Daily Sunshine

এবার পেঁয়াজ চাষে কৃষকের উৎসাহ

জামিলুর রহমান লিটন, সুজানগর: বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিল হিসাবে পরিচিত সুজানগর উপজেলার গাজনার বিলসহ এই উপজেলার বেশিরভাগ ফসলি জমিতে নতুন পেঁয়াজের দানা রোপন শুরু করেছেন কৃষকেরা। সুজানগর উপজেলার কৃষকদের এই পেঁয়াজই প্রধান অর্থকারী ফসল এবং এটি তারা জমিতে রোপন করবে পুরো জানুয়ারী মাস জুড়ে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায় এবারে এ উপজেলায় ১৬হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে নতুন এ দানা পেঁয়াজ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এদিকে গাজনার বিলে গিয়ে দেখাযায় এ দানা পেঁয়াজ রোপন করতে দিন মুজুর হিসাবে কাজ করছে উপজেলার গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা।
দিনমুজুর হিসাবে পেঁয়াজের দানা রোপন করতে আসা উপজেলার মানিকহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র রাকিবুল ইসলাম বলেন ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা দেবার পর থেকে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে ও জানুয়ারি মাসে ক্লাস কম হয় তাই বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করে সংসারে সচ্ছলতার আনার জন্য তিনি এ কাজ করছেন।
উপজেলার রাণীনগর ইউনিয়নের বিলগাজনা কলেজের ছাত্র শরিফ হোসেন বলেন তাদের মত আরো অনেক ছাত্রই দিনপ্রতি ২৭০ টাকা থেকে ৩০০টাকা করে এবং দিনে দুইবেলা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে দিনমুজুর হিসাবে এই পেঁয়াজের দানা রোপন করে থাকেন।
বজলার রহমান নামে অন্য এক কলেজ ছাত্র বলেন গতবার তিনি পেঁয়াজ রোপনের মৌসুমে ১২হাজার ৫শ টাকা রোজগার করেছিলেন আর এবারের মৌসুমেও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন বলে জানান। আর এ রোজগারকৃত টাকা দিয়ে এবারে একটি ভাল মোবাইল ফোন, বই ও জামা কাপড় কিনবেন বলে জানান।
মধুপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন তিনি এবারে ২২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের দানা রোপন করবেন আর ইতিমধ্যে ৪ বিঘা জমিতে রোপন করেছেন। তিনি আরো জানান প্রতি বিঘা জমিতে এই পেঁয়াজের দানা রোপন করতে ১৬ থেকে ২০ জন দিনমুজুর হিসাবে কাজ করে থাকেন আর এদের মধ্যে বর্তমানে বেশিরভাগই স্কুল কলেজের ছাত্ররা কাজ করছেন। আজিজুর রহমান নামে অন্য আরেকজন কৃষক বলেন গ্রাম এলাকার ছাত্ররা এ কাজটি ভাল পারেন এবং মুজুরীও কম তাই তারা এ কাজে ছাত্রদের দিনমুজুর হিসাবে নিয়ে থাকেন এছাড়া এই পেঁয়াজ রোপনের মৌসুমে রংপুর, বগুড়া, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ দিনমুজুর হিসাবে এই পেঁয়াজের দানা রোপন কাজের জন্য এসে থাকেন।
সুজানগর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক পল্লীগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আব্দুস শুকুর বলেন এই পেঁয়াজ লাগানোর মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের অসংখ্য ছাত্ররা দিনমুজুর হিসাবে কাজ করে থাকে আর এ জন্য এ সময় গ্রাম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের উপস্থিতির হার অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম থাকে।
শাহজাহান আলী মন্ডল বলেন এই সময়ে সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা মাঠে পেঁয়াজের দানা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান সঠিক ভাবে রোপন, পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের মত এবারেও এই উপজেলায় দানা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে।

জানুয়ারি ০৬
০৩:২৯ ২০১৯

আরও খবর