Daily Sunshine

সীমান্তবর্তী তিন জেলায় আসছে লকডাউন

Share

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদ পরবর্তীতে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি জেলা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সংক্রমণ বাড়লেই সেগুলোতে লকডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, খুলনা ও সাতক্ষীরা।
এদিকে, রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের হার। বুধবার রাজশাহীতে শনাক্তের হার ৪২ শতাংশ। পরের দিন বৃহস্পতিবার তা ১০ শতাংশ বেড়ে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশে। এমনভাবে শনাক্ত বাড়তে থাকলে আগামীতে রাজশাহীতেও লকডাউন দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলার ১১৪ জনের করোন শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ও রামেক হাসপাতালের পৃথক পিসিআর ল্যাবের জেলার ২১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
গত তিনদিনের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার রাজশাহী জেলার করোনা শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। সেটি বুধবার দ্বিগুন বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। আর বৃহস্পতিবার তা ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ২৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ১১৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৯ জন, নওগাঁর ২৬ জন, নাটোরের ৪৪ জন, জয়পুরহাটের ১৮ জন, বগুড়ার ১৭ জন, সিরাগঞ্জের সাতজন ও পাবনার ১১ জন।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড ও করোনা আইসিউতে তারা মারা যান বলে জানান রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যে ১০ জন মারা গেছে তাদের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ। বাকি পাঁচজনের করোনা উপসর্গ ছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। নিহতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচজন, রাজশাহীর তিনজন, নাটোরের একজন ও কুঠিয়ার একজন।
মৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শীর্ষ মোহাম্মদ, লৎফর রহমান, লাল মোহাম্মদ, গোলেসা বিবি ও নজরুল ইসলাম। আর রাজশাহী নগরীর শরিফ হোসেন, হুমায়ুন কবির ও জেলার বাগমারার আব্দুর রহমান, নাটোরের মোহনপুর এলাকার আবুল কাশেম এবং কুঠিয়ার লোকমান হোসেন।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার জানান, তারা সার্বিক বিষয়ে মনিটরিং করছেন। প্রতিনিয়ত তারা রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। উপর মহলের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ করে যাচ্ছেন।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার আরো জানান, ইতোমধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি যদি আরো খারাপের দিয়ে যায় তাহলে লকডাউন দেয়া হতে পারে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীর করোনা পরিস্থিনি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা চলছে। লকডাউন এখন দেয়া হয়নি।

মে ২৯
০৪:৪৮ ২০২১

আরও খবর