Daily Sunshine

রাজশাহীর ১৩ পৌরসভায় ভোটের হাওয়া

Share

স্টাফ রিপোর্টার: বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই রাজশাহী জেলার ১৪ পৌরসভায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অবশ্য এদিক দিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও দলীয় বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলছেন সামনে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে মান অভিমান ভুলে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আবার বিএনপিও তাদের কমিটি গঠনের নামে এভাবেই সতর্ক করছেন কর্মী সমর্থকদের। অর্থাৎ বড় এই দু’দলেই প্রার্থী-কর্মী সমর্থকদের মধ্যেই নির্বাচনের হাওয়া বইছে।

রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার মধ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে ১৩টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

রাজশাহী জেলার মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট ও গোদাগাড়ী বাঘা উপজেলার আড়ানী, তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা ও তানোর, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট, বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ, চারঘাট, দুর্গাপুর, পুঠিয়া এবং পবা উপজেলার কাটাখালী ও নওহাটা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্রা বাঘা উপজেলা নির্বাচনে পরে হওয়ায় এ দফায় নির্বাচন হচ্ছে না। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিবসকে লক্ষ্যে রেখে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, এগুলোয় সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। আর সময়ের অঙ্ক কষেই নেতারা মাঠে নেমেছেন। পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে বেশ কয়েক মাস ধরে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং ও গ্রুপিং শুরু করেছেন।

পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে বেশ কয়েক মাস ধরে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ পেতে তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। আর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সমর্থন পেতে বাড়িয়েছেন সাংগঠনিক তৎপরতা। ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অনেকে আলোচনায় এসেছেন। এছাড়াও বর্তমানে করোনা সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের ফাঁকে ফাঁকে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। সচেতনমহল বলছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থাৎ শোকাবহ আগস্ট পেরুলেই পুরোপুরি শুরু হয়ে যাবে নির্বাচনী দৌড়ঝাপ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতিক (নৌকা ও ধানের শীষ, লাঙ্গল) হওয়ায় দলের বাইরে ক্লিন আমেজ ও প্রগতিশীলদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নাই। এরপরেও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মোট ভোটের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা জমা দিতে হয়। এসব কারণে দলীয় প্রতিক প্রাপ্তির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই দৌড়ঝাপে ব্যস্ত আছেন। আর এ ক্ষেত্রে জেলার সবগুলো পৌরসভাতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু ও ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র আনোয়ারুল হক চৌধুরী ও গোলাম কিবরিয়া রুনু মাঠে নেমেছেন। একই উপজেলার আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে কাঁকনহাটের বর্তমান মেয়র আবদুল মজিদ ও যুবলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ হিল কাফি এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক ও হাফিজুর রহমান।

তানোরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ইমরুল হক ও আবুল বাশার, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। মুণ্ডুমালায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, গোলাম মোস্তফা, সাইদুর রহমান ও শরিফ খান এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোজাম্মেল হক, ফিরোজ কবির ও আতাউর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার দুটি পৌরসভা নওহাটা ও কাটাখালী। নওহাটায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল বারী খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল কবির রুনু ও নওহাটা পৌর যুবলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। এই পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বর্তমান মেয়র মকবুল হোসেন, ওয়াদুদ হাসান পিন্টু ও মামুনুর সরকার জেড। কাটাখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী আবারও মেয়র প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সিরাজুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম। মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ, বর্তমান কাউন্সিলর রুস্তম আলী প্রামাণিক ও শাহিনুর আলম এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র আলাউদ্দিন আলোর নাম শোনা যাচ্ছে। বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক ও মামুন অর রশিদ মামুন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক ও শাহিনুর রহমান শাহিন। তাহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সাবেক মেয়র আবু নাঈম শামসুর রহমান মিন্টু। দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ফিরোজ, আবদুর রাজ্জাক ও আজাহার আলী। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন জার্জিস হোসেন সোহেল ও সাইদুর রহমান মন্টু।

বাঘা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী, শাহিনুর রহমান পিন্টু ও ওয়াহেদ সাদেক কবির। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বর্তমান মেয়র আবদুর রাজ্জাক ও কামাল হোসেন। আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী, শহীদুজ্জামান শহীদ, মতিউর রহমান মতি এবং রিবন আহম্মেদ বাপ্পী মাঠে আছেন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম ও সুজাত আহমেদ তুফান।
পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র রবিউল ইসলাম রবি, খালেদ হোসেন লালন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ইব্রাহিম সরকারের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে মামুন খান, আসাদুল হক আসাদ ও বাবুল হোসেন আলোচনায় আছেন। চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে একরামুল হক ও কাজী মাহমুদুল ইসলাম মামুনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল মাঠে আছেন।

এদিকে গত কয়েকদিন আগে বিএনপি ঘরানার নওহাটা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী মামুনুর সরকার জেড ৪ নং ওয়ার্ডে মাস্ক বিতরণ করেন। তিনি নওহাটা পৌরসভার দুইবার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডাঃ আমিনুল হক, সাধারন সম্পাদক হুরমত আলী, পরস আলী, কামাল, মতি সহ আরো অনেকে।

অপরদিকে নওহাটা পৌর যুবলীগ সভাপতি ও সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী হাফিজুর রহমান নেতাকর্মী নিয়ে শিয়ালবেড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। তিনি সেখানে এই পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে জানান দেন।

গত ১২/৮/২০২০নওহাটা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে মাস্ক বিতরণ করেন নওহাটা পৌর বিএনপি সাবেক দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড উপস্থিত ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডাঃআমিনুল হক, সাধারন সম্পাদক হুরমত আলী, পরস আলী, কামাল, মতি সহ আরো অনেকে।

সানশাইন/২৭ আগস্ট/এমওআর

আগস্ট ২৭
১৪:০৩ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আঁকাআঁকি থেকেই তন্বীর ‘রংরাজত্ব’

আসাদুজ্জামান নূর : ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি নেশা ছিল জুবাইদা খাতুন তন্বীর। ক্লাসের ফাঁকে, মন খারাপ থাকলে বা বোরিং লাগলে ছবি আঁকতেন তিনি। কারও ঘরের ওয়ালমেট, পরনের বাহারি পোশাক ইত্যাদি দেখেই এঁকে ফেলতেন হুবহু। এই আঁকাআঁকির প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েই হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তুলির খোঁচায় পরিধেয় পোশাকে বাহারি নকশা, ছবি, ফুল

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

জোরালো হচ্ছে সরকারি চাকরিতে ‘বয়সসীমা’ বাড়ানোর দাবি

সানশাইন ডেস্ক : সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হয়। এরপর অবসরের বয়স বাড়ানো হলেও প্রবেশের বয়স আর বাড়েনি। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া, সেশনজট, নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি

বিস্তারিত