Daily Sunshine

নৌকার জয়ের নেপথ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন

রাজশাহীতে বিএনপির ভরাডুবির পেছনে জঙ্গীবাদ ও জামায়াত সঙ্গ
স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬ টি আসনে আবারো বিপুল জয় পেয়েছে মহাজোটের নেতৃত্বাধিন আওয়ামী লীগ। রাজশাহীর সবকটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বিএনপি।
নির্বাচনের পর এখন জয়-পরাজয়ের বিশ্লেষন করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখানে আওয়ামী লীগের জয়ের নেপথ্যে তিনটি বিশেষ কারণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, প্রথমত আওয়ামী লীগের এক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তাদের জয়ের বিয়য়ে নেপথ্যের অন্যতম কারণ। এছাড়া বিগত ১০ বছরে রাজশাহীতে সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকান্ড ও জনসম্পৃক্তাও জয়ের ব্যাপারে ভুমিকা রেখেছে। এছাড়া তরুন ও নারী ভোটাররা উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় একচেটিয়া রায় দেওয়ায় রাজশাহীর সবকটি আসনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। একইভাবে বিএনপি প্রার্থীদের জনবিচ্ছিন্নতা, উন্নয়নে কোনো অবদান না রাখা এবং তরুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত না করতে পারায় ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি প্রার্থীদের। এছাড়া জামায়াত সঙ্গ ও জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার কারনে বিএনপিকে প্রত্যাখান করেছে রাজশাহীর মানুষ। ২০০৮ সালের আগে আধিপত্য বিস্তারকারী বিএনপি শুধুমাত্র জামায়াত ও জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার কারণে গত তিন টার্ম ধরে পরাজয়ের গ্লানি ভোগ করছে। ২০১৮ সালে এসেও তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত সঙ্গ ত্যাগ করতে পারে নি। জঙ্গী মদদদাতাদের এবারো মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর তরুন প্রজন্মকে কোনো আশা দিতেও পারে নি।
একারণে তরুন প্রজন্ম বিএনপির প্রতি কোনো ভরসা রাখতে পারে নি। নারীরাও মুখ ফিরিয়েছে বিএনপি থেকে। আর দলীয় কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করায় নিজেদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হয় চরমে। ফলে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে ভোটের আগে থেকেই। ভোটের প্রচারেও তাদের দ্বন্দ্ব ছিলো প্রকট। একারনে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে।
রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে তাদের লক্ষই ঠিক করতে পারে নি। শুরু থেকেই ছিলো এলোমেলো। মানুষের কাছে যেতে পারে নি। প্রার্থীরা সবায় ছিলো জনবিচ্ছিন্ন। গত ১২ বছরের বেশী সময় ধরে এলাকায় না ফিরে হঠাৎ ভোটের মাঠে নেমে বেকায়দায় পড়ে। তারা জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়। অনেকের বিরুদ্ধে জঙ্গী মদদদানের মামলা রয়েছে। তাদের সাধারণ মানুষ নাশকতাকারী হিসেবে মনে করেছে। তাই ভোটে জবাব দিয়েছে।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যায় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজম শান্তনু বলেন, বিএনপির ক্ষেত্রে জনবিচ্ছিন্নতা যেমন পরাজয়ের মুল কারণ তেমনিভাবে বিপুল জয়ে আওয়ামী লীগের নেপথ্যে রয়েছে প্রথমত এক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি। তাদের জয়ের বিয়য়ে নেপথ্যের অন্যতম কারণ এটি। আগে থেকেই বলা হচ্ছিল ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। এ কারনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি ভোটের আগেই সব দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলো। তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে রাজশাহীতে সরকারের দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড ও জনসম্পৃক্তাও জয়ের ব্যাপারে ভুমিকা রেখেছে আওয়ামী লীগের। এছাড়া তরুন ও নারী ভোটাররা উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় একচেটিয়া রায় দিয়েছে এবার। শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযাযী আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সম্পৃক্ত করতে পারায় এবারো রাজশাহীর সবকটি আসনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে নৌকার প্রার্থীরা।
রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারো রাজশাহীর সবকটি আসনে নৌকার জয়ের টার্গেট নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলো আওয়ামী লীগ। তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে মনোনয়ন নিয়ে দলীয়ভাবে নানা বিভক্তি দেখা দিলেও নৌকার পক্ষে সবাই এক হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ভোটের মাঠে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব বিভেদ কাটিয়ে সব নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের মাঠে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। নৌকার জয় এনে দিতে দিনরাত সমান করে ভোটের মাঠে ছিলেন তিনি। খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বেই রাজশাহীর সব আসনেই নৌকার পক্ষে একাট্টা হয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠন। পৃথকভাবে মাঠেও নেমেছিলেন তারা। ভোটের মাঠে শুরুতেই তুলেছিলেন শক্ত আওয়াজ। এ কারনে আওয়ামী লীগ সরকটি আসনে জয় পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪ দল রাজশাহী সমন্বয়ক, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নৌকা প্রতীক, অন্যদিকে বিপক্ষের প্রতীক ধানের শীষ। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধী দল। ইতোমধ্যে তাদের দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছ। এতো কিছুর পরও সেই দলের নেতাদের ধানের শীষের প্রতীক দিয়েছে বিএনপি। রাজশাহীর মানুষ সেটি মেনে নেয় নি।
প্রসঙ্গত, উন্নয়নের সঙ্গি হয়ে আবারো নৌকাতেই ভরসা রেখেছে রাজশাহীর সাধারণ মানুষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছে। বিপুল ভোটে আবারও ভোট দিয়ে উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকেই বিজয়ী করেছে।
রাজশাহীর ৬ টি আসনের মধ্যে চারজনই হ্যাট্রিক জয় পেয়েছে। একজন দুইবারের মতো ও নবাগত প্রার্থীও জয়লাভ করেছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর ১-আসনে ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-২ আসনে ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও রাজশাহী-৬ আসনে শাহরিয়ার আলম তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী-৩ আসনে অয়েন উদ্দিন দ্বিতীয়বারের মতো এবং নতুন মুখ রাজশাহী-৫ আসনে ডা. মনসুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশী ভোটের ব্যবধানে এবার জয় পেয়েছেন রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম ও রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী এনামুল হক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এদের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দুই লাখের বেশী। আর সবচেয়ে কম ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা। বাদশা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিজানুর রহমান মিনুর চেয়ে ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

জানুয়ারি ০১
০৩:৫৭ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত