Daily Sunshine

রাজশাহী নগর আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শোনা যাচ্ছে যাদের নাম

সানশাইন ডেস্কঃ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা থাকছেন তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুই-তিনদিনের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত কমিটি প্রস্তুত করবেন; যা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

এদিকে, মহানগর কমিটিতে পদ পেতে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কমিটিতে পদ পেতে নেতাকর্মীদের কেউ ছুটছেন নগর ভবনে নগর কমিটির সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে। আবার কেউ ছুটছেন সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের কুমার পাড়ার দলীয় অফিসে।

তবে এবারের নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনোভাবে কমিটিতে স্থান না পায় সেদিক নগর রেখেই পুর্নাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষ করে যারা ৫ বছর বা তারও আগে অন্য দল থেকে এসে আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন তাদের কারোরই এবার পদ পাওয়ার সুযোগ নেই। নগর আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
১ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডাবলু সরকারের নাম ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় নেতার পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিতে বলেন। তবে এরই মধ্যে দেশে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করতে পারেনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দলের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরির একটি তালিকা করা হয়েছে। এখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যাচাই-বাছাই করে কমিটি চূড়ান্ত করবেন।

জানা গেছে, এবার নতুন কমিটিতে জায়াগা পাচ্ছেনা আগের কমিটির প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন নেতা। যাদের মধ্যে পাঁচজন কাউন্সিলরও রয়েছে। পদে থাকলেও তারা জাতীয় ও স্থানীয় কোনো দলীয় কর্মসূচিতে একদিনের জন্যও অংশ নেননি। করোনাকালেও দলীয় প্রধানের নির্দেশে মানুষের পাশে দাঁড়াননি। তবে নতুন কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক ৬ থেকে ৭ জন নেতা; যারা পদে না থেকেও দলীয় কর্মসূচিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তারা ত্যাগী নেতা হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছেও পরিচিত।

সাবেক কমিটির ৯ জন সহ-সভাপতির মধ্যে ইতোমধ্যে ১ জন মারা গেছেন। এই সব পদে রদবদলের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে তিনজন যুগ্ম-সম্পাদকের মধ্যে একজনকে সহ-সভাপতির শূন্য পদটিতে পদোন্নতি দেয়া হতে পারে। আর সাবেক কমিটির তিন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজনের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দলীয় কর্মকান্ডে নিস্কিৃয় ছিলেন। অপর দুইজনের মধ্যে একজনকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সম্পাদক পদে নেয়া হতে পারে। তিনি তার সাংগঠনিক মেধা, জনবল ও অর্থ দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করেছেন। গত নির্বাচনে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। ফলে এবার সাংগঠনিক দুই পদে আসতে পারে নতুন মুখ।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই-তিনদিনের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এবার ৭৩ বা ৭৪ সদস্যের কমিটি হবে বলে জানান তিনি।

সানশাইন/এজি

সেপ্টেম্বর ০৮
২২:২৫ ২০২০

আরও খবর