সর্বশেষ সংবাদ :

রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে টাকা পাঠানোয় জটিলতা

ঢাকা অফিসঃ রাশিয়াতে বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাংকিং লেনদেন করে ভিটিবি ব্যাংকের মাধ্যমে। ইউক্রেন আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠাতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও লেনদেন বন্ধ না হলেও আমাদের দূতাবাস যে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে সেটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। এরফলে আমাদেরকে ভিন্ন পন্থায় অর্থ পাঠাতে হবে। না হলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, আমরা বিকল্প কোনও ব্যবস্থা বের করবো। আমরা ইরানেও টাকা পাঠাতে পারি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গায় টাকা পাঠাতে সমস্যা আছে এবং সেসব জায়গায় ভিন্ন পন্থায় টাকা পাঠানো হয়।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, ইরানে ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পাঠানো অনেকদিন ধরে সম্ভব হয় না। ফলে ইরান মিশনের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন সেটি দুবাই মিশনে পাঠানো হয়। সেখানে তেহরান মিশন থেকে একজন কর্মকর্তা ওই অর্থ নিয়ে যায়।

সম্প্রতি মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পরে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দিলে অর্থ সংকটে পড়ে যায় সেখানকার দুটি বাংলাদেশ মিশন।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, ওই সময়ে যে পরিমাণ ডলার প্রয়োজন সেটি নগদে ঢাকা বিমানবন্দরে পাঠানো হয় এবং মিয়ানমার থেকে একজন কর্মকর্তা ঢাকায় এসে ওই ডলার গ্রহণ করেন।

রাশিয়ার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত দুই মাসে যে পরিমাণ খরচ হয় সেই পরিমাণ অর্থ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা থাকে। ফলে এই মুহূর্তে তেমন প্রয়োজন পড়বে না। যখন প্রয়োজন পড়বে তখন নিকটবর্তী কোনও মিশন যেমন পোল্যান্ড বা রোমানিয়া বা অস্ট্রিয়াতে অর্থ পাঠানো হতে পারে। সেখান থেকে মস্কো মিশনের কেউ ওই অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

রাশিয়াতে বাংলাদেশ মিশনের কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হয় জানতে চাইলে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর ১০ কোটি টাকার নিচে। এর বেশিরভাগ অর্থ খরচ হয় বেতন-ভাতা ও মিশনের বাড়ি ভাড়ার পিছনে।


প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২২ | সময়: ২:১০ পূর্বাহ্ণ | Daily Sunshine