Daily Sunshine

সরিষার হলুদ ছড়িয়েছে মাঠে

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। এ বছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
উপজেলার সমতল এলাকার বাইরেও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ করা হয়েছে। পদ্মার বুকে জেগে উঠা বিশাল এ চরের মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছে কৃষকরা। তাদের মনে এখন নতুন করে আশা সঞ্চার করেছে সরিষা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, গত বারের চেয়ে এবার- মসুর, গম ও বিভিন্ন শীত কালিন সবজির চাষ বেশী হওয়ায়, আনুপাতিক হারে সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। এ দিক থেকে সমতল এলাকার চেয়ে অনেক বেশি সরিষার চাষ হয়েছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলায় ১২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে।
গত বছর আবাদ করা হয়েছিল ১৪০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ০.৯মে. টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা গত বারের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক ফজলু শিকদার জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার মতে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার লাভ হবে। তিনি বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করে না। এই সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরী হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
অনুরুপ কথা বলেন, সমতল এলাকার আমোদপুর গ্রামের কৃষক মহাসিন আলী। তিনি জানান, গতবছর সরিষার চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (নিম্নচাপ) হওয়ায় তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাই এবার সরিষার চাষের পাশা-পাশি সব এলাকাতেই তিনিসহ অন্যান্য কৃষকরা পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ও গম আবাদের দিকে বেশি ঝুকেছেন।
উপজেলা কুষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, উপজেলার বি¯ীÍর্ণ চরাঞ্চলে পলি জমে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার চাষ করা হয়েছে। বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রশন করেন।

জানুয়ারি ০৫
০৩:৩৮ ২০১৯

আরও খবর