Daily Sunshine

করোনাকালে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ও বয়সজনিত অচলায়তন

Share

করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কেও নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটির সাথে চাকরিতে নিয়োগের পরীক্ষার যোগসূত্র বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোভিডের লকডাউন শীর্ষক দীর্ঘ বিরতি শেষে এখন একই দিনে অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করছেন (টাকা দিয়ে অাবেদন করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া অবশ্যই অাইনসঙ্গত নয়); যার ফলে হাজার হাজার কখনও লক্ষের কাছাকাছি চাকরিপ্রত্যাশী রাজধানী ঢাকাতে প্রতি সপ্তাহে যাতায়াত করছে।

এটি ঘটছে যখন কোভিডের ২য় ঢেউ অামাদের দেশে এখনো চলমান। অামরা কি জনপ্রশাসনের একাডেমিক টার্ম ‘Decentralization’ ভুলে গেলাম? এই পরীক্ষাগুলি (অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন তারিখে) যদি বিভাগীয় শহরে নেওয়া হয় তাহলে ঢাকা অভিমুখে এভাবে জনসংখ্যার চাপ হয় না; বড় একটি চাকরিপ্রত্যাশী প্রজন্ম নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে বিভাজিত হয়ে সমস্যার মুখোমুখি না হয়ে পরীক্ষা দিতে পারে। লাখ লাখ বেকারকে এমনিতেই ‘উল্লেখযোগ্য অংকের পরীক্ষার ফি’ প্রদান করে আবেদন করতে হয়৷ এরপর নিয়মিত বিরতিতে ঢাকায় যাতায়াতের খরচ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। করোনাকালীন অর্থনৈতিক দৈন্যতায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদেরকে বেছে নিতে নিতে হয় কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ঢাকা যাবে যেহেতু ঢাকায় যাওয়া অাসার পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বহন করার ‘বিলাসী সামর্থ্য’ অনেকেরই থাকেনা। করোনায় লক্ষ লক্ষ পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিম্নগামী হয়ে গেলেও সন্তানের চাকরিতে অাবেদনের ফি তাঁরা কষ্ট করে হলেও প্রদান করেন। কিন্তু রাজধানী যাতায়াতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছেলে মেয়েদের সব অাবেদন করে রাখা নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতেই অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নারী চাকরিপ্রত্যাশীদের অনেকেই ছোট বাচ্চাসহ অাসেন রাজধানীতে চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য।
অগোছালো এই লেখাটি যখন লিখছি সেই দিনে ঢাকা শহরে একজন চাকরির পরীক্ষার্থী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছেন।

কোভিড পরবর্তী বিশ্বে অনেক সিস্টেমই পরিবর্তিত হয়েছে এবং হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য হোক বা অর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে হোক অনেক সিস্টেমকে ‘fine tuning’ বা ‘business re-engineering’ করা হয়েছে ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে। আর আমরা যেহেতু একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রে বসবাস করি সুতারাং চাকরি প্রার্থীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে যার মধ্যে মানবিক বিবেচনাও অন্তর্নিহিত রয়েছে। অামরা প্রত্যাশা করি বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসেন্ট্রালাইজড পদ্ধতিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ার মতো যুগোপযোগী ইস্যু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিগোচর হবে এবং তারা জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

করোনার অাঘাতে এদেশে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ততার স্বীকার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম যেহেতু সকলেই তাদের জীবন থেকে ২টি বছর হারিয়ে ফেলেছে। বিগত ৬ মাস ধরে শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অান্দোলনরত অবস্থায় দাবি জানিয়ে অাসছেন, জাতীয় সংসদে বার বার উত্থাপিত হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া ২ বছর ফিরিয়ে দিয়ে অাবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছরে উন্নীতকরণের বিষয়টি। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে যখন বাংলাদেশ ‘Demographic Dividend’ এর সময়কাল পার করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রায় ৪ লাখ পদ শূণ্য অাছে যে সংখ্যা সরকারি সকল ডিপার্টমেন্টে জনবল ঘাটতির উদাহরণ বহন করে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চাকরিতে অাবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছরে উন্নীতকরণ এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তের ঘোষণা সরকারি কতৃপক্ষের নিকট হতে অাসবে এটিই এখন সময়ের ও প্রজন্মের গণদাবি।

সেপ্টেম্বর ২৫
১১:৫৯ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]