Daily Sunshine

রাবিতে বিএনপি-জামাতের ভূমিকায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ

Share

এনায়েত করিম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) দ্বিতীয় দফার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার নেতৃত্বে শেষ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদের শেষ বেলায় ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ অনেক প্রার্থীর চাকরি দিতে’ উপাচার্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযোগ করে এই সিন্ডিকেটকে বানচাল করার উদ্দেশে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কয়েকজন সদস্য। এসময় ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীসহ চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামীপন্থি ওই গুটিকয়েক শিক্ষক।

এসময় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীসহ চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ একটি স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়া। তবুও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে মহামারি করোনার প্রকোপসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে তার বাসভবনে এই মেয়াদে শেষ সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগসহ চাকরিপ্রত্যাশীদের ‘নিয়োগ হওয়ার আশঙ্কায়’ তা বানচাল করে দিয়েছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ওই একাংশ। এসময় জামায়াত-বিএনপির সময় ৫৪৪ খ্যাত একরাতে অসাভাবিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর দুইদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির বৈঠকে হতে দেননি তারা।

ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চাকরি আটকে দেয়া এই শিক্ষকরা তাহলে কেমন আওয়ামীপন্থী প্রশ্ন রেখে চাকরিপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ ছাত্রলীগের রুটিরুজি নষ্ট করা এই শিক্ষকরা তাহলে কারা? এমন ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা মাঠে না নামলেও আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষকরা কেন এমন সরব হচ্ছেন? তাহলে তাদের উদ্দেশ্য কী?

নিজেদের করা দুর্নীতি ঢাকতে প্রগতিশীল নামধারী এই গুটিকয়েক শিক্ষক পরোক্ষভাবে বিএনপি-জামাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী।

প্রশাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদি। অথচ তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের মুখপাত্র’ টিপুর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক’ নির্মাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা, অর্থ আত্মসাৎ-সহ ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের সময় গ্রন্থাগার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক সামাদীর বিরুদ্ধেও নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির একটি প্রতিবেদনে বিগত মিজান-সজল প্রশাসনের সময় করা তাদের দুর্নীতির সেই চিত্র উঠে আসে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়।

মূলত, তারা নিজেদের করা দুর্নীতি আড়াল করতেই উপাচার্যসহ বর্তমান প্রশাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় আছে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

এরই অংশ হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেট মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে টিপু-সামদীর নেতৃত্বে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হলে ছাত্রলীগসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করে। এসময় তাদের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামীপন্থী কয়েকজন শিক্ষক।

এতে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়। এতে রাজশাহীসহ দেশব্যাপী প্রগতিশীল বিশিষ্টজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রগতিশীল বর্তমান প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ নামধারী ওই শিক্ষকরা মূলত বিএনপি-জামাতের মতো বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করছে।

মে ০৫
১২:৪৬ ২০২১

আরও খবর