Daily Sunshine

শোচনীয় পরাজয়ে নিশ্চুপ রাজশাহী বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। অন্যদিকে ‘শোচনীয়’ পরাজয় হয়েছে বিএনপি ও তাদের জোট ঐক্যফ্রন্টের। এতে করে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাইরেও হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির তৃণমূলেও। এছাড়াও কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। দেখা মিলছে না তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও। এসব নিয়ে কথা বলতেও রাজি নন কেউই।
৩০ ডিসেম্বরের ভোটে মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন, যার ২৫৯টি আসনই এককভাবে পেয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুটি বৃহৎ জোটের ২৭ দল মিলে পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। দেশজুড়ে জনমত থাকা সত্ত্বেও বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। এমনকি দলের বাঘা বাঘা নেতারাও জামানত খুঁইয়েছেন। বিরোধী দলও হতে পারছে না বিএনপি। এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়েও বিরাজ করছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
এবারের নির্বাচনেও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সবকয়টি আসনেই জয়ী হয়েছে। বিএনপির ঘাঁটিখ্যাত রাজশাহীর ভোটের মাঠে ছড়িয়েছিল নানা জল্পনা কল্পনা। নিজস্ব ভোটব্যাংকের আত্মবিশ্বাস নিয়ে উজ্জীবিত ছিল বিএনপি। তবে সেসব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছয়টি আসনেই জয়লাভ করে মহাজোট মনোনীত প্রার্থীরা। ফলে বিএনপির ভবিষ্যত নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের পর থেকেই দেখা মিলছে না বিএনপি নেতাকর্মীদের। মাঠে নেই তাদের কর্মী সমর্থকরাও। ভোটের পরে নিশ্চুপ রয়েছে রাজশাহী অঞ্চল।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যরিষ্টার আমিনুল ভোটের দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই আসনটিতে। হারের পর থেকেই একেবারে নিশ্চুপ রয়েছেন তিনি ও তার কর্মী সমর্থকরা।
রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শিষের মধ্যে। নির্বাচনের প্রথম থেকেই মাঠে ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। প্রথম দিকে মাঠে থাকলেও সহিংসতার নির্দেশ ও পরিকল্পনার ফোনরেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই মাঠে ছিলেন না নগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এছাড়াও নির্বাচনী দিনপর্যন্ত মোটামুটিভাবে মাঠে ছিলেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে ভোটের পরে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না এই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও তার কর্মী-সমর্থকদের। এছাড়াও এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন মাঠে থাকলেও তারপর আর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবু হেনা প্রথম থেকেই স্বশরীরে মাঠে ছিলেন না। নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন পরোক্ষভাবে। নির্বাচনী দিনে দুপুরের দিকে তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে জনপ্রিয় প্রার্থী এ্যাড. নাদিম মোস্তফার প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ফলে কিছুটা অসমর্থনের মধ্যদিয়েই নির্বাচনী লড়াই লড়েছেন বিকল্প প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তবে সংগঠিত আওয়ামী লীগের কাছে ধোপে টেকেনি। বলতে গেলে মোটামুটি নির্বাচনের আগে থেকেই মাঠে নেই অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। আর নির্বাচনের পরে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বাকিদের।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায় হেভিওয়েট প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের। ফলে এই আসনটিতে ভোটের আগে ও পরেও নেই বিএনপি নেতাকর্মীদের তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
নির্বাচনের আগে থেকেই রাজশাহীর ছয়টি আসনে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে প্রথম দিকে প্রার্থীতা চূড়ান্ত ও নেতৃত্বের অভাবে বিচ্ছিন্ন বিএনপি। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে প্রথম থেকেই সংঘবদ্ধ হতে পারেনি বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফলে ভোটের পরেও কিছুটা নিরবতা দেখা যাচ্ছে বিএনপির তৃণমূলে।

জানুয়ারি ০৩
০৩:৩৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

যৌবনা পদ্মায় মানুষের কোলাহল

যৌবনা পদ্মায় মানুষের কোলাহল

রোজিনা সুলতানা রোজি : ভাদ্রে এসে যৌবনে ফিরেছে রাজশাহীর পদ্মা নদী। কতদিন আগে হাওয়ায় ঢেউয়ের নাচন ছিলো পদ্মার প্রবাহে তা প্রায় ভুলতেই বসেছিলো নদীপারের মানুষ। তবে এবার স্বরূপে ফিরে এসেছে এ নদী। এখন আবারো সেই যৌবনা পদ্মা। শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রে ফুলে-ফেপে উঠেছে এককালের যৌবনা প্রমত্তা পদ্মা। শরতের শুভ্র মেঘ আর

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত