একটি বিকৃত যৌনাচার ও তার পেছনের গল্প

হে সভ্য সুধী মহল, নষ্ট হওয়ার সব উপকরণ হাতের কাছে এনে দিয়ে যদি আপনারা বলেন, ” কেউ নষ্ট হতে পারবে না।” তাহলে আমি আপনাদের মৃত্যুদন্ড দাবী করবো।

সমস্যা তৈরীর সব উপকরণ সহজলভ্য করে আপনি যদি আশা করেন যে কোন সমস্যা তৈরী হবে না তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আজ লিখছি একটি বিকৃত যৌনাচার, ধর্ষণ নিয়ে। ধর্ষণ নিয়ে মাতামাতি করে ব্যতিব্যস্ত হয়ে লাভ কী যদি না এই অপরাধ সংঘটনের সম্ভব্য পথগুলোয় আমরা প্রতিবন্ধকতা তৈরী করি!

ধর্ষণ বিষয়টি ব্যক্তির কোন স্বাভাবিক আচরণ নয়, এটা একটা বিকৃত আচরণ বা যৌন গোলযোগ (Sexual Disorder).
এটাকে ব্যাখ্যা করে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন আছে।
ধর্ষক একজন মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিকৃত মানুষ। এটা একটা psychological disease. এটাকে Sadism বা ধর্ষকাম বলা হয়। আপনি নিশ্চয় জানেন যে, Sadism এ যারা আক্রান্ত তারা অন্যকে নিষ্পেষণ করে যৌন সুখ লাভে তৃপ্ত হয় (যেহেতু সে মানসিক বিকারগ্রস্ত)।

আবার Masochism বা মর্ষকাম বলেও আরেকটা psychological disease আছে যা ধর্ষকামের সম্পূর্ণ বিপরীত।এই রোগাক্রান্তরা অন্যের দ্বারা উৎপীড়িত হয়ে যৌন কার্য সম্পাদনে পরিতৃপ্ত হয়।

তাই, অনেক factor বা প্রভাবক এই ধর্ষণের পেছনে কাজ করতে পারে। এটা যে শুধু ড্রেসের জন্য হবে এমন নয় আবার এর পেছনে যে অশালীনতার প্রভাব থাকবেনা এমনও নয়। আপনিও নিশ্চয় নিচের কিছু উল্লেখযোগ্য কারণের সাথে একমত হবেন।

★বিকৃত যৌনাচারের পেছনের প্রভাবক সমূহ:
১) অসুস্থ বিনোদনঃ
ধর্ষণের পেছনে অসুস্থ বিনোদনে আসক্তি একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আগে বখাটেরা মেয়েদের চোখ মারতো, পরবর্তীতে ওড়না ধরে টান দিতো আর আজ ধর্ষণ করে।প্রশ্ন হলো কেন হচ্ছে এমন?
সবার হাতে সহজলভ্য এন্ড্রয়েড, ইন্টারনেটও সাধ্যের মধ্যে। ব্রাউজ করলেই ভালোর সাথে খারাপ ফ্রি।যাদের ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ সঠিক লেভেলে আছে তারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ মাত্রা একটু নড়বড়ে তারা ধর্ম-মূ্ল্যবোধের ধার ধারেনা তারা বাস্তবেই চতুষ্পদ জানোয়ারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আবার যারা পর্ণাসক্ত তাদের চোখে ঘরে বাইরে কোন নারীই মানুষ না বরং নারীরা ঐ ভিডও ক্লিপসের ক্যারেক্টার হিসেবে আসক্তদের মাথায় ঘুরপাক খায়। (পর্ণাসক্ত নারীর ক্ষেত্রেও তাই।) কিন্তু কেউ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, কেউ পারেনা।
একজন ধর্ষকের চোখে পোশাক না, নারী বা নারী শিশু এমনকি মানবদেহই একটা লালসার বস্তু হিসেবে ধরা পড়ে। কারন ঐ আসক্ত ব্যক্তি মানসিক বিকৃতির চরমে পৌঁছে যায়। এটাই সত্য।
২) পারিবারিক ত্রুটিপূর্ণ যৌনাচারঃ
কোন কোন পরিবারের সদস্যরা ছোটদের সামনে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি স্বাভাবিক যৌন আচরণও প্রকাশ করে ফেলেন। তখন সেই স্বাভাবিকতা ছোটদের কচি মনে বিকৃত মানসিক রুচির জন্ম দেয়।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, পরিবারের আবালবৃদ্ধবনিতাদের মধ্য থেকে হঠাৎ করেই নব দম্পতি উঠে যেয়ে সবার চোখের সামনে বেডরুমের দরজাটা হুড়ুম করে লাগিয়ে দিলো। এটা চরম পর্যায়ের বিকৃত যৌন আচরণ যা পরিবারের অন্য সদস্যদের বিব্রত করে ও ছোটদের মধ্যে অনৈতিক উৎসাহের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে তাদের মনে মারাত্মক যৌন বিকৃতির জন্ম দিতে পারে। বড়দের এই আচরণ সরাসরি ধর্ষণের কারণ না তবে ছোটদের মনে যৌনাসক্তি ও যৌন বিকৃতির জন্ম দেয় যা পরবর্তীতে তাদের ভুল রাস্তায় হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করে।
এরপর, সন্তানের সামনে অনেক আধুনিক বাবা-মা অতি রোমাঞ্চের আস্ফালনে ভালোবাসার প্র্যকটিকাল এক্সপ্রেশান দিয়ে থাকেন। ভেবে থাকেন সন্তান মনে হয় বাবা-মায়ের সুসম্পর্ক দেখে খুশি হবে। হ্যাঁ, খুশি হবে ততক্ষণ যতক্ষণ সে চোখের সামনে আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর মানসিক মিল প্রত্যক্ষ করবে, শারীরিক নয়। শারীরিকভাবে রোমাঞ্চ করা বিষয়টা সন্তানের কচি মনে দারুনভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারন ভুলে যাবেন না যে সে সবসময় নিজ বাবা-মাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করতে চায়।
৩) প্রেম প্রত্যাখ্যানঃ
এসিড ভায়োলেন্সের পর আরো একটি ন্যক্কারজনক বিকৃতি হলো প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কোন মেয়েকে নিজে বা সবান্ধব ধর্ষণ করা। প্রেমে ব্যর্থ মানুষের উচিত তাকে মোটিভেট করতে পারেন এমন গার্ডিয়ানের শরনাপন্ন হওয়া। যিনি তাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাবেন যাতে তার আগামীকালের সূর্যোদয়টা মনোরম হয়ে উঠে।
৪) ড্রাগ এডিকশানঃ
আবার, ড্রাগের প্রভাব এই ধর্ষণকামের পেছনে ভয়ানক প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কারন একজন ড্রাগ এডিক্টেড মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পশুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
৫) ক্ষমতার অপব্যবহারঃ
সবচে’ বড় সত্যিটা হলো, একজন ক্ষমতাসীন মানুষ/ ক্ষমতার ছায়ায় থাকা মানুষ যখন নিশ্চিত হয় যে, সে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে এবং যখন সে ধর্মীয় মূল্যবোধকে থোড়াই কেয়ার করে তখন তার এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স তাকে এই অপরাধ সহ যে কোন মারাত্মক অপরাধেও প্ররোচিত করতে পারে অনায়াসে।
৬) বাবা-মা সন্তানের পরিনত বয়সে (বয়ঃসন্ধি কালে) যৌন বিষয়ে কথা না বলা:
সন্তানের সাথে মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিষ্টাচার ও সঠিক যৌনাচার নিয়ে তার উঠতি বয়সটাতে আপনাকে কথা বলতে হবে। তা না হলে তার উৎসাহ অতি উৎসাহে পরিণত হবে এবং সে সমবয়সী আবেগপ্রবণ বন্ধুদের সাথে তার আবেগ অনুভূতির বিষয়গুলো নিয়ে শেয়ারিং এ যাবে। আর তখনই নামবে কাল। তাই কাল আসার আগে আলোর পথে সন্তানকে বাবা-মা ই নিয়ে চলুন।
৭) ছোট্ট সোনামনিকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এ অবাধ স্বাধীনতা দেওয়াঃ
ফিল্টার না থাকলে ট্যাপের পানিও আমরা খায় না। অথচ যে কচি শিশুর ব্রেইনে ভালো-মন্দ ফিল্টার করার জ্ঞান এখনো তৈরী হয়নি তার হাতে আমাদের কোন সুপারভিশান ছাড়াই তুলে দিচ্ছি ইন্টারনেট। আমরা ভুলে যাচ্ছি বোধ হয় যে, ইন্টারনেট কোন অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়।

এছাড়াও আরো অনেক কারণ এই অপরাধের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।

★ বিকৃত যৌন আচরণ প্রতিহত করতে আগে থেকেই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:
১) প্রথমে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে, প্রত্যেক পরিবারে নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। একটু সময় বেছে নিয়ে বাবা-মা কে সন্তানদের নিয়ে এজন্য বসতে হবে।

২) দ্বিতীয়ত, বাবা-মা কে তার সন্তানের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে।
৩) তৃতীয়ত, সন্তান কাদের সাথে মেশে তা খেয়াল রাখতে হবে।
৪) চতুর্থত, সন্তান পড়াশোনার নামে ফাঁকিবাজি করে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার করবে সেটা প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
৫) পঞ্চমত, সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে আনুন যে কোন মূল্যেই। ছেলে/ মেয়ে বড় হয়ে গেছে- এই ফালতু ধারণাটা অশিক্ষিত বাবা-মা’র মধ্যে বেশি দেখা যায়।
অতিরিক্ত শাসন না দেখিয়ে তাদের সাথে শেয়ারিং এ যেয়ে, তাদের অনুভূতিটা বুঝুন, মূল্য দিন তাদের চিন্তাভাবনাকে, মোটিভেট করুন এবং তার কন্ট্রোল আপনার হাতে নিয়ে আসুন। সে নিশ্চয় আপনাকে অবলম্বন ভেবেই জড়িয়ে ধরবে।
৬) এরপর, একটা মারাত্মক দিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে। আর তা হলো অসৎ চরিত্রের পারিবারিক সদস্য/ আত্মীয় স্বজনের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। এদের কাছে মেয়ে বাচ্চা/ উঠতি বয়সী মেয়ে/ মহিলারা একা যাবেন না। তাদের নোংরামির কোন আভাস বা দৃষ্টান্ত পাওয়ার সাথে সাথেই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন।
৭) খুব কাছের আত্মীয় যেমন: মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুপাতো ভাই/বোনদের সাথে মধুর সম্পর্কে গড়ে উঠে সন্তানদের শৈশব-এ কথা সত্য। কিন্তু বর্তমানের তথাকথিত আধুনিকতায় কাজিনদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক বিরাজ করছে তা লক্ষ রাখা অভিভাবকদের কর্তব্য।অনেকক্ষেত্রেই কাজিনদের হাতে আমাদের বেশিরভাগ মেয়েরা জীবনে প্রথম যৌন হয়রানির শিকার হয়-যা শুনতে তিক্ত হলেও বাস্তব। এক্ষেত্রে তাদের বড় হয়ে উঠার সাথে সাথে সম্পর্কের স্বচ্ছতা বজায় রেখে যেন সুস্থ মানসিকতায় তারা বড় হতে পারে তার শিক্ষা তাদের দেওয়া জরুরী।
৮)পোশাকে শালীনতা বজায় চলতে হবে। একজন নারী প্লিজ ভুলে যাবেন না যে, আপনি শারীরিক গঠনে একজন নারী। তাই পুরুষের মতো বেশভূষা ধারণ, চালচলন না দেখিয়ে আপনার স্বকীয়তায় বলিষ্ঠ ভাবে অবস্থান করুন। সেটাই আপনার স্মার্টনেস, ওটাই আপনার মর্যাদা।
৯) তারপর, কারো বাইরের সুন্দর লেবাস, অতিরিক্ত ধর্মীয় কথা মুখে বলে এমন বাকপটু লোকজন থেকে সাবধান থাকুন। প্রকৃত ধার্মিক পুরুষের চেখের দৃষ্টি দেখলেই চেনা যায়। ওটা আমার চেয়ে আমাদের মেয়েরাই ভালো বুঝেন। তাই কারো সংস্পর্শে কোন কারনে যেতে হলে সবকিছু মাথায় রাখবেন।
১০)পার্কে বা নির্জন বাসায় শরীর দান করে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করা মানুষেরা এটাই বুঝছে না যে তারা বিপজ্জনক পরিবেশে নিজেদের সঁপে দিচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডকে পুঁজি করে কোন একটি চক্র এ্যাডভান্টেজ নিতে পারে এবং মেয়েটি হতে পারে ধর্ষণের শিকার।
(এই শেষের কারনটাতে ম্যক্সিমাম সময়ে ধর্ষণের প্রতি মানুষের সিমপ্যাথি আসেনা।)
১১) মিডিয়া ওয়ালাদের দেহ ব্যবসা ছাড়তে হবে। যেমনঃ
ক) কনডম মানুষ কী করে তা টেলিকাস্ট করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। ব্র্যান্ডের নাম প্রচার করে ক্ষান্ত দিলেই হবে।
খ) দেহপ্রদর্শন কেন্দ্রিক দৃশ্য বা প্লট বাদ দিয়ে কিছু ক্রিয়েটিভ ও সমাজ পুনর্গঠনে সহায়ক এমন স্ক্রীপ্ট গ্রহন করতে হবে।
১২) ইন্টারনেট দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে থেকে যুব সমাজকে ক্রীড়াঙ্গনে ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনতে হবে।এই ক্ষেত্রগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এখন একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি – আমাদের সমাজে তথাকথিত আধুনিক প্রগতিশীল নামধারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই সমস্যার পর সমাজ উল্টা পথে চলে যায়।
যেমন দেখবেন,”পোশাক ধর্ষণের কারন নয়” বলে একটা দল চেষ্টায় আছে অশালীনতাকে জিইয়ে পরিপুষ্টভাবে লালান পালন করার জন্য। আবার আরেকটা দল আছে যারা ধর্ষকের শাস্তি চাইতে চাইতে সব পুরুষকেই ধর্ষক বানিয়ে দিতে চাচ্ছে।
আসলে এই দুইটা মাধ্যমেই ধর্ষণের সমাধান না খুঁজে নারীর নিরাপত্তা আদায়ের নামে সার্বিকভাবে পুরুষদের হ্যানস্তা করার স্থায়ী চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টা যেদিন সফল হবে সেদিন দেখবেন পুরুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে আপনার-আমার মতো পুরুষরা বুকে ব্যানার ধরে রাস্তায় রাস্তায় মানব বন্ধন করছে।
তাই অকাজের দিকে না যেয়ে ধর্ষকদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক এমনকি জনসম্মুখে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সোচ্চার হতে হবে এবং একই সাথে নারীর অশালীনতাকেও নিরুৎসাহিত করতে হবে। তা নাহলে ঘরে ঘরে তসলিমা নাসরিনরা দাঁড়িয়ে প্রস্বাব করার দাবীতেও সোচ্চার হবে।
সোজাকথা, অন্যায়কারীর শাস্তি হোক এবং অন্যায় সংঘটনে উৎসাহিত করে এমন প্রভাবকগুলোও সমাজ থেকে দূর হোক- এটাই একমাত্র স্থায়ী ও টেকসই সমাধান।
তবে সমাজের সাধারণ মানুষরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে একমত হয়ে একযোগে রুখে না দাঁড়ালে একটা খারাপ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর শুধু প্রোফাইল পিকচার কালো করা ছাড়া আর কিছুই আমাদের দ্বারা হবে না।
সভ্যতার উপকরণ গুলো (ইন্টারনেট, মুঠোফোন, কম্পিউটার……..) হলো ফুলের মতো। একটা ফুল থেকে মৌমাছি নেয় মধু আর মাকড়সা নেয় বিষ।
তেমনি আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে আপনি সফ্টওয়ার তৈরী শিখবেন অর্থাৎ মধু নিবেন নাকি খারাপে আসক্ত হবেন অর্থাৎ বিষ খাবেন তা বিবেচনার জন্য স্রষ্টা আপনাকে বিবেক দিয়েছেন, নির্দেশনাগুলো আপনার ধর্মীয় কিতাবেও তিনি বিস্তারিত বলেছেন।
অথচ সন্তানের জীবন গড়ার প্রয়োজনীয় সব উপকরণের বিষয়ে তোয়াক্কা না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আপনি বঞ্ছিত করে চলেছেন।এবার একটু দাঁড়ান। এ দাঁড়ানো সাধারণ নয়, এটা ঘুরে দাঁড়ানো। নষ্ট এ সভ্যতায় দুর্গন্ধ স্রোতস্বিনীর প্রবহমান স্রোতের প্রতিকূলে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কিছু মানুষ এখন আমাদের প্রয়োজন। যাদের হাতে শুরু হবে সুস্থ সভ্যতার পরিশুদ্ধ ধারার প্রবাহ। আপনি শুরু করলেই শুরু হয়ে যাবে সেই ধারার কাঙ্ক্ষিত সেই প্রবাহ। সে প্রবাহে ধুয়ে যাবে কুমন্ত্রণার বর্জ্য, ভেসে যাবে সামাজিক সব অবক্ষয়।

লেখক

শাঈন মাহমুদ
প্রভাষক
ইংরেজি বিভাগ
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ


প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২২ | সময়: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ | সুমন শেখ