মা। শরতের শুভ্র মেঘ আর

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত