Daily Sunshine

শোভা ছড়াচ্ছে ‘রক্তকাঞ্চন’

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : সব ফুলই শোভা ছড়ায়। সুগন্ধ ঢেলে দেয় প্রকৃতিতে। সেই ফুলে বিমোহিত হয় ভ্রমর। আর মানুষের কাছে তো ফুল ভালোবাসার নিদর্শন। ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া ভার।

প্রকৃতিতে হাজারো প্রজাতির ফুলের মধ্যে নীরবে সৌন্দয্য বিলায় রক্তকাঞ্চন। এক সময় গ্রাম বাংলার ফুল প্রেমী মানুষের কাছে রক্তকাঞ্চন ফুলের নামটি সু-পরিচিত থাকলেও এখন অনেকটায় অদৃশ্য। সহজে দেখা মিলে না। বন-জঙ্গল বা রাস্তার পাশে এ ফুল শোভা ছড়াতো এক সময়। তার রঙের ছটায় ফুলপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এ রক্তকাঞ্চন ফুলটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। এলাকায় এ রক্তকাঞ্চন ফুলটি এখন আর তেমন চোখেই পড়েনা।

রক্তকাঞ্চন ফুল শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতেই বেশি ফোটে। তার বিলাসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় অনেকেই। এমনই রক্তকাঞ্চনের রূপ ধরা পড়েছে দৈনিক সানশাইনের ক্যামেরায়। রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার কিছু স্থান এবং রাজশাহী কলেজ প্রঙ্গনে এখন রঙ ছড়াচ্ছে পাঁপড়ি মেলা রক্তকাঞ্চন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঞ্চনের কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। তবে তার মধ্যে রক্তকাঞ্চনই সেরা। রক্তকাঞ্চন গাছ ছোট বা মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। তবে মাঝে মধ্যে বড় আকৃতির গাছও চোখে পড়ে। এর শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত এবং ছড়ানো। শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায়। আর ফুল ফোটার সময়টাতে গাছ থাকে পত্রশূন্য এবং এ সময়ে রক্তিম ফুলে ফুলে ভরে যায় গাছ। রাজশাহী কলেজের প্রাঙ্গনেও এখন দেখা যায় এ ফুলের।

ফুটন্ত গাছ অত্যন্ত নজর কাড়া। ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে নমনীয় কোমল চার বা পাঁচটি পাপড়ি থাকে, এর মাঝে একটি পাপড়ি ব্যতিক্রম গাঢ় বেগুনি রঙের। ফুলের মাঝে কাস্তের মতো বাঁকা পরাগ অবস্থিত। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফোটতে দেখা যায়।

শীতের শেষ দিকে ফোটা শুরু হয়ে গ্রীষ্মকাল অবধি সময় ধরে ফুটতে থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। বসন্তের মাঝা-মাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়।

পাতা সবুজ, শিরা উপশিরা স্পষ্ট। এর পাতার অন্যরকম বৈশিষ্ট একই বোঁটার পাতা মাঝে দু’ভাগে বিভক্ত থাকে। আবার দুটি পাতা জোড়া দিলে একটি অন্যটির সাথে সমানে সমান। ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফলে বীজ হয়। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপ্টা, রঙ প্রথমে সবুজ ও পরিপক্কতা এলে কালচে রঙ ধারণ করে এবং শুকিয়ে গিয়ে এক সময়ে আপনা আপনিই ফেটে গিয়ে বীজ গুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে রক্তকাঞ্চনের রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণাগুণ। উঁচু ভূমি, রৌদ্র উজ্জল পরিবেশ থেকে হাল্কাছাঁয়া যুক্ত স্থান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুল গাছ জন্মে। এক সময় বসত বাড়ীতে বা বাগানে, বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের আইল্যান্ড, বন-জঙ্গল ও এলাকায় এ রক্তকাঞ্চন ফুল চোখে পড়তো। এখন আর এ ফুল গাছ চোখে পড়েনা। তবে আবার এ ফুল হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। রক্তকাঞ্চনের রক্তিম শোভায় মুগ্ধ এখন মানুষের পাশাপাশি ফুলপ্রেমিরা।

সানশাইন/২৭ ফেব্রুয়ারি/ রোজি

ফেব্রুয়ারি ২৭
১৩:২২ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

সুস্থ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাজেটে উচ্চহারে তামাকের করারোপ জরুরি

সুস্থ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাজেটে উচ্চহারে তামাকের করারোপ জরুরি

শরীফ সুমন : দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ৩১ মে নতুন নতুন প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক ব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরে এটি সেবন থেকে বিরত থাকতে প্রতিবছর আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এই আহ্বানে কয়জন তামাকসেবীই বা সাড়া দেয়? দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

বিআইডব্লিউটিএ’কে পিপিই ও মাস্ক দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

বিআইডব্লিউটিএ’কে পিপিই ও মাস্ক দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাকালে দুর্গতদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত বসুন্ধরা গ্রুপ করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় এবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-কে পিপিই এবং মাস্ক হস্তান্তর করেছে। বুধবার (২০ মে) মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের

বিস্তারিত