Daily Sunshine

শিবগঞ্জে আখের ফলন বিপর্যয়

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চিনিকলের জোনভূক্ত না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তথা শিবগঞ্জের আখ চাষীরা ও ব্যবসায়ীরা আখ মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই আখ মাড়াইয়ের সময়ে জেলায় এবছর আখ ফলনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। উৎপাদন অনেক কম হওয়ায় দিশেহারা কৃষক। কোন কোন জমিতে কৃষকের খরচই উঠবে না বলছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া আখের গুড়ের দামও কম হওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছেনা ব্যবসায়ীদের। আখের জমিতে এবছর ভাইরাস জনিত মোড়ক রোগে জমিতে আখের ফলন হচ্ছে না। অনেক জমির আখ একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় আখের চাষ হয়েছে এবছর ৭ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। এবছর আখের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলন বিপর্যয়ের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবেনা বলে মনে করছেন চাষীরা ও কৃষি বিভাগ। গতবছর চাষ হয়েছিলো ৭ হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে। তবে আখের জমিতে রোগ-বালায় এর কারণে ফসলের ক্ষতির বিষয়ে একমত বলছেন চাষী ও কৃষি বিভাগ। আর ফলন বিপর্যয়ের দোষ চাপাচ্ছেন একে অপরের ঘাড়ে। প্রায় অর্ধেক জমির ফলন বিপর্যয় হলেও কৃষি বিভাগ বলছেন মাত্র ১৫০ হেক্টর আখ জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে।
সরজমিনে কৃষক ও চাষীদের কাছ থেকে জানা গেছে, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পুঠিমারী, পিয়ালিমারী বিলসহ অন্যান্য মাঠে হাজার হাজার একরের এই পুরো মাঠে রোগে আক্রান্ত হয়ে আখের জমির ফলন বিপর্যয় ঘটলেও দেখা মিলেনি কৃষি অফিসারদের। খোঁজও নেয়নি কৃষকদের বা ব্যবসায়ীদের কৃষি বিভাগ। ফলন বিপর্যয়ের কারণে কৃষকদের অবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে।
এবছর আখের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ মেট্রিক টন। তবে আখের আগা কাটা রোগসহ নানা রোগ বালায় এর কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়া সম্ভব হবে না।
কৃষক ও চাষী মাসুদ, সালাম, শামীমসহ অনেকেই বলছেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘানি গুড় হয়। কিন্তু এবছর এক বিঘা জমিতে গুড় হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ ঘানি। এক বিঘা জমিতে যেখানে ১৮ থেকে ২০ মন গুড় হওয়ার কথা, সেখানে হচ্ছে ৪ থেকে ৫মন। এক বিঘা জমির আখের মূল্য ১৮ হাজার, ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা। শত শত বিঘা জমির আখের জমিতে ফলন বিপর্যয় হওয়ায় এক বিঘা জমিতে চাষী পাচ্ছে মাত্র ৫ হাজার টাকা, কোন জমি একেবারেই নষ্ট। অনেক ব্যবসায়ী অন্যের জমির আখ ক্রয় করে মাড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারাও পড়েছেন চরম বেকায়দায়। ফলন অনুমান করে আখের জমি ক্রয় করে উঠছেনা কেনা দামও। আলাদা ও উন্নত জাতের আখ চাষের আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষকরা।
কৃষকরা আরও জানায়, এক বিঘা জমিতে বীজ লাগে প্রায় ৩ হাজার টাকা। এছাড়া এক বিঘা জমিতে একবছরে খরচ হয় সবমিলিয়ে ১০ হাজার টাকা। প্রথম বছর বেশী খরচ হলেও আখের জমিতে ফলন পাওয়া যায় ২ থেকে ৩ বছর। কিন্তু এবছর আখের জমিতে রোগের প্রকোপের কারণে কৃষকের খরচের টাকায় উঠছে না। ফলে হতাশায় এ অঞ্চলের আখ চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আমিনুজ্জামান জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পুঠিমারী, পিয়ালিমারী বিলসহ অন্যান্য মাঠে আখের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। গত বছর চাষ হয়েছিলো ৭ হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে। এবছর আখের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ মেট্রিক টন। তবে আখের আগা কাটা রোগসহ নানা রোগ বালায় এর কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়া সম্ভব হবে না। আখ চাষের পাশাপাশি একই জমিতে আলু, রসুন, পিয়াজ ও ধনিয়া চাষ করার কারণে আখের জমিতে লাল পচা রোগ, মাজরা পোকার আক্রমন ও উইল্ট রোগের প্রভাব এবং রোগ বালাই এর প্রকোপ বেশী হয়। বিশেষ করে আখের জমিতে রসুন চাষের কারণেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
এছাড়া নিচু জমি হওয়ায় পানি জমে থাকার কারণে পচন রোগে আক্রান্ত হয়। একই জমিতে ৩ বারের অধিক আখ চাষ না করার জন্য এবং ইশ্বরদী ৫৪, ২৭, ২৮ জাতসহ পুরোনো জাতের আখের চাষ না করে ইশ্বরদী ৩৯, ৪২, ৪৩ ও ৪৪ জাতের উন্নত মানের আখের চাষ করার জন্য চাষীদের পরামর্শ দেন তিনি। উন্নত জাতের আখ চাষ করলে যেমন রোগ বালায় প্রতিরোধ হবে, পাশাপাশি জমিতে ফলনও বৃদ্ধি পাবে। চাষীদের আখ চাষের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মত ও সঠিক পরামর্শ দেয়া হয় এবং বিভিন্ন রোগ-বালায় দমনে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন পরামর্শ লেখা লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
জেলায় এবছর আখের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় আখের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রায় শতাধিক হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়। তবে এই ২ উপজেলার আখ মাড়ায় হয় না, এগুলো হাটে-বাজারে বিক্রি হয়।

জানুয়ারি ০৪
০৩:১৩ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে মাস্তুল আকৃতির মজবুত দুইটি পোল। প্রতিটি পোলের উপর রিং বসিয়ে তার চতুরদিকে বসানো হয়েছে উচ্চমানের এলইডি লাইট। আর সেই লাইটের আলোয় আলোকিত বিস্তৃত এলাকা। শুধু শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর নয়, এভাবে মহানগরীর আরো গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি চত্বর আলোকিত হয় প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত