Daily Sunshine

রাজশাহীতে বছরজুড়ে আলোচনায় জাতীয় সংসদ ও রাসিক নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার : বছরজুড়ে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ বিরাজ করছিল। বিশেষ কলে আলোচিত ঘটনা ছিলো জাতীয় সংসদ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন। বছরের শুরু থেকেই এ দুটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন উৎসাহী। আর এ দুটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, যোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সুযোগ সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের।
৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী মহানগরীর সাধারণ ভোটাররা লিটনকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন। এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ৮৮ হাজার ভোটে পরাজিত করে নগর পিতা নির্বাচিত হন লিটন।
এসময় রাজশাহীর উন্নয়নে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে লিটন কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেন। গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে গার্মেন্ট শিল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্রুত বাস্তবায়ন করে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখান লিটন। প্রতিশ্রুতি দেন রেশম কারখানা ও টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার। রাজশাহী জুটমিল সংস্কার, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে চান লিটন।
আর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছেন লিটন। আর এ কারণে রাজশাহীর মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। বিশেষ করে বেকার শিক্ষিত যুবকরা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আশাবাদী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ১৪ হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে বলে আমরা জানি। মেয়র লিটন কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তবসম্মত নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা মেয়রের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আশা করছি, মেয়র লিটনের এ ধরনের উদ্যোগের কারণে এ অঞ্চলের এক লাখ যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
এছাড়া শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত এ নগরীতে শিক্ষা নিয়েও কাজ করছেন লিটন। এর মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত বাস্তবায়ন, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। পুরো নগরীর নাগরিক কেন্দ্রগুলোকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনারও উদ্যোগ আছে লিটনের।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক বলেন, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। তিনি স্বপ্ন দেখেন। অন্যদেরও দেখান। করেন বাস্তবায়ন। এর আগেও সাড়ে চার বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন লিটন। ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম দফাতে রাজশাহী মহানগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেন। ২০১৮ সালে আবারও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। রাজশাহীর মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। আশাকরছি, লিটন এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
এদিকে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হবার কারণে এ অঞ্চলের মানুষ মনে করছেন কৃষি, শিক্ষা, ম্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি সেক্টরে অভুতপূর্ব উন্নয়ন হবে। রাজশাহী-১ আসনে ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ এ আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ এ প্রকৌশলী এনামুল হক, রাজশাহী-৫ এ নতুন মুখ ডা. মনসুর রহমান এবং রাজশাহী-৬ আসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। আর রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
এ অঞ্চলের সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, বছরের শুরু থেকেই রাসিক এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো এ অঞ্চলের মানুষের আলোচনার প্রধান ইস্যু। রাসিক মেয়র লিটনসহ রাজশাহীর ৬ এমপি এ অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবেন বলে আমরা আশাবাদী। কারণ, যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এর পূর্বেও দুইবার এমপির দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই তৃতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা তা অব্যাহত থাকবে বলে রাজশাহীর মানুষ মনে করছেন।
রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। রাজশাহীর মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তাদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছি আমরা। তাই তাদের বিশ্বাসের মূল্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন আমরা অব্যাহত রাখতে চাই।

জানুয়ারি ০১
০৩:৩৭ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

আলোকিত সিটি পেয়েছেন মহানগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে মাস্তুল আকৃতির মজবুত দুইটি পোল। প্রতিটি পোলের উপর রিং বসিয়ে তার চতুরদিকে বসানো হয়েছে উচ্চমানের এলইডি লাইট। আর সেই লাইটের আলোয় আলোকিত বিস্তৃত এলাকা। শুধু শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর নয়, এভাবে মহানগরীর আরো গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি চত্বর আলোকিত হয় প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত