Daily Sunshine

রাজশাহী অঞ্চলে কমেছে বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা

Share

আসাদুজ্জামান নূর : রাজশাহী অঞ্চল থেকে সরকারি গুদামের জন্য চলতি বছর বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিকটন। ১৫ আগস্ট শেষ হয়েছে এর সময়সীমা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন পর পর্যন্ত মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। হিসেব অনুযায়ী, সংগৃহিত ধানের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশের কম।

সরকারি ও বাজারের দরের পার্থক্য খুব বেশি না হওয়া, ধান কেনার জটিলতা এবং হয়রানির কারণে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে অনীহা কৃষকের। বাজারে ধান বিক্রি বহুলাংশে সহজ ও জটিলতামুক্ত বলছেন কৃষকরা। ফলে ধান কিনতে অনেক ধকল সহ্য করতে হচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তরের। আর এসকল কারনেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি বলে জানায় খাদ্য অধিদপ্তর।

এ অঞ্চলের ৮টি জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুহাট ও পাবনা থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে বগুড়া থেকে সবচেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়।

রাজশাহী খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ অঞ্চলের ৮ জেলার ৬৭টি উপজেলা থেকে প্রাথমিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিকটন। চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রাও কমবেশি হয়নি। ধান কেনার জন্য এ অঞ্চলের ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ জনের তালিকা তৈরী করে রাজশাহী খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কিন্তু সরকার নির্ধারিত সময় ১৫ আগস্ট পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয় ২৬ টাকা ও প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা। প্রায় সমান দামে খোলাবাজারেও ধান কিনছে ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চলতি মৌসুমে জুনের মধ্যে ৬০ শতাংশ, জুলাইয়ে ৯০ শতাংশ ও আগস্টের ১৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ ধান ক্রয় সম্পন্ন করা কথা ছিল। চলতি মাসের ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ধান সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন কৃষক সরকারি গুদামের জন্য এক টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সরকারি তালিকাভুক্ত হতে হবে। এমন বিষয় ছাড়াও ধান বিক্রির জন্য ধাপে ধাপে টাকা খরচ করতে হয় তাদের। ধান মাপার সময় ও ধান পরিবহনের জন্য টাকা দিতে হয়। আবার অনেক সময় ফড়িয়া বা কার্ডধারীদের কিছু অংশের দৌরাত্ম্য দেখা যায়। ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন দিতে হয়। এভাবে নানারকম হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় কৃষকদের।

এর বাইরেও ধানে চিটা আছে, ধানের রং ভালো নয়, ধান শুকায়নি এরকম অভিযোগের মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। অন্যদিকে, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করে যে খুব বেশি লাভ বা টাকা পাওয়া যায় এমন নয়; ফলে ঝামেলামুক্ত হয়ে বাজারে ধান বিক্রি করাই বেশি ভালো মনে করছেন কৃষকরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্রনাথ রায় বলেন, চলতি ২৬ আগস্ট পর্যন্ত আমার কাছে ধান সংগ্রহের পরিমান ৮ হাজার ৩৬ মেট্রিকটন। সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ হাজার ৩৫৫ মেট্রিকটন। তবে সামগ্রিকভাবে ৮ জেলার তথ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিতে পারবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, সরকারি তালিকাভুক্ত কৃষকদের ধান খুব উন্নত না হলেও তা কেনা হয়েছে। তবে সরকারি নিয়ম মেনে বিভিন্ন জটিলতায় এবং বাজারে বিক্রি করে দ্রুত টাকা পাওয়ার জন্য লক্ষ্যে কৃষকরা সরকারি গুদামে খুব বেশি ধান বিক্রি করেননি।
কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানের নির্ধারিত মাত্রার আর্দ্রতা, চিটামুক্ত ধান, শুকনো ধান এবং কেনার সময় ওজনের দিকে নজর দিয়েই কেনা হয়েছে। নানা কারণে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলেও জানান তারা।

রাজশাহী অঞ্চলের খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবীর জানান, রাজশাহীর ৮ জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিকটন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল। এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিকটন। এসব ধান ক্রয়ের জন্য ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ জন কৃষকের তালিকা হয়েছিল এবং ধান সংগ্রহ করাও হয়েছে।

সানশাইন/০২ সেপ্টেম্বর/এমওআর

সেপ্টেম্বর ০২
১২:৩৩ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

সাহস সংগ্রাম নেতৃত্বে অবিচল

সাহস সংগ্রাম নেতৃত্বে অবিচল

সানশাইন ডেস্ক : মহামারি কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা। বৈশ্বিক এ মহামারির নিদারুণ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। অথচ এমন ঘোর অমানিশার মাঝেও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন তিনি। তিনি-ই সম্প্রতি রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়ার খবর দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মহামারিকালে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সানশাইন ডেস্ক : রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা

বিস্তারিত